0_গুরুত্বপূর্ণ দোয়াসমূহ

গুরুত্বপূর্ণ দোয়াসমূহ

                                         আযান সংক্রান্ত

§  আযান এর জবাবঃ

মুয়াজ্জিন যখন বলবে

আপনি তখন বলবেন

আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার

আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার

আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ

আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ

আশহাদু আন্না মুহাম্মাদুর রাসূলাল্লাহ

আশহাদু আন্না মুহাম্মাদুর রাসূলাল্লাহ

আশহাদু আন্না মুহাম্মাদুর রাসূলাল্লাহ

১। আশহাদু আন্না মুহাম্মাদুর রাসূলাল্লাহ

২। ওয়ানা আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান

আবদুহু ওয়া রাসূলুহু

হাইয়্যা আলাস সালাহ

লা হাওলা ওয়ালা কুয়্যাতা ইল্লাহ বিল্লাহ

হাইয়্যা আলাল ফালাহ

লা হাওলা ওয়ালা কুয়্যাতা ইল্লাহ বিল্লাহ

ফজরের আযানেঃ

আস সালাতু খাইরুম মিনান নাউম

আস সালাতু খাইরুম মিনান নাউম

আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার

আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার

লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ

লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ

এরপরঃ

১। দরূদে ইব্রাহীম 

 

২। আল্লা-হুম্মা রাব্বা হা-জিহিদ দাওয়াতিত তা-ম্মাতি ওয়াস সালা-তিল কায়িমাতি  আ-তি মুহাম্মাদালিল ওয়াসীলা ওয়াল ফাদীলাত ওয়াদ্দা রাজাতার রাফী-আত  ওয়াব আসহু মাকা-মাম মাহমূদানিল্লাযী ওয়া আদতাহ। 

হে আল্লাহ! এই পরিপূর্ণ আহ্বান এবং প্রতিষ্ঠিত সালাতের তুমিই প্রভু! মুহাম্মদ (স.)-কে অসিলা তথা জান্নাতের একটি স্তর এবং ফজিলত তথা সকল সৃষ্টির উপর অতিরিক্ত মর্যাদা দান করুন। আর তাঁকে মাকামে মাহমূদে (প্রশংসিত স্থানে) পৌঁছে দিন, যার প্রতিশ্রুতি আপনি তাঁকে দিয়েছেন। (বুখারি: ১/২৫২, নং ৬১৪; বুখারি:১/২২২, নং: ৫৮৯)

 

৩। রাসূল () বলেছেন, “মুয়াজ্জিনের আযান শুনে যে-ব্যক্তি বলে, ‘আশহাদু আল্লা-ই-লা-হা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু, লা শারিকা লাহু, ওয়া আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রাসুলুহু। রাযীতু বিল্লা-হি রব্বান ওয়াবি মুহাম্মাদিন (সা:) রাসুলান, ওয়াবিল ইসলামী দীনান।’ তার গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে।” (সহীহ মুসলিম, হা. ৭৩৫, ৭৫০)

 

৪। হাত তুলে অথবা মনে মনে আল্লাহর কাছে যা খুশি, যত খুশি চাইতে থাকুন। আল্লাহর কাছে চাওয়ার এই সময় আযানের পর থেকে মসজিদে ফরজ সালাতের ইকামতের আগ পর্যন্ত বহাল থাকবে। আযানের পর থেকে ইকামতের আগ পর্যন্ত দোয়া কবুলের অন্যতম উপযুক্ত সময়।

ওযু সংক্রান্ত

§  প্রত্যেক ওযুর পর ৩ টি দোয়া পড়বেনঃ

১। কালেমা শাহাদতঃ আশহাদু আল্লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা-শারীকা লাহূ ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহূ ওয়া রাসূলুহূ

ফজিলতঃ

এতে জান্নাতের ৮টি দরজার যে কোন দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে পারবেন।

 

২। আল্লাহুমা আলনী মিনাজ তাওয়াবীন ওয়া আলনী মিনাজ মুতা তাহ-হিরীন।

-          হে আল্লাহ! আমাকে তওবাকারীদের অন্তর্ভুক্ত করুন এবং আমাকে পরিচ্ছনতাপ্রিয় করে দিন।

 

৩। সুবহানাকা আল্লা-হুম্মা ওয়া বিহামদিকা, আশ-হাদু আল্লা-ইলাহা ইল্লা আন্তা আস্তাগফিরুকা, ওয়া আতুবু ইলাইকা।

(হে আল্লাহ! আপনার প্রশংসাসহ পবিত্রতা ঘোষণা করছি, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনি ছাড়া কোনো হক ইলাহ নাই, আমি পাওনার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং আপনার নিকট তওবা করছি।)  

ফজিলতঃ

রাসূল (সাঃ) বলেছেন, যে ব্যক্তি ওযু করার পর এই দোয়াটি পড়বে তার জন্য একটি ক্ষমাপত্র সাদা পাতায়/পাতলা চামড়ায় লিপিবদ্ধ করা হয়। অতঃপর তার উপর মোহর মারা হয়। কিয়ামতের দিন পর্যন্ত সে মোহর অক্ষত অবস্থায় (ক্ষমার হুকুম বহাল) রাখা হবে। (সিলসিলাহ সহিহাহ ২৩৩৩)

 

সলাত সংক্রান্ত

§  হাত তুলে তাকবির বলার পরঃ

১। আউজুবিল্লাহী মিনাশ শায়তানির রাজীম।

সুবহানাকা আল্লাহুম্মা ওয়া বিহামদিকা, ওয়া তাবারা কাসমুকা ওয়া তা’আলা জাদ্দুকা, ওয়া লা ইলাহা গায়রুক।

হে আল্লাহ! আপনার প্রশংসাসহ আপনার পবিত্রতা ঘোষণা করছি, আপনার নাম বরকতময়, আপনার মর্যাদা অতি উঁচুতে, আর আপনি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই।

 

২। আল্লাহুম্মা বাঈদ বাইনি ওয়া বাইনা খাতাইয়্যা কামা বা’আদতা বাইনাল মাশরিকি ওয়াল মাগরিব, আল্লাহুম্মা নাক্কিনি মিন খাতাইয়্যা, কামা ইউনাক্কাস সাওবুল আব-ইয়াদু মিনাদ্দানাছ, আল্লাহুম্মাগসিলনি মিন খাতায়ায়া বিস-ছালজি ওয়াল মা-ই ওয়াল বারাদ।

হে আল্লাহ! আপনি আমার এবং আমার পাপগুলোর মধ্যে এমন দূরত্ব করে দিন, যেমন দূরত্ব আপনি পূর্ব ও পশ্চিমের মধ্যে করেছেন। হে আল্লাহ! আপনি আমাকে আমার পাপ থেকে এমনভাবে পরিষ্কার করে দিন, যেভাবে সাদা কাপড় ময়লা থেকে পরিষ্কার করা হয়। হে আল্লাহ! আপনি আমার পাপগুলোকে বরফ, পানি ও শিলা দিয়ে ধুয়ে পরিষ্কার করে দিন।" (সহিহ বুখারি: ৭৪৪, সহিহ মুসলিম: ৫৯৮)

 

৩। আল্লাহু আকবর কাবীরা ওয়াল হামদুলিল্লাহি কাছীরা ওয়া সুবহানাল্লাহী ওয়া বুকরাতাউ ওয়াছিলা।

 

৪। বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম।

এরপর সুরা ফাতেহা থেকে পরা শুরু করতে হবে।

 

§  রুকুর দোয়াঃ

সুবহানা-যিল জাবারুতি ওয়াল মালাকুতি ওয়াল কিবরিয়া’ই ওয়াল আজমাতি

ক্ষমতা, রাজ্য, বড়ত্ব, মহত্ব ও বিরাটত্বের মালিকের পবিত্রতা ঘোষণা করছি। (মিশকাতুল মাসাবিহ-৮৮২)

§  রুকু থেকে মাথা উঠিয়ে

সামি আল্লাহু লিমান হামিদাহ

বলার পর

রাব্বানা ওয়া লাকাল হামদ, হামদান কাছিরান ত্বায়্যিবান মুবারাকান ফিহ্

ফজিলতঃ

এটি বললে আল্লাহপাক ৩০ জন ফেরেশতা দ্বারা সওয়াব লেখার প্রতিযোগিতা করান। 

§  দুই সিজদার মাঝে:

আল্লাহুম্মাগফিরলী, ওয়ারহামনি, ওয়াহদিনী, ওয়াজবুরনি, ওয়া আফিনি, ওয়া রযুকনি, ওয়ারফানী।

হে আল্লাহ! আপনি আমাকে ক্ষমা করুন, আমার প্রতি রহম করুন, আমাকে সঠিক পথে পরিচালিত করুন, আমার সমস্ত ক্ষয়-ক্ষতি পূরণ করে দিন, আমাকে নিরাপত্তা দান করুন, আমাকে রিজিক দান করুন এবং আমার মর্যাদা বৃদ্ধি করুন। (তিরমিজি, হাদিস: ২৮৪)

§  নামাজের শেষ বৈঠকে তাশাহুদ শেষ করেঃ

আল্লাহুম্মা ইন্নী আউযুবিকা মিন আযাবি জাহান্নাম, ওয়া মিন আযাবিল কাবর, ওয়া মিন ফিতনাতিল মাহ’ইয়া ওয়াল মামা ওয়া মিন শাররি ফিতনাতিল মাসীহিদ দাজ্জাল। 

হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই – জাহান্নামের আযাব থেকে, কবরের আযাব থেকে, জাগতিক জীবনের ও মৃত্যুর ফিতনা (পরীক্ষা ও বিপদ) থেকে এবং দাজ্জালের অমঙ্গল থেকে। (সহীহ মুসলিম-৫৮৮)

§  দোয়ায়ে মাসূরা: (নামাযের শেষ বৈঠকে তাশাহুদ এবং দরূদ এর পর এই দোয়া পড়ে সালাম ফেরাতে হয়)

আল্লাহুম্মা ইন্নি জলামতু নাফসি জুলমান কাছিরাও ওয়ালা ইয়াগফিরুজ জুনুবা ইল্লা আনতা ফাগফিরলি মাগফিরাতাম মিন ইনদিক ওয়ারহামনি ইন্নাকা আনতাল গাফুরুর রাহিম

হে আল্লাহ্! আমি নিজের উপর অনেক জুলুম করেছি। আপনি ছাড়া সে অপরাধ ক্ষমা করার আর কেউ নেই। আপনার পক্ষ থেকে আমাকে তা ক্ষমা করে দিন এবং আমার উপর রহমত বর্ষণ করুন। নিশ্চয়ই আপনি ক্ষমাশীল ও দয়াবান।

§  মোনাজাতে: রাব্বানা আ-তিনা ফিদ্দুনিয়া হাসানা ওয়াফিল আখিরাতি হাসনা ওয়া কিনা আজাবান নার। (সুরা বাকারা-২০১) রাব্বানা জালামনা আনফুসানা ওয়া ইল্লাম তাগফিরলানা ওয়া তার-হামনা লানা কুনান্না মিনাল খসেরীন। (সুরা আরাফ-২৩) রব্বানা তাকাববাল মিন্না ইন্নাকা আন্তাস সামিউল আলিম। ওয়াতুব আলায়না ইন্নাকা আনতাত্ তাওয়া-বুর রহিম। (আল বাক্বারাহ: ১২৭-১২৮) রাব্বী, ইন্নী জালামতু নাফছী ফাগফিরলী। (সূরা কাসাসঃ ২৮:১৬)

আমাদের প্রভু, আমাদের দুনিয়াতে যা কল্যাণকর, পরকালে যা কল্যাণকর তা দান করুন, আমাদের আগুনের আজাব থেকে রক্ষা করুন। (বাকারা-২০১) হে আল্লাহ! আমি আমরা নিজেদের ওপর অবিচার করেছি। আপনি যদি ক্ষমা ও দয়া না করেন, তবে আমরা ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হব। (আরাফ- ২৩) হে আমাদের রব! আপনি আমাদের পক্ষ হতে এটি কবুল করুন। নিশ্চয় আপনি সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞ। আমাদের ক্ষমা করুন। নিশ্চয় আপনি অধিক তওবা কবুলকারী ও দয়াময়। (আল বাক্বারাহঃ ১২৭-১২৮) হে আমার রব, নিশ্চয় আমি আমার নফসের প্রতি যুলুম করেছি, সুতরাং আপনি আমাকে ক্ষমা করে দিন। (কাসাসঃ ২৮:১৬)

 

জান্নাত লাভের দোয়া

§  ৩ বার আল্লাহুম্মা ইন্নী আস আলুকাল জান্নাহ

ফজিলতঃ

রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, যে ব্যক্তি এরূপ পড়বে, জান্নাত নিজেই বলবে, হে আল্লাহ! এই ব্যক্তিকে জান্নাতে ঢুকতে দিন।

 

সর্বশ্রেষ্ঠ যিকির আর সর্বশ্রেষ্ঠ দোয়া

§  সর্বশ্রেষ্ঠ যিকির লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ আর সর্বশ্রেষ্ঠ দোয়া আল হামদুলিল্লাহ  

 

সর্বশ্রেষ্ঠ যিকির-২

আল হামদুলিল্লাহী আদাদা মা খালাক, আল হামদুলিল্লাহী মিল’আ মা খালাক, আল হামদুলিল্লাহী আদাদা মা’ফিল আরদি ওয়াস সামা, আল হামদুলিল্লাহী মিল’আ মা’ফিল আরদি ওয়াস সামা, আল হামদুলিল্লাহী আদাদা মা আহসা কিতাবুহু, আল হামদুলিল্লাহী মিল’আ মা আহসা কিতাবুহু, আল হামদুলিল্লাহী আদাদা কুল্লি শাইয়্যীন, আল হামদুলিল্লাহী মিল’আ কুল্লি শাইয়্যীন, ওয়া সুবহানাল্লাহী মিছলাহুন।

Praise be to Allah who to the amount of what He created, Praise be to Allah to the quantity that fills what He created, Praise be to Allah to the amount of what is in the earth and the heavens, Praise be to Allah to the quantity of what fills the earth and heavens, Praise be to Allah to the amount of what is enumerated in His book, Praise be to Allah to what fills in His book, Praise be to Allah to the amount of everything, Praise be to Allah to that which fills everything, and Glory to Allah, the like of it.

ফজিলতঃ

এই যিকিরটি সারাদিন আল্লাহকে স্মরণ করা ও সারা রাত জেগে আল্লাহকে স্মরণ করার চেয়েও শ্রেয়।

 

রিজিক বৃদ্ধির দোয়া

(প্রতিদিন ১০০ বার) লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু আল মালিকুল হাক্কুল মুবিন, মুহাম্মাদুর রাসুলাল্লাহ আস সাদিকুল ওয়াদিল আমিন।

ফজিলতঃ বৃষ্টির ফোটার মত রিজিক বর্ষিত হয়।  

 

বাজারে প্রবেশ করে পড়ার দোয়া

লা ইলা-হা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু, ইউহী ওয়াই উমিতু, ওয়া হুয়া হাইয়্যু লা ইয়ামুত, বিয়াদিহিল খাইরু, ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইয়্যিন কাদীর।

আল্লাহ তায়ালা ছাড়া কোনো মাবুদ নেই, তিনি এক, তার কোনো অংশীদার নেই, সকল ক্ষমতা তারই, সমস্ত প্রশংসা তার জন্য, তিনিই জীবন ও মৃত্যু দেন, তিনি চিরঞ্জীব, কখনও মৃত্যুবরণ করবেন না, তার হাতেই মংগল এবং তিনিই সবসময় সকল কিছুর উপর ক্ষমতার অধিকারি। (তিরমিজিঃ ৩৪২৮-৩৮২৯)

ফজিলতঃ

-          ১০ লক্ষ পুণ্য হবে

-          ১০ লক্ষ পাপ মোচন হবে

-          ১০ লক্ষ মর্যাদা বৃদ্ধি হবে

-          জান্নাতে ১টি ঘর নির্মাণ করা হবে।

 

দুঃশ্চিন্তাগ্রস্থ হলে কিংবা পেরেশানিতে পড়লে রাসূল (সাঃ) যে দোয়া পড়তেন

§  ইয়া হাইয়্যু, ইয়া কাইয়্যুম, বিরাহমাতিকা আস্তাগিছ।

হে চিরঞ্জীব! হে চিরস্থায়ী! আমি আপনার রহমত প্রার্থনা করছি। (মিশকাতঃ ২৪৫৪)

§  আল্লাহুম্মা রাহমাতাকা আরজু ফালা তাকিলনি ইলা নাফসী তারফাতা আইনিন আশলীহ লি শানি কুল্লাহ, লা ইলাহা ইল্লা আন্তা।

হে আল্লাহ! আমি আপনার রহমত চাই। আমাকে এক পলকের জন্যেও আমার নফসের কাছে কখনও ছেড়ে দিবেন না। আমার সকল কাজকে সহজ করে দিন। আপনি ছাড়া আর কোনও মাবুদ নেই।

ফজিলতঃ

-          এটি খুবই শক্তিশালী দোয়া।

-          যেকোন পেরেশানি, বিপদ-আপদে এটি পড়া যেতে পারে।

-          মাঝরাতে/শেষ রাতে ঘুম থেকে উঠে পড়া যেতে পারে।

-          আল্লাহ দ্রুত সাড়া দিবেন, ইনশাআল্লাহ।

 

§  লা ইলাহা ইল্লাহু আল আজীমুল হালিম, লা ইলাহা ইল্লাহু রাব্বুল আরশীল আজীম, লা ইলাহা ইল্লাহু রাব্বুস সামাওয়াতি ওয়া রাব্বুল আরদ, ওয়া রাব্বুল আরশীল কারীম। [সহীহ বুখারীঃ ২৭৩০]

 

§  আল্লাহুম্মা আজিরনী ফি মুসিবাতি ওয়া আখলিফ লি খাইরাম মিনহা।

 

§  দুনিয়া ও আখিরাতের সকল পেরেশানী হতে বাচার দোয়া

হাসবি আল্লাহু লা-ইলাহা ইল্লাহু আলাইহি তাওয়াক্কালতু ওয়াহুয়া রাব্বুল আরশিল আজিম।

আল্লাহই আমার জন্য যথেষ্ট, তিনি ব্যতীত আর কারো বন্দেগী নেই। আমি তাঁরই ভরসা করি এবং তিনিই মহান আরশের অধিপতি। (সুরা তাওবা: ১২৯)

 

§  মুছিবতের সময় পড়ার দোয়াঃ হাসবুনাল্লাহু ওয়ানি’মাল ওয়াকীল, নি’মাল মাওলা ওয়া নি’মান নাছীর। (সুরা আল ইমরান: ১৭৩ এবং সুরা আনফাল: ৪০; সুরা হজ: ৭৮)

আল্লাহ তাআলাই আমাদের জন্য যথেষ্ট, তিনিই হলেন উত্তম কর্মবিধায়ক; আল্লাহ তাআলাই হচ্ছে উত্তম অভিভাবক এবং উত্তম সাহায্যকারী।

 

§  কিয়ামতের বর্ণনা শুনে সাহাবারা ভীত হলে রাসুল (সা.) পড়তে বলেন -

হাসবুনাল্লাহু ওয়া নিমাল ওয়াকিল— আলাল্লাহি তাওয়াক্কালনা। (তিরমিজি: ২৪৩১)

মহান আল্লাহই আমাদের জন্য যথেষ্ট, তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধানকারী। আমরা আল্লাহর ওপর ভরসা করলাম।

 

দুনিয়ার কল্যান লাভের দোয়া

সুবহানাল্লাহি ওয়াল হামদুলিল্লাহি ওয়া লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার।

 

ভাগ্য পরিবর্তনের দোয়া

§  আল্লাহুম্মা ইন্নী আস’আলুকা মিন ফাজা’আতিল খাইর।

§  রাব্বি ইন্নী লিমা আনযালতা ইলাইয়্যা মিন খইরিন ফাকির।

ফজিলতঃ

(এই দোয়া পড়ার পর হযরত মূসা (আঃ) এর ভাগ্য পরিবর্তিত হয়)

 

সমুদ্রের ফেনারাশির সমান পাপ মোচনের দোয়া

১। ১০০ বার সুব্‌হানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি।

আল্লাহ তা'আলার সপ্রশংস পবিত্রতা বর্ণনা করছি।

ফজিলত:

-          এটি ফেরেশতাদের তাসবীহ।

-          রাসুল সা. বলেন, যে ব্যক্তি দৈনিক ১০০ বার তাসবিহটি পাঠ করবে তাঁর পাপগুলো মুছে ফেলা হবে, যদিও তা সমুদ্রের ফেনারাশির সমান হয়ে থাকে। (বুখারি, হাদিস: ৬৪০৫)

-          এ তাসবীহ পাঠে এত অধিক নেকী লাভ হয় যে, হাশর ময়দানে কেউ তারমত নেকী হাজির করতে পারবে না - যে ব্যক্তি তার সমান ও তাসবীহ পড়েছে, সে ছাড়া।

 

২। আস্তাগফিরুল্লা-হাল্লাযী লা-ইলাহা ইল্লা হুওয়াল হাইয়্যুল কাইয়্যুম ওয়া আতুবু ইলাইহি।

 

৩। (প্রত্যহ দিনে বা রাতে অথবা সপ্তাহে কিংবা মাসে অন্তত ১ বার) 

লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার, লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা-শারীকালাহু, লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু, লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়ালা-হাওলা ওয়ালা কুওয়্যাতা ইল্লাবিল্লাহ।

ফজিলতঃ

এই দোয়ায় আল্লাহ পাক বান্দার গুনাহ ক্ষমা করে দেন

 

৪। সুবহানাল্লাহ – আলহামদুলিল্লাহ - লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু - ওয়াল্লাহু আকবার

ফজিলতঃ

গুনাহ গাছের পাতার মতো ঝরে যায়।

 

৫। প্রতিদিন যে দোয়া পড়লে কবিরা গুণাহ মাফ হয়ে যায় –

আলহামদুলিল্লা-হিল্লাযি কাসানি হাযা ও রাযাকা নিয়াহু মিন গাইরি হাওলিন মিন্নি ওয়ালা কুওয়্যাতিন।

এ ছাড়াও নিয়মিত জুমা আদায় করা, সদকা করা, রোগ- শোক ও বিপদে ধৈর্য ধারণ করা, পায়ে হেঁটে মসজিদে যাওয়া, অন্যের অপরাধ ক্ষমা করে দেওয়া ইত্যাদি আমলের বিনিময়ে অতীতের সকল কবিরা গুনাহ ক্ষমা হয়।

 

গুণাহ গোপন রাখার জন্য দোয়া

১। আল্লাহুম্মাস তুরনা ফাউকাল আরদ, ওয়া তাহতাল আরদ, ওয়া ইয়াউমাল আরদি আলাইক।

হে আল্লাহ!  আমার গুণাহগুলিকে আপনি গোপন রাখুন যতদিন আমি দুনিয়ার উপর বেচে থাকব, আর যখন আমি দুনিয়া হতে বিদায় হয়ে যাব তখনও আমার গুণাহগুলি আপনি গোপণ রাখুন।

 

২। আল্লাহুম্মাগ ফিরলি জামবি কুল্লাহু; দিক্কাহু ওয়া ঝিল্লাহু ওয়া আউয়ালাহু ওয়া আখিরাহু ওয়া আলা-নিয়্যাতাহু ওয়া সিররাহু।

হে আল্লাহ, আপনি ক্ষমা করুন আমার সকল পাপ, ছোট পাপ, বড় পাপ, প্রথম পাপ, শেষ পাপ, প্রকাশ্য পাপ, গোপন পাপ। (মুসলিমঃ ৪৮৩)

ফজিলতঃ

-          রাসূল (সাঃ) সিজদায় এই দোয়াটি পড়তেন।

 

৩। اَللّٰهُمَّ اغْفِرْ لِىْ مَا قَدَّمْتُ وَمَاۤ اَخَّرْتُ وَمَاۤ اَسْرَرْتُ وَمَاۤ اَعْلَنْتُ وَمَاۤ اَسْرَفْتُ وَمَاۤ اَنْتَ اَعْلَمُ بِهٖ مِنِّىْۤ اَنْتَ الْمُقَدِّمُ وَاَنْتَ الْمُؤَخِّرُ لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا اَنْتَ

আল্লা-হুম্মাগফিরলী মা- কদ্দামতু, ওয়ামা- আখখারতু, ওয়ামা- আসরারতু, ওয়া মা- আ‘লানতু, ওয়ামা- আসরাফতু, ওয়ামা- আনতা আ‘লামু বিহী মিন্নী। আনতাল মুকাদ্দিমু, ওয়া আনতাল মুআখ্খিরু, লা- ইলা-হা ইল্লা- আনতা।

হে আল্লাহ, আপনি আমার জন্য ক্ষমা করুন আমি আগে যা করেছি এবং পরে যা করেছি, গোপনে যা করেছি এবং প্রকাশ্যে যা করেছি এবং বাড়াবাড়ি করে যা করেছি এবং যা আপনি আমার চেয়েও বেশি জানেন। আপনিই অগ্রবর্তী করেন, আপনিই পিছিয়ে দেন। আপনি ছাড়া কোনো মা’বুদ নেই।

আলী (রা) বলেন:

 “রাসূলুল্লাহ (স) তাশাহুদের পরে সালামের আগে, দ্বিতীয় বর্ণনায়: সালাত শেষে সালামের পর এ কথাগুলো বলতেন।” দুটি বর্ণনাই সহীহ। সম্ভবত তিনি কখনো সালামের আগে ও কখনো পরে এ দু‘আটি পড়তেন।

দলিলঃ

[১] মুসলিম (৬-কিতাব সালাতিল মুসাফিরীন,২৬-বাবুদ্দুআ...) ১/৫৩৪-৫৩৫ (ভা ১/২৬৩); আবু দাঊদ (কিতাবুস সালাত, বাব মা ইউসতাফতাহু...) ১/১৯৯, নং ৭৬০ (ভা ১/১১১) সহীহ ইবনু খুযাইমা ১/৩৬৬, সহীহ ইবনু হিব্বান ৫/৩৭২, ইবনুল আসীর, জামিউল উসূল ৪/২২৪; বাইহাকী, আস-সুনানুল কুবরা ২/৩২,১৮৫। আল্লামা আহমদ শাকিরের আলোচনা দেখুন, মুসনাদে আহমাদ (শাকির সম্পাদিত) ২/১০০ও ১৩৪, যাকারিয়্যা, আল-ইখবার পৃ. ৬০; রাহে বেলায়াত - যিকর নং ১০৮

 

দুনিয়া ও আখিরাতের নিরাপত্তার দোয়া (সকাল-সন্ধ্যায় ১বার)

আল্লাহুম্মা ইন্নি আস আলুকাল আফিয়াত ফী দী'নি ওয়া দুনি'য়া ওয়া আহলি ওয়া মালি আল্লাহুম্মাস্তুর আউরাতি। আউরাতি ওয়া আমীন রাউ'আতিল্লাহুম্মাজ ফাজনি মিন বাইনি ইয়া দাইয়্যা ওয়া মিন খালফী ওয়া আন ইয়ামিনি ওয়া আন শিমালি ওয়া মিন ফাউকী ওয়া আ'উজুবি আজামাতিকা আন উগতালা মিন তাতী।

"হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট দুনিয়া ও আখিরাতের নিরাপত্তা চাই। হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট ক্ষমা এবং আমার দীন, দুনিয়া, পরিবার ও সম্পদের নিরাপত্তা চাই। হে আল্লাহ্! আপনি আমার দোষক্রটিগুলাকে ঢেকে রাখুন এবং ভীতিপ্রদ বিষয়সমূহ হতে আমাকে নিরাপদ রাখুন। হে আল্লাহ্! আপনি আমাকে হিফাযাত করুন আমার সম্মুখ হতে, আমার পিছন দিক হতে, আমার ডান দিক হতে, আমার বাম দিক হতে এবং আমার উপর দিক হতে। হে আল্লাহ্! আমি আপনার মর্যাদার ওয়াসিলায় মাটিতে ধ্বসে যাওয়া হতে আপনার কাছে আশ্রয় চাইছি।“ আবু দাউদ: ৫০৭৪ (সহীহ)

 

কিয়ামতের দিন সবচেয়ে বেশি নেকীর অধিকারী হবার দোয়া

§  দৈনিক ১০০ বার

লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহ্দাহূ লা-শারীকালাহূ লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন কাদীর।

ফজিলতঃ

-          ১০ জন দাস মুক্ত করার ছওয়াব পাবে

-          ১০০ নেকী পাবে

-          ১০০ টি গুণাহ মাফ করা হবে

-          সারাদিন শয়তানের ক্ষতি থেকে রক্ষা করা হবে

-          কিয়ামতের দিন সবচেয়ে বেশি নেকীর অধিকারী হবে।

 

মুস্তাজাবুদ দাওয়াহ হওয়ার আমল (যে ব্যক্তির দোয়া কবুল হয়)

§  (যেকোন ১টি)  

o   আল্লাহুম্মাগ-ফিরলী ওয়ালি ওয়ালি দাইয়্যা ওয়ালিল মুমিনীনা ওয়াল মুমিনাত ওয়াল মুসলিমীনা ওয়াল মুসলিমাত আল আহ’ইয়ায়ী মিনহুম ওয়াল আমওয়াত।  

o   রাব্বিগ-ফিরলী ওয়ালিল মুমিনীনা ওয়াল মুমিনাত

o   রাব্বানাগ-ফিরলি ওয়ালি ওয়ালি দাইয়্যা ওয়ালিল মুমিনীনা ইয়াওমা ইয়াকুমুল হিছাব।

 

ফজিলতঃ

-          যে ব্যক্তি মুসলিম পুরুষ ও মুসলিম নারীর জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে, মহান আল্লাহ প্রত্যেক মুসলিম পুরুষ ও মুসলিম নারীর বিপরীতে সে ব্যক্তির আমলনামায় একটি করে সওয়াব লিখে দেন। (তাবারানী ৩/২৩৪)

-          যে ব্যক্তি প্রতিদিন ২৫-২৬ বার সকল মুসলিম নর-নারীর জন্য ইস্তেগফার পাঠ করবে, মহান আল্লাহ তাকে মুস্তাজাবুদ দাওয়াহ (যার সব দোয়া কবুল হয়) বানিয়ে দিবেন।

 

ইস্তেগফার

আস্তাগফিরুল্লা-হাল আযীম, আল্লাযী লা-ইলাহা ইল্লা হুয়াল হাইয়্যুল কাইয়্যুম ওয়া আতুবু ইলাইহী।

 

শারীরিক সুস্থ্যতার জন্য দোয়া

আল্লাহুম্মা আ-ফিনি ফি বাদানি, আল্লাহুম্মা আ-ফিনি ফি সাম-ই, আল্লাহুম্মা আ-ফিনি ফি বাসারি, লা ইলাহা ইল্লা আন্তা।

হে আল্লাহ! আমার দেহ সুস্থ্য রাখুন। হে আল্লাহ! আমাকে আমাকে সুস্থ্য রাখুন আমার শ্রবণ ইন্দ্রিয়ে। হে আল্লাহ! আমাকে সুস্থ্য রাখুন আমার দৃস্টিশক্তিতে। আপনি ছাড়া কোনো উপাস্য নাই। (আবু দাউদ-৫০৯০)

 

অসুখ-বিসুখ ও দরিদ্রতা থেকে মুক্তিলাভের দোয়া

তাওয়াক্কালতু আলাল হায়্যাল্লাজি লা ইয়ামুতু। আলহামদুলিল্লাহিল্লাজি লাম ইয়াত্তাখিজু, ওয়ালাদান ওয়া লাম ইয়াকুন লাহু শারিকান ফিল মুলকি। ওয়া লাম ইয়াকুন লাহু ওয়ালিয়ূন মিনাজ জুললি। ওয়া কাববিরহু তাকবির।

অর্থ : আমি ভরসা করলাম ওই চিরঞ্জীব সত্তার উপর যিনি কখনো মৃত্যু বরণ করবেন না। সমস্ত প্রশংসা ওই আল্লাহর জন্য যিনি কোনো সন্তান গ্রহণ করেননি। তার রাজত্বের মাঝে কোনো অংশীদার নেই এবং তাকে লাঞ্চনা থেকে বাঁচানোর জন্য কোনো সহযোগীর প্রয়োজন নেই। অতএব তুমি উত্তমরূপে তাঁরই বড়ত্ব ও মহিমা বর্ণনা কর। [১৭:১১১]

 

ফজিলতঃ

-          রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাহি ওয়াসাল্লাম তার এক সাহাবাকে অসুখ বিসুখ ও দরিদ্রতা দূর করার জন্য দোয়াটি শিখিয়ে দিয়েছিলেন।

-          রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যখনই কোনো বিষয়ে আমি চিন্তিত হয়েছি বা বিপদে পড়েছি তখনই হজরত জিবরাইল আলাইহিস সালাম কোনো মানুষের আকৃতিতে এসে আমাকে বলতেন: হে মুহাম্মদ! আপনি বলুন... [এই দোয়াটি পড়তে বলতেন] [মুসতাদরাকে হাকেম-১৮৮৬, তারগিবুত তারহিব-২৮১৫ এর বরাতে-রূহুল মাআ’নী-৮/২৬৬]

 

অন্যের মুক্ষাপেক্ষীতা থেকে মুক্ত থাকার দোয়া

মধ্যরাত বা রাতের দ্বিপ্রহরের পর ১০০ বার আর-রাফিয়ু পাঠ করুন।

 

ফজিলতঃ

মহান আল্লাহ তাকে তার সৃষ্টির মধ্যে মনোনীত ও অর্থশালী করেন এবং অন্যের মুক্ষাপেক্ষীতা থেকে মুক্ত রাখেন।

 

দরিদ্রতা থেকে মুক্তি লাভের পরীক্ষিত আমল

সুবহে সাদেকের সময় তুমি সে তাসবীহ ১০০ বার করে পড়বে

সুবহানাল্লাহি ওয়াবিহামদিহি সুবহানাল্লাহিল আজিম। আসতাগফিরুল্লাহ। (১০০ বার)

অর্থ: আল্লাহ তায়ালা সব অসম্পূর্ণতা থেকে পবিত্র এবং সমস্ত প্রশংসা তাঁরই। মহান আল্লাহ পবিত্র। আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থণা করছি।

ফজিলতঃ

-          রাসূল (সাঃ) বলেন, “এটি ফেরেশতাদের দোয়া ও আল্লাহর সব সৃষ্টিজীবের তাসবীহ।“

-          ‘এই তাসবীহের কারণে ফেরেশতাদের ও আল্লাহর সব সৃষ্টিজীবের রিজিক দেয়া হয়।‘

-          ‘নিয়মিত পাঠ করলে দুনিয়া পাঠকারীর কাছে তুচ্ছ হয়ে আসবে।‘ [জিয়াউন্নবী-৫/৯০২]

 

অলসতা, অধিক বার্ধক্য, গোনাহ এবং ঋণ থেকে মুক্তির দোয়া

আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিনাল কাসালি ওয়াল হারামি ওয়াল মা-ছামি ওয়াল মাগরাম।

হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি অলসতা, অধিক বার্ধক্য, গোনাহ এবং ঋণ থেকে। (বুখারি: ৬০০৭)

 

(দিনে ১ বার)

কুলিল্লাহুম্মা মালিকাল মুলকি তুতিল মুলকা মানতাশাউ ওয়া আনযিউল মুলকা মিম্মান তাশাউ, ওয়া তুয়িজ্জু মানতাশাউ ওয়া তুজিল্লু মানতাশাউ, বিইয়াদিকাল খাইর, ইন্নাকা আলা কুল্লি শাইয়্যিন কাদীর। তুলিজুল্লাইলা ফিন্নাহারি ওয়া তুলিজুন্নাহারা ফিল্লাইলি, ওয়া তুখরিজুল হাইয়্যা মিনাল মাইয়্যিতি ওয়া তুখরিজুল মাইয়্যিতা মিনাল হাইয়্যি ওয়া তারজুকু মানতাশাউ বিগাইরি হিসাব।

-    কারও উপর ঋণের বোঝা চেপে থাকলে এই দোয়া নিয়মিত পাঠে ইনশাআল্লাহ তার সম্পূর্ণ ঋণ পরিশোধ হয়ে যাবে।

 

আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজু বিকা মিনাল হাম্মি ওয়াল হাযানি, ওয়া আউজু বিকা মিনাল আজযি ওয়াল-কাসালি, ওয়া আউজু বিকা মিনাল বুখলি ওয়াল জুবনি, ওয়া আউজু বিকা মিন দালাইদ-দাইনি ওয়া গালাবাতির রিজাল।

হে আল্লাহ! নিশ্চয় আমি আপনার আশ্রয় নিচ্ছি দুশ্চিন্তা ও দুঃখ থেকে, অপারগতা ও অলসতা থেকে, কৃপণতা ও ভীরুতা থেকে, ঋণের ভার ও মানুষদের দমন-পীড়ন থেকে। (বুখারি, হাদিস: ২৮৯৩)

-   দোয়াটি ঋণ পরিশোধের নিয়ত ও প্রচেষ্টার পাশাপাশি নামাজের দুই সেজদার মাঝে বসে আল্লাহর কাছে বেশি বেশি করা। বিশুদ্ধ নিয়তে আল্লাহর কাছে ঋণমুক্তির আশ্রয় কামনা করলে মহান আল্লাহ ঋণগ্রস্ত ব্যক্তিদের তা থেকে মুক্ত করবেন ইনশাআল্লাহ।

 

আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিনাল হাম্মি ওয়াল হাজানি, ওয়াল আজযি ওয়াল কাসালি, ওয়াল বুখলি ওয়াল-জুবনি, ওয়া দ্বালায়িদ্দাইনি ওয়া গালাবাতির রিজাল।

হে আল্লাহ, নিশ্চয় আমি আপনার আশ্রয় নিচ্ছি দুশ্চিন্তা ও দুঃখ থেকে, অপারগতা ও অলসতা থেকে, কৃপণতা ও ভীরুতা থেকে, ঋণের ভার ও মানুষদের দমন–পীড়ন থেকে। (বুখারি, হাদিস: ২৮৯৩)

 

(৭ বার)

লা হাউলা ওয়ালা কুওয়্যাতা ইল্লাবিল্লাহ- লা মালজায়া মিনাল্লাহি ইল্লা ইলাইহি।

আল্লাহর সাহায্য ছাড়া গুনাহ থেকে বিরত থাকা এবং নেক আমলে মশগুল হওয়া সম্ভব না। আল্লাহতায়ালার কাছ থেকে পালিয়ে যাওয়ার কোনো জায়গা নেই। তার কাছেই আশ্রয় গ্রহণ করতে হবে।

-    যে ব্যক্তি এ বাক্যগুলো সাতবার বলবে আল্লাহতায়ালা তার সত্তরটি অভাব দূর করবেন। (তন্মধ্যে) সবচেয়ে হাল্কা বিপদ হলো (মানুষের) অভাব।

 

মধ্যরাত বা রাতের দ্বিপ্রহরের পর ১০০ বার

আর-রাফিয়ু অর্থ হলো- ‘মুমিনদের মর্যাদা উঁচুকারী।-

-     মধ্যরাত বা রাতের দ্বিপ্রহরের পর ১০০ বার পাঠ করলে, মহান আল্লাহ তাকে তার সৃষ্টির মধ্যে মনোনীত ও অর্থশালী করেন এবং অন্যের মুক্ষাপেক্ষীতা থেকে মুক্ত রাখেন।

-     প্রতিদিন ঘুমানোর সময় ১০০ বার করলে সকল বিপদাপদ থেকে হিফাজত থাকবে।

   

ধন-সম্পদ, রিজিক বৃদ্ধি ও বরকতের দোয়া

আল্লাহুম্মা আকসির মা-লী ওয়া ওয়ালাদী ওয়া বারিক-লি ফিমা আতাইতানি।

হে আল্লাহ! আমার ধন-সম্পদ ও সন্তান বৃদ্ধি করে দিন এবং যা কিছু আমাকে দিয়েছেন তাতে বরকত দান করুন। [সহীহ বুখারী – ৭/১৫৪]

আল্লাহুম্মাগফিরলি যাম্বি ওয়া ওয়াস সি’লী ফি দা-রী ওয়া বারিক লি ফি রিযকী।

হে আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা করে দিন, আমার গৃহ প্রসস্থ করে দিন, এবং আমার রুযীতে বরকত দান করুন। [সহিহুম জামে-১২৬৫]

 

আল্লাহুম্মা আসলীহ লী দীনি ওয়া ওয়াস সি’লী ফি দা-রী ওয়া বারিক লী ফি রিযিকী।

হে আল্লাহ! আপনি আমার ধর্মজীবনকে সর্বাঙ্গীণ সুন্দর করে দিন, আমার বাড়িকে প্রশস্থ করে দিন, এবং আমার রুযীতে বরকত দান করুন। [তাবারানী- ২/১৯৬]

 

(প্রতিদিন ১০০ বার) বৃষ্টির ফোটার মত রিজিকের দোয়া।

লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু, আল মালিকুল হাক্কুল মুবিন, মুহাম্মাদুর রাসুলাল্লাহ, আস সাদিকুল ওয়াদিল আমিন।

সর্ব শক্তিমান আল্লাহ ছাড়া ইবাদতের কেউ যোগ্য নয়, শুধুমাত্র তিনিই প্রকৃত মালিক। হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর প্রেরিত রাসূল, যিনি অঙ্গীকার রক্ষা করেন এবং ‍যিনি বিশ্বস্ত।

-    দোয়াটি পবিত্র কাবা শরীফের দরজার উপরের গিলাফের উপর লিখা আছে। এছাড়াও বিভিন্ন মসজিদে, বিশেষ করে মানুষ ইন্তেকাল করলে তার খাটিয়ার উপরেও এ গিলাফটি ব্যবহার করা হয়। এই দোয়া প্রতিদিন ১০০ বার পড়লে তা দারিদ্র্যতার বিরুদ্ধে নিরাপত্তা দিবে, সম্পদ অর্জনের মাধ্যম হবে এবং কবরের পরীক্ষা থেকে মুক্ত থাকবে। (উৎস: তারিখে বাগদাদ, খন্ডঃ ১২, পৃষ্ঠাঃ ৩৫৮, আল হিলিয়া, খন্ডঃ ৮, পৃষ্ঠাঃ ৩০৯)

 

 বা-রাকাল্লা-হু লাকা ফী আহলিকা ওয়া মা-লিকা, ইন্নামা জাযা-উস সালাফে আল-হামদু ওয়াল আদা-উ

 

জুম্মার নামাজ শেষে ৭০ বার পড়লে আয়-রোজগার বৃদ্ধি পাবেঃ

আল্লাহুম্মাকফিনি বিহালালিকা আন হারামিকা ওয়া আগনিনি বিফাদলিকা আম্মান সিওয়াক।

হে আল্লাহ, আপনি আপনার হালালের মাধ্যমে আমাকে পরিতুষ্ট করে হারাম থেকে বিরত রাখুন এবং আপনার অনুগ্রহের মাধ্যমে আপনি ছাড়া অন্য সবার থেকে আমাকে অমুখাপেক্ষী করুন। (তিরমিজি: ৩৫৬৩)

 

এক সাহাবীর জীবনের শ্রেষ্ঠ দোয়া

একবার আবদুল্লাহ্ ইবনু মাস‘উদ (রা.) আল্লাহর প্রশংসা ও নবীজির উপর দরুদ পাঠ করে দু‘আ করছিলেন। তখন নবী করীম সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তিনি বললেন— “চাও, তোমাকে দেওয়া হবে।” এই কথা শুনে তিনি জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ চাওয়াটিই চাইলেন—

 

🤲 দু‘আটি

اَللّٰهُمَّ إِنِّيْ أَسْأَلُكَ إِيْمَانًا لَا يَرْتَدُّ،

وَنَعِيْمًا لَا يَنْفَدُ،

وَمُرَافَقَةَ نَبِيِّنَا مُحَمَّدٍ

فِيْ أَعْلٰى جَنَّةِ الْخُلْدِ

 

আল্লা-হুম্মা ইন্নী আসআলুকা ঈমানান লা ইয়ারতাদ,

ওয়ানা ঈমান লা ইয়ানফাদ,

ওয়া মুরাফাকাতা নাবিয়্যিনা মুহাম্মাদিন (সাঃ)  

ফী আ‘লা জান্নাতিল খুলদ।

 

📖 অর্থ

হে আল্লাহ!

আমি তোমার কাছে এমন ঈমান চাই, যা কখনো নষ্ট হবে না;

এমন নিয়ামত চাই, যা কখনো শেষ হবে না;

আর চাই চিরস্থায়ী জান্নাতের সর্বোচ্চ স্তরে

আমাদের নবী মুহাম্মাদ –এর সাহচর্য।

 

হাদিসের মর্যাদা

এই দু‘আটি জানার জন্য পরবর্তীতে আবু বকর (রা.) ও উমার (রা.) আবদুল্লাহ্ ইবনু মাস‘ঊদের কাছে গিয়েছিলেন! [সিলসিলা সহিহাহ: ২৩০১ (হাদিসটি হাসান)]

 

শব্দে শব্দে শিখি

§  اَللّٰهُمَّ — হে আল্লাহ

§  إِنِّيْ أَسْأَلُكَ — নিশ্চয়ই আমি তোমার কাছে চাই

§  إِيْمَانًا لَا يَرْتَدُّ — এমন ঈমান, যা নষ্ট হয় না

§  وَنَعِيْمًا لَا يَنْفَدُ — এমন নিয়ামত, যা শেষ হয় না

§  وَمُرَافَقَةَ نَبِيِّنَا — আমাদের নবীর সাহচর্য

§  فِيْ أَعْلٰى جَنَّةِ الْخُلْدِ — চিরস্থায়ী জান্নাতের সর্বোচ্চ স্তরে

 

কখন পড়বেন এই দু‘আ?

§  নামাজের সিজদায়

§  সালাম ফেরানোর আগে

§  দু‘আ কবুলের বিশেষ সময়গুলোতে

§  অথবা যেকোনো সময়ে

 

দুনিয়া নিয়ে চিন্তিত না হবার জন্য এক সাহাবীর দোয়া

বিখ্যাত তাবেয়ী আমের বিন আবদ কায়েস (রহ.) বলতেন, "আল্লাহর কুরআনের এই চারটি আয়াতের বিশেষ কিছু অংশ যখন আমি সন্ধ্যায় পাঠ করি, তখন রাত কীভাবে কাটবে তা নিয়ে আমার কোনো দুশ্চিন্তা থাকে না। আর যখন সকালে পাঠ করি, তখন দিনটি কেমন যাবে তা নিয়েও আমি পরোয়া করি না।"

 

সেই চারটি আয়াত (অংশ বিশেষ) হলো,

১. (সুরা ফাতির: ২)

ما يَفْتَحِ اللَّهُ لِلنَّاسِ مِنْ رَحْمَةٍ فَلا مُمْسِكَ لَها وَما يُمْسِكْ فَلا مُرْسِلَ لَهُ مِنْ بَعْدِهِ

মা ইয়াফতাহিল্লাহু লিন্না-সি মিন রাহমাতিন ফালা মুমসিকা লাহা; ওয়া মা ইউমসিক ফালা মুরসিলা লাহু মিন বা‘দিহি…

"আল্লাহ মানুষের জন্য রহমতের মধ্য থেকে যা উন্মুক্ত করে দেন, তা আটকানোর কেউ নেই। আর তিনি যা আটকে রাখেন, তা ছাড়িয়ে দেওয়ারও কেউ নেই।"

 

২. (সুরা ইউনুস: ১০৭)

وَإِنْ يُرِدْكَ بِخَيْرٍ فَلا رَادَّ لِفَضْلِهِ يُصِيبُ بِهِ مَنْ يَشاءُ مِنْ عِبادِهِ

… ওয়া ইন ইউরিদকা বিখাইরিন ফালা রাদ্দা লি ফাদলিহি; ইউসীবু বিহি মান ইয়াশা-উ মিন ইবাদিহি…

"আর তিনি যদি তোমার কোনো কল্যাণ চান, তবে তাঁর অনুগ্রহকে রুখে দেওয়ার মতো কেউ নেই। তিনি তাঁর বান্দাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা অনুগ্রহ পৌঁছে দেন।"

 

৩. (সুরা হুদ: ৬)

وَما مِنْ دَابَّةٍ فِي الْأَرْضِ إِلَّا عَلَى اللَّهِ رِزْقُها

ওয়া মা মিন দা-ব্বাতিন ফিল আরদি ইল্লা ‘আলাল্লাহি রিজকুহা…

"ভূপৃষ্ঠে বিচরণকারী এমন কোনো প্রাণী নেই যার রিজিকের দায়িত্ব আল্লাহর ওপর নেই।"

 

৪. (সুরা তালাক: ৭)

سَيَجْعَلُ اللَّهُ بَعْدَ عُسْرٍ يُسْراً

… সাইয়াজ‘আলুল্লাহু বা‘দা ‘উসরি ইউসরা।

"…আল্লাহ শীঘ্রই কঠিন অবস্থার পর সহজ অবস্থা (স্বস্তি) দান করবেন।"

 

প্রথম দুই আয়াতে বলা হয়েছে লাভ-ক্ষতির মালিক একমাত্র আল্লাহ। তৃতীয় আয়াতে আছে জীবন ধারণের উপকরণের নিশ্চয়তা। চতুর্থ আয়াতে আছে বিপদে ধৈর্য ও আশার বাণী।

 

যে এই বিশ্বাস হৃদয়ে গেঁথে নেবে, দুনিয়ার কোনো অভাব বা বিপদ তাকে বিচলিত করতে পারবে না। ইনশাআল্লাহ। [সূত্র: উয়ুনুল আখবার- ইবনে কুতাইবা রহ.]

 

যে দোয়ার নেকি ফেরেশতারা লিখে শেষ করতে পারে না

আল্লাহুম্মা লাকাল হামদ কামা ইয়াম বাগিলি জালালি ওয়াজহিকা ওয়া আজিমি সুলতানিকা। 

ফজিলতঃ

এই দোয়ার নেকি ফেরেশতারা লিখে শেষ করতে পারে না। তাই এটাকে আমলনামায় এভাবেই লিখে রাখে। এর নেকি আল্লাহ নিজে দিবেন।

 

যা হারিয়েছে, আল্লাহ তার চেয়ে বেশি এবং কল্যানকর কিছু পাবার দোয়া

ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন, আল্লাহুম্মা আজিরনি ফি মুসিবাতি, ওয়া আখলিফ-লি খাইরাম মিনহা।

 

দোয়া কবুলের দোয়া (ইসমে আজম)

§  লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা-শারীকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু, ওয়া হুয়া আলা-কুল্লি শাইয়িন কাদীর, লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া লা-হাওলা ওয়ালা কুওয়্যাতা ইল্লা বিল্লাহ

 

§  লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহূ লা-শারীকালাহূ, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু, ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন ক্বদীর। সুবহানাল্লাহি, ওয়াল হামদুলিল্লাহি, ওয়া লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু, ওয়াল্লাহু আকবার, ওয়া লা-হাওলা ওয়ালা কুওয়্যাতা ইল্লা বিল্লাহ। রাব্বিগফিরলি।

§  একমাত্র আল্লাহ ছাড়া কোনো হক্ব ইলাহ নেই, তাঁর কোনো শরীক নেই; রাজত্ব তাঁরই, প্রশংসাও তাঁরই; আর তিনি সকল কিছুর ওপর ক্ষমতাবান। আল্লাহ পবিত্র-মহান। সকল হামদ-প্রশংসা আল্লাহ্র। আল্লাহ ছাড়া কোনো হক্ব ইলাহ নেই। আল্লাহ সবচেয়ে বড়। সুউচ্চ সুমহান আল্লাহর সাহায্য ছাড়া (পাপ কাজ থেকে দূরে থাকার) কোনো উপায় এবং (সৎকাজ করার) কোনো শক্তি কারো নেই। হে রব্! আমাকে ক্ষমা করুন। হে আমার রব! আমাকে ক্ষমা করুন।

 

§  আল্লাহুম্মা ইন্নি আস আলুকা বি’আন্নাকা আন্তাল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা আন্ত, আল আহাদ, আস সামাদ, আল্লাজী লাম ইয়ালিদ ওয়ালাম ইউ লাদ, ওয়ালাম ইয়া কুল্লাহু কুফু’আন আহাদ।

 

§  আল্লাহুম্মা ইন্নি আস আলুকা বি’আন্না লাকাল হামদ, লা ইলাহা ইল্লা আন্ত, আল হান্নান, আল মান্নান, বাদিউস সামাওয়াতি ওয়াল আরদ, ইয়া জাল জালালি ওয়াল ইকরাম, ইয়া হাইয়্যুল ইয়া কাইয়্যুম, ইয়া আর হামার রাহিমীন।

 

§  আল্লাহুম্মা ইন্নি আস আলুকা ওয়া ইলাহুকুম ইলাহুউ ওয়াহিদ লা ইলাহা ইল্লা হুওয়ার রাহমানুর রাহীম।

 

§  আলিফ লাম মিম, আল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা হুয়্যাল হাইয়্যুল কাইয়্যুম।

 

§  লা ইলাহা ইল্লা আন্তা সুবহানাকা ইন্নি কুন্তু মিনায জালিমীন।

 

ইবাদত কবুল হবার দোয়া

রাব্বানা তাকাব্বাল মিন্না ইন্নাকা আনতাছ ছামিউল আলীম।

 

 

রাজত্ব লাভের দোয়াঃ সোলায়মান (আ:) এর দোয়া-

রাব্বিগ ফিরলি ওয়া হাবলী মুলকান লা-ইয়ামবাগিলি আহাদিম মিম বাদী ইন্নাকা আনতাল ওয়াহহাব।

হে আমার পালনকর্তা! আমাকে মাফ করুন এবং আমাকে এমন সাম্রাজ্য দান করুন যা আমার পরে আর কেউ পেতে পারবে না। নিশ্চয়ই আপনি মহাদাতা।

 

কেয়ামত পর্যন্ত নেক আমল জারী রাখার দোয়া

সুবহানাকাল্লাহুম্মা ওয়া বিহামদিকা, আশহাদু আল্লা-ইলাহা ইল্লা আন্তা আসতাগফিরুকা ওয়া আতুবু ইলাইকা।

রাসুল (সাঃ) কোনও কাজের শেষে বা সালাত, কুরআন তেলোয়াত অথবা কোনো মজলিশ শেষে এটি পাঠ করতেন। এরফলে কল্যানমূলক ওই কাজ কেয়ামত পর্যন্ত তার অনুগামী হবে।

 

বাবা-মার জন্য দোয়া

-          রাব্বির হামহুমা কামা রাব্বায়ানি সাগীরা। (বনি ইসরাইলঃ ২৪)

-          রাব্বানাগ ফিরলী ওয়াল ওয়ালিদাইয়া ওয়ালিল মুমিনিনা ইয়াওমা ইয়াকুমুল হিছাব।

 

দুনিয়াবী যেকোনো বিপদে/প্রয়োজনে + রুকাইয়াতে জীন পুড়ে ছাই হয়ে যাবে

সূরা-২৩ মুমিনুন এর শেষ ৪ আয়াত (১১৫-১১৮)

১১৫: আ ফা হাসিবতুম আন্না মা খালাকনাকুম আবাছাওঁ ওয়া আন্নাকুম ইলাইনা লা তুরজিঊন।

১১৬: ফা তা'আলা আল্লাহুল মালিকুল হাক্কু, লা ইলাহা ইল্লা হুয়া রাব্বুল আরশিল কারীম।

১১৭: ওয়া মান ইয়াদ উমা আল্লাহি ইলাহান আখারা লা বুরহানা লাহু বিহি, ফা-ইন্নামা হিসাবুহু ইন্দা রাব্বিহি, ইন্নাহু লা ইউফলিহুল কাফিরূন।

১১৮: ওয়া কুল রাব্বিগফির ওয়ারহাম, ওয়া আন্তা খাইরুর রাহিমীন

 

১১৫: তোমরা কি ভেবেছিলে যে, আমি তোমাদেরকে অনর্থক সৃষ্টি করেছি এবং তোমাদেরকে আমার নিকট প্রত্যাবর্তিত হবে না?

১১৬: অতএব আল্লাহ মহিমান্বিত, প্রকৃত মালিক। তিনি ছাড়া আর কোনো উপাস্য নেই। তিনি মহিমান্বিত আরশের রব।

১১৭: আর যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে অন্য কোনো উপাস্যকে আহ্বান করে, যার জন্য তার কোনো প্রমাণ নেই, তার হিসাব তার রবের কাছে হবে। নিশ্চয়ই কাফিররা সফলকাম হবে না।

১১৮: আর বলো: হে আমার রব! ক্ষমা করুন ও দয়া করুন। আর আপনি দয়াশীলদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ।

 

 ফজিলত:

- জীনগ্রস্থ রোগীর কানের কাছে পড়ে ফু দিলে জীন পুড়ে ছাই হয়ে যাবে।

- দুনিয়াবী যেকোনো বিপদে/প্রয়োজনে কোনও মুসলিম সূরা-২৩ মুমিনুন এর শেষ ৪ আয়াত (১১৫-১১৮) পাঠ করে যদি পাহাড়কেও বলে সরে যেতে, তাহলে পাহাড় পর্যন্ত মুমিন-মুসলিমের জন্য জায়গা পরিবর্তন করবে এই দোয়া এতটায় শক্তিশালী।

 

২০ লক্ষ নেকীর দোয়া

§  লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা-শারীকালাহু আহাদান ছামাদান লাম-ইয়ালিদ ওয়ালাম ইউলাদ, ওয়ালাম ইয়া কুল্লাহু কুফুওয়ান আহাদ। 

 

১ লক্ষ ২৪ হাজার নেকীর দোয়া

§  সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহী

ফজিলতঃ

প্রত্যহ ১০০ বার পাড়লে আমলনামায় ১ লক্ষ ২৪ হাজার নেকী লেখা হয়।

 

যে দোয়ার ছওয়াব ১ হাজার দিন লেখা হয়

জাযাল্লাহু আ’ন্না মুহাম্মাদাম মা-হুওয়া আহলুহু।

ফজিলতঃ

দোয়াটি ১ বার পড়লে ৭০ জন ফেরেশতা ১০০০ দিন পর্যন্ত তার জন্য ছওয়াব লিখতে থাকে।

 

১০০ নফল হজ্ব এর ছওয়াব

§  সকাল-সন্ধ্যায় ১০০ বার করে সুবহানাল্লাহ পড়লে

মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন ১০০ নফল হজ্বের ছওয়াব দান করবেন। (মেশকাত শরীফ)

 

১০০০ আয়াত পাঠের ছওয়াব

§  সূরা তাকাসুর (কোরআনের ১০২ নম্বর সূরা। এর আয়াত সংখ্যা ৮। এটি মক্কায় অবর্তীণ সূরা এবং সূরাটি কোরআনের ৩০তম পারায় অবস্থিত।)

১০২.১। আল-হা কুমু-ত্তাকাছুর।

১০২.২। হাত্তা-ঝুরতুমুল-মাকাবির।

১০২.৩। কাল্লা ছাউফা-তা’লামুন।

১০২.৪। ছুম্মা-কাল্লা ছাউফা-তা’লামুন।

১০২.৫। কাল্লা-লাও তা-লামুনা-ইলমাল-ইয়াকীন।

১০২.৬। লা-তারা-উন্নাল-জাহিম।

১০২.৭। ছুম্মা লাতারা-উন্নাহা-আইনাল-ইয়াকীন।

১০২.৮। ছুম্মা লাতুছ-আলুন্না-ইয়াও মা-ইযিন-আনিন্না’ঈম।

বাংলা অর্থ: পার্থিব ভোগ সামগ্রীতে) একে অন্যের উপর আধিক্য লাভের প্রচেষ্টা তোমাদেরকে উদাসীন করে রাখে। যতক্ষণ না তোমরা কবরস্থানে পৌঁছ। কিছুতেই এরূপ সমীচীন নয়। শীঘ্রই তোমরা জানতে পারবে। আবারও (শোন), কিছুতেই এরূপ সমীচীন নয়। শীঘ্রই তোমরা জানতে পারবে। কক্ষণও নয়। তোমরা নিশ্চিত জ্ঞানের সাথে যদি এ কথা জানতে (তবে এরূপ করতে না)। তোমরা জাহান্নাম অবশ্যই দেখবে। তোমরা অবশ্যই তা দেখবে চাক্ষুষ প্রত্যয়ে। অতঃপর সে দিন তোমাদেরকে নিয়ামত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হবে যে, তোমরা তার কী হক আদায় করেছ?

 

ফজিলতঃ

১ বার পাঠ করলে আল্লাহ পাক ১০০০ আয়াত পাঠ করার ছওয়াব দান করবেন।

 

নবীদের দোয়া

§  আদম (আঃ) এর দোয়াঃ

রাব্বানা-যলামনা আনফুসানা ওয়া ইল্লাম তাগফির লানা ওয়া তারহামনা লানা কুনান্না মিনাল খ-ছিরীন।

হে আমাদের পালনকর্তা! আমরা নিজেদের প্রতি জুলুম করেছি। যদি আপনি আমাদেরকে ক্ষমা না করেন এবং আমাদের প্রতি অনুগ্রহ না করেন, তবে আমরা অবশ্যই অবশ্যই ধ্বংস হয়ে যাবো। (সূরা আরাফঃ ২৩)

 

§  আইয়ুব (আঃ) এর দোয়াঃ

রাব্বি আন্নি মাস-নানিয়াদ দুররু ওয়া আনতা আরহামুর-রাহীমিন।

হে আমার প্রভু! আমি দুঃখে কষ্টে পতিত হয়েছি, তুমিইতো দয়ালুদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ দয়ালু। (সূরা আম্বিয়াঃ ৮৩)

 

§  ইউনুস (আঃ) এর দোয়া

লা ইলাহা ইল্লা আন্তা সুবহানাকা ইন্নি কুনতু মিনাজ জোয়ালিমিন। (সুরা আম্বিয়া: ৮৭)

হে আল্লাহ, আপনি ব্যতীত কোন উপাস্য নেই। আমি আপনার পবিত্রতা ঘোষণা করছি। অবশ্যই আমি গুনাহগার।

 

§  ঈসা (আ.)-এর দোয়া:

আল্লাহুম্মা রাব্বানাআনঝিল ‘আলাইনা-মাইদাতাম মিনাছছামাই তাকূনুলানা-‘ঈদাল লিআওওয়ালিনা-ওয়া আ-খিরিনা-ওয়া আ-ইয়াতাম মিনকা ওয়ারঝুকনা-ওয়া আনতা খাইরুর রা-ঝিকীন।

হে আল্লাহ! আমাদের রব! আমাদের জন্য আসমান থেকে খাদ্যপূর্ণ খাঞ্চা প্রেরণ করুন। এটা আমাদের ও আমাদের পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সবার জন্য হবে আনন্দোৎসবস্বরূপ এবং আপনার কাছ থেকে নিদর্শন। আর আমাদের জীবিকা দান করুন; আপনিই তো শ্রেষ্ঠ জীবিকাদাতা। (সুরা মায়িদা: ১১৪)

 

§  ইব্রাহীম (আঃ) এর দোয়াঃ

রাব্বীজ আলনী মুকীমাস-সালাতি ওয়া মিন যুররি ইয়াতী রাব্বানা ওয়া তাকাব্বাল দু’আই।

হে আমার প্রভু! আমাকে তাদের একজন করো যারা নিয়মিত সালাত কায়েম করে এবং আমার বংশধরদের মধ্যে থেকেও করো। হে আমার প্রভু! তুমি আমার প্রার্থনা গ্রহণ করো। (সূরা ইব্রাহীমঃ ৪০)

 

§  ইউসুফ (আঃ) এর দোয়াঃ

রাব্বি কাদ আতাইতানি মিনাল মুলকি ওয়া আল্লামতানি মিন তাওয়ীলিল আহাদীস; ফাতি রাস সামাওয়াতি ওয়াল আরদি আন্তা ওয়ালিইয়া ফিদ দুনিয়া ওয়াল আখিরাতি তাওয়াফফানি মুসলিম ওয়া আলহিকনি বিসালিহীন।

হে আসমানসমূহ ও যমীনের স্রষ্টা! দুনিয়া ও আখিরাতে আপনিই আমার অভিভাবক। আমাকে মুসলিম অবস্থায় মৃত্যু দিন এবং নেককারদের সাথে আমাকে যুক্ত করুন। (সূরা ইউসুফঃ ১০১)

 

§  সোলায়মান (আ.)-এর দোয়া:

রাব্বি আওঝি-নী আন আশকুরা নি’মাতাকাল্লাতী আনআমতা আলায়্যা ওয়াআলা ওয়া-লিদায়্যা ওয়াআন আ’মালা স’লিহান তারদ্বা-হু ওয়াআদখিলনী বিরাহমাতিকা ফী ইবা-দিকাস সালিহীন।

হে আমার রব! আপনি আমাকে সামর্থ্য দিন, যাতে আমি আপনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে পারি—আমার প্রতি ও আমার মা-বাবার প্রতি আপনি যে অনুগ্রহ করেছেন তার জন্য। আর আমি যেন সৎকাজ করতে পারি, যা আপনি পছন্দ করেন। আপনার অনুগ্রহে আমাকে আপনার সত্কর্মপরায়ণ বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত করুন। (সুরা নামল: ১৯)

 

§  শুয়াইব (আঃ) এর দোয়াঃ

১। আলাল্লাহি তাওয়াক্কালনা রাব্বানা ফতাহ বাইনানা ওয়া বাইনা কাওমিনা বিল হাক্কি ওয়া আনতা খাইরুল ফাতিহীন।

আল্লাহরই উপর আমরা তাওয়াক্কুল করি। হে আমাদের রব, আমাদের ও আমাদের কওমের মধ্যে যথার্থ ফয়সালা করে দিন। আর আপনিই শ্রেষ্ঠ ফয়সালাকারী। (সূরা আরাফঃ ৮৯)

২। রাব্বিগ ফিরলী ওয়া হাবলী মুলকাল লা-ইয়ামবাগী লিআহাদিম মিম বাদী ইন্নাকা আনতাল ওয়াহহা-ব।

হে আমার রব! আমাকে ক্ষমা করুন এবং আমাকে দান করুন এমন এক রাজ্য, যার অধিকারী আমি ছাড়া আর কেউ যেন না হয়। আপনি তো পরম দাতা। (সুরা সাদ: ৩৫)

 

§  নূহ (আঃ) এর দোয়াঃ

১। রাব্বিগ ফিরলী ওয়ালি ওয়ালি-দাইয়া ওয়া লিমান দাখালা বাইতিয়া মুমিনাও ওয়া লিল-মুমিনীনা ওয়াল মুমিনাতি ওয়ালা তাজিদিজ জোলিমীনা ইল্লা তাবা-রা।

হে আমার পালনকর্তা! আপনি আমাকে, আমার পিতা-মাতাকে, যারা মুমিন হয়ে আমার গৃহে প্রবেশ করে তাদেরকে এবং মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীদেরকে ক্ষমা করুন এবং জালেমদের কেবল ধ্বংসই বৃদ্ধি করুন। (সূরা নূহঃ ২৮)

২। রাব্বি আনসিরনী বিমা- কাযযাবূন

হে আমার রব! আমাকে সাহায্য করুন ওই বিষয়ে, যে বিষয়ে তারা আমাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করছে। (সুরা মুমিনুন: ২৬)

৩। রাব্বি ইন্নী আঊযুবিকা আন আছআলাকা মা-লাইছা লী বিহী ‘ইলমুওঁ ওয়া ইল্লা তাগফিরলী ওয়া তারহামনী আকুম মিনাল খা-ছিরীন।

হে আমার রব! যে বিষয়ে আমার জ্ঞান নেই, সে বিষয়ে যাতে আপনাকে অনুরোধ না করি—এ জন্য আমি আপনার আশ্রয় চাই। আপনি যদি আমাকে ক্ষমা করেন এবং আমাকে দয়া না করেন, তাহলে আমি ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হব। (হুদ: ৪৭)

 

§  মূসা (আঃ) এর দোয়াঃ

১। রাব্বি ইন্নি জালামতু নাফসি ফাগফিরলি।

হে আমার পালনকর্তা, আমি তো নিজের উপর জুলুম করে ফেলেছি। অতএব, আমাকে ক্ষমা করুন। (সুরা কাসাস: ১৬)

২। রাব্বি, ইন্নি লিমা আনজালতা ইলাইয়া মিন খাইরিন ফকির। (সুরা কাসাস: আয়াত ২৪)

হে আল্লাহ! আপনি আপনার পক্ষ থেকে আমার উপর যে নেয়ামতগুলি দিবেন, আমি তার জন্য ফকির হয়ে বসে আছি।

৩। রাব্বিশ রাহলী সাদরী। ওয়া ইয়াছছিরলী-আমরী। ওয়াহলুল উকদাতাম মিল লিসানি। ইয়াফ কাহূ কওলী।

হে আমার পালনকর্তা! আমার জন্য আমার বক্ষকে প্রশস্ত করে দিন। আর আমার জন্য আমার কাজকে সহজ সহজ করে দিন। যাতে তারা আমার মুখের কথা বুঝতে পারে। (সূরা তো-হাঃ ২৫-২৮)

 

§  মুহাম্মাদ (সাঃ) এর দোয়াঃ

১। রাব্বানা আ-তিনা ফিদদুনইয়া হাসনাতাও ওয়াফিল আখিরাতি হাসনাতাও ওয়া কিনা আজাবান নার।

আমাদের প্রভু, আমাদের দুনিয়াতে যা কল্যাণকর, পরকালে যা কল্যাণকর তা দান করুন, আমাদের আগুনের আজাব থেকে রক্ষা করুন। (সুরা বাকারা-২০১)

২। রাব্বি আদখিলনী মুদ খালা সিদকিওঁ ওয়া আখরিজনী মুখরাজা সিদকিওঁ ওয়াজ আলনী মিল্লাদুনকা ছুলতা-নান নাসীরা।

হে পালনকর্তা! আমাকে দাখিল করুন সত্যরূপে এবং আমাকে বের করুন সত্যরূপে এবং দান করুন আমাকে নিজের কাছ থেকে রাষ্ট্রীয় সাহায্য। (সুরা বনি ইসরাঈল: ৮০)

৩। রাব্বি ফালা তাজআলনী ফিল ক্বাওমাজ জোয়ালিমীন।

হে আমার রব! আপনি আমাকে অবিচারকারী সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত করবেন না।’ (সুরা মুমিনুন: ৯৪)

 

৫টি সময়ে দোয়া কবুল করা হয়

(রাতের শেষার্ধে, জোহরের পূর্ব মুহূর্তে, আযানের সময়, এক সালাতের পর অন্য সালাতের জন্য অপেক্ষা করার সময়, এবং এই যিকির করার সময়) আকাশের দরজা খোলা হয় এবং নিচের দোয়া পাঠ করে কিছু চাইলে কবুল করা হয়ঃ

আল্লাহু আকবর কাবীরা ওয়াল হামদুলিল্লাহি কাছীরা ওয়া সুবহানাল্লাহি বুকরাতাও ওয়া আসীলা।

আল্লাহ মহান, অতি মহান, আল্লাহর জন্য অনেক অনেক প্রশংসা এবং সকাল-সন্ধ্যা আমি আল্লাহর পবিত্রতা বর্ণনা করি। (সহীহ মুসলিম-৩৯৪১)

 

নবী করিম - এর চোখে ১২ প্রকার মানুষ সবচেয়ে সর্বোত্তম

১. রাসুলুল্লাহ ইরশাদ করেছেন, ﺧَﻴْﺮُﻛُﻢْ ﻣَﻦْ ﺗَﻌَﻠَّﻢَ ﺍﻟْﻘُﺮْﺁﻥَ ﻭَﻋَﻠَّﻤَﻪُ

‘তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম ওই ব্যক্তি, যে নিজে কোরআন শেখে এবং অন্যকে শেখায়।’

(বুখারি, হাদিস নম্বর: ৫০২৭)

 

২. রাসুলুল্লাহ ইরশাদ করেছেন, ﺇِﻥَّ ﺧِﻴَﺎﺭَﻛُﻢْ ﺃَﺣَﺎﺳِﻨُﻜُﻢْ ﺃَﺧْﻼَﻗًﺎ

‘নিশ্চয়ই তোমাদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ ওই ব্যক্তি, যে তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম আচরণের অধিকারী।’ (বুখারি, হাদিস নম্বর: ৬০৩৫)

 

৩. রাসুলুল্লাহ ইরশাদ করেছেন, ﺇِﻥَّ ﺧِﻴَﺎﺭَﻛُﻢْ ﺃَﺣْﺴَﻨُﻜُﻢْ ﻗَﻀَﺎﺀً

‘তোমাদের মধ্যে সর্বসেরা ব্যক্তি সে, যে ঋণ পরিশোধের বেলায় ভালো।’

(বুখারি, হাদিস নম্বর: ২৩০৫)

 

৪. রাসুলুল্লাহ () ইরশাদ করেছেন,

‘তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম ওই ব্যক্তি, যার কাছ থেকে সবাই কল্যাণ আশা করে, অনিষ্টের আশঙ্কা করে না।’ (তিরমিজি, হাদিস নম্বর: ২২৬৩/২৪৩২)

 

৫. রাসুলুল্লাহ () ইরশাদ করেছেন,

‘তোমাদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ ওই ব্যক্তি, যে তার পরিবারের কাছে ভালো।’

(সহিহ ইবনে হিব্বান, হাদিস নম্বর: ৪১৭৭)

 

৬. রাসুলুল্লাহ () ইরশাদ করেছেন, ﺧِﻴَﺎﺭُﻛُﻢْ ﺃَﻃْﻮَﻟُﻜُﻢْ ﺃَﻋْﻤَﺎﺭًﺍ ﻭَﺃَﺣْﺴَﻨُﻜُﻢْ ﺃَﻋْﻤَﺎﻟًﺎ

তোমাদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ ব্যক্তি সেই, যে তোমাদের মধ্যে বয়সে বেশি এবং (নেক) কাজে উত্তম। (আহমাদ ৭২১২, ৯২৩৫, সিঃ সহীহাহ ১২৯৮)

 

৭. রাসুলুল্লাহ () ইরশাদ করেছেন, ﺧَﻴْﺮُ ﺍﻟﻨَّﺎﺱِ ﺃﻧْﻔَﻌُﻬُﻢْ ﻟِﻠﻨَّﺎﺱِ

সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ সেই ব্যক্তি, যে মানুষের জন্য সবচেয়ে বেশি উপকারী।

(সহীহুল জামে’ হা/ ৩২৮৯, দারাক্বুত্বনী, সিঃ সহীহাহ ৪২৬)

 

৮. রাসুলুল্লাহ () ইরশাদ করেছেন, ﻣَـﺨْﻤُﻮْﻡِ ﺍﻟْﻘَﻠْﺐِ ﺻَﺪُﻭْﻕِ ﺍﻟﻠِّﺴَﺎﻥِ ﻗَﺎﻟُﻮﺍ ﺻَﺪُﻭْﻕُ ﺍﻟﻠِّﺴَﺎﻥِ ﻧَﻌْﺮِﻓُﻪُ ﻓَﻤَﺎ ﻣَـﺨْﻤُﻮﻡُ ﺍﻟْﻘَﻠْﺐِ

‘শ্রেষ্ঠ মানুষ হলো যার অন্তর পরিচ্ছন্ন ও মুখ সত্যবাদী। সাহাবিরা জিজ্ঞেস করেন, হে আল্লাহর রাসুল! সত্যবাদী মুখ বোঝা গেল, কিন্তু পরিচ্ছন্ন অন্তরের অধিকারী কে? রাসুলুল্লাহ ইরশাদ করেন, যে অন্তর স্বচ্ছ ও নির্মল, মুত্তাকি, যাতে কোনো পাপ নেই, বাড়াবাড়ি বা জুলুম নেই, নেই খেয়ানত ও বিদ্বেষ।

(ইবনে মাজাহ ৪২১৬, সহিহুল জামে, হাদিস: ৩২৯১)

 

৯. রাসুলুল্লাহ () ইরশাদ করেছেন,ﺧَﻴْﺮُ ﺍﻷَﺻْﺤَﺎﺏِ ﻋِﻨْﺪَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺧَﻴْﺮُﻫُﻢْ ﻟِﺼَﺎﺣِﺒِﻪِ ﻭَﺧَﻴْﺮُ ﺍﻟْﺠِﻴﺮَﺍﻥِ ﻋِﻨْﺪَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺧَﻴْﺮُﻫُﻢْ ﻟِﺠَﺎﺭِﻩِ

‘আল্লাহর কাছে সর্বোত্তম সঙ্গী সে, যে তার সঙ্গীর কাছে উত্তম। আর আল্লাহর কাছে সর্বোত্তম প্রতিবেশী সে, যে তার প্রতিবেশীর কাছে উত্তম।’

(তিরমিজি, হাদিস নম্বর: ১৯৪৪)

 

১০. রাসুলুল্লাহ () ইরশাদ করেছেন, ﺇِﻥَّ ﻣِﻦْ ﺧِﻴَﺎﺭِﻛُﻢْ ﺃَﺣْﺴَﻨَﻜُﻢْ ﺃَﺧْﻠَﺎﻗًﺎ

‘তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম ব্যক্তি সে, যার চরিত্র সবচেয়ে বেশি সুন্দর।’ (বুখারি, হাদিস নম্বর: ৩৫৫৯)

 

১১. রাসুলুল্লাহ () বলেন, ﺧَﻴْﺮُ ﺍﻟﻨَّﺎﺱِ ﻣَﻨْﺰِﻟَﺔً ﺭَﺟُﻞٌ ﻋَﻠَﻰ ﻣَﺘْﻦِ ﻓَﺮَﺳِﻪِ ﻳُﺨِﻴﻒُ ﺍﻟْﻌَﺪُﻭَّ ﻭَﻳُﺨِﻴﻔُﻮﻧَﻪُ

মর্যাদায় সর্বশ্রেষ্ঠ ব্যক্তি সে, যে নিজ ঘোড়ার পিঠে সওয়ার হয়ে শত্রুকে সন্ত্রস্ত করে এবং শত্রুরাও তাকে সন্ত্রস্ত করে।

(বাইহাক্বীর শুআবুল ঈমান ৪২৯১, সিলসিলা সহীহাহ ৩৩৩৩)

 

১২. রাসুলুল্লাহ () বলেনঃ ﻟَﻤُﺆْﻣِﻦٌ ﻣُﺠَﺎﻫِﺪٌ ﺑِﻨَﻔْﺴِﻪِ ﻭَﻣَﺎﻟِﻪِ ﻓﻲ ﺳَﺒﻴﻞِ ﺍﻟﻠﻪِ

ঐ মু’মিন (সর্বশ্রেষ্ঠ) যে আল্লাহর পথে তার জান ও মাল দিয়ে যুদ্ধ করে।

(বুখারী ২৭৮৬, ৬৪৯৪, মুসলিম ৪৯৯৪-৪৯৯৫)

 

ইস্তিগফারের বা (আল্লাহর কাছে) ক্ষমা চাইলে আল্লাহ যা যা পুরস্কার দিবেন

* অপরাধ ক্ষমা করবেন। (সূরা: বাকারা; ৫৮)

* রহমতের বৃষ্টি দান করবেন। (সূরা: নূহ; ১১)

* ধন-সম্পদ দান করবেন। (সূরা: নূহ; ১২)

* সন্তান-সন্ততি দান করবেন। (সূরা: নূহ; ১২)

* বাগ-বাগিচা দান করবেন। (সূরা: নূহ; ১২)

* নদী-নালা সঠিকভাবে প্রবাহিত করবেন। (সূরা: নূহ; ১২)

* ক্ষমা প্রার্থনার পর আমল সঠিক রাখলে সুখ-সম্ভোগ দান করবেন। (সূরা: হুদ; ৩)

* শক্তি-সামর্থ্য বৃদ্ধি করবেন। (সূরা: হূদ; ৫২)

* শাস্তি দিবেন না। (সূরা: আনফাল; ৩৩)

* রহমত বা অনুগ্রহ দান করবেন। (সূরা: নমল; ৪৬)

* ক্ষমা প্রার্থনার পরে আর পাপ না করলে জান্নাত দাম করবেন। (সূরা: ইমরান; ১৩৬)

* সাইয়্যিদুল ইসতিগফার সকালে পড়লে, সন্ধ্যা হবার আগে মারা গেলে জান্নাত পাবে আর সন্ধ্যায় পড়লে ভোর হবার আগে মারা গেলে জান্নাত পাবে। (বুখারী: ৬৩০৬)

* সব ধরণের বিপদাপদ থেকে মুক্ত করবেন। (আবূ দাউদ; ১৫১৮ - দুর্বল হাদিস)

* সব ধরণের দুশ্চিন্তা হতে রক্ষা করবেন। (আবূ দাউদ; ১৫১৮ - দুর্বল হাদিস)

* অকল্পনীয়ভাবে রিজিকের ব্যবস্থা করবেন। (আবূ দাউদ; ১৫১৮ - দুর্বল হাদিস)

* রাতে ঘুমানোর আগে তিনবার ৪র্থ ইসতিগফারটি পড়লে সমূদ্রের ফেনা সমান গুনাহ মাফ হবে। (তিরমিজি; ৩৩৯৭ - দুর্বল হাদিস)

 

মহানবি (সা) কতবার ইস্তিগফার পড়তেন?

উ: মহানবি (সা) দিনে ১০০ বার لأَسْتَغْفِرُ اللَّهَ (আস্তাগফিরুল্লাহ) পড়তেন। ৩

(সহিহ মুসলিম: ৬৭৫১- আন্তর্জাতিক ২৭০২, ইবনে মাজাহ: ৩৮১৫)

 

কোনো কোনো হাদিসে এসেছে, দিনে ৭০ বারের অধিক পড়তেন।

(সহিহ বুখারী: ৬৩০৭)

 

ইস্তিগফারগুলি কি কি?

১. لأَسْتَغْفِرُ اللَّهَ

আস্তাগফিরুল্লাহ

আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।

 

২. لأَسْتَغْفِرُ اللَّهَ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ

আস্তাগফিরুল্লাহ ওয়া আতুবু ইলাইহ্

আমি আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং তওবা করছি।

 

৩. أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ الَّذِي لاَ إِلَهَ إِلاَّ هُوَ الْحَىُّ الْقَيُّومُ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ

আস্তাগ্‌ফিরুল্লাহাল্লাযী লা ইলাহা ইল্লা হুয়াল হাইয়ুল্ কইয়ুম, ওয়া আতূবু ইলাইহ্

অর্থ: আল্লাহর কাছে আমি ক্ষমা চাইছি, যিনি ছাড়া কোনো মাবুদ নেই। তিনি চিরঞ্জীব, চিরস্থায়ী। আর তাঁর কাছে আমি তওবা করছি।

 

৪.

أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ الْعَظِيمَ الَّذِي لاَ إِلَهَ إِلاَّ هُوَ الْحَىَّ الْقَيُّومَ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ

আস্তাগ্‌ফিরুল্লাহাল ‘আযীমাল্লাযী লা ইলাহা ইল্লা হুয়াল হাইয়ুল্ কইয়ুম, ওয়া আতূবু ইলাইহ্

অর্থ: আমি মহান আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি—যিনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, যিনি চিরঞ্জীব ও সবকিছুর ধারক; আর আমি তাঁরই কাছে তওবা করছি।

 

৫. সাইয়্যিদুল ইসতিগফার

اللَّهُمَّ أَنْتَ رَبِّي لاَ إِلٰهَ إِلاَّ أَنْتَ خَلَقْتَنِي وَأَنَا عَبْدُكَ وَأَنَا عَلٰى عَهْدِكَ وَوَعْدِكَ مَا اسْتَطَعْتُ أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا صَنَعْتُ أَبُوءُ لَكَ بِنِعْمَتِكَ عَلَيَّ وَأَبُوءُ لَكَ بِذَنْبِي فَاغْفِرْ لِي فَإِنَّهلاَ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلاَّ أَنْتَ قَالَ

আল্লাহুম্মা আনতা রব্বী লা-ইলাহা ইল্লা আনতা খালাক্কতানী ওয়া আনা আ’বদুকা ওয়া আনা আ’লা আহ্‌দিকা ওয়া ও’য়াদিকা মাসতাত’তু আ’উযুবিকা মিন শার্‌রি মা ছা’নাতু আবূউলাকা বিনি’মাতিকা আ’লাইয়্যা ওয়া আবূউলাকা বিযানবী ফাগ্‌ফির্‌লী ফাইন্নাহু লা-ইয়াগফিরুয্‌যুনূবা ইল্লা আনতা।

অর্থ: হে আল্লাহ! তুমি আমার প্রতিপালক। তুমিই আমাকে সৃষ্টি করেছ। আমি তোমারই গোলাম। আমি যথাসাধ্য তোমার সঙ্গে কৃত প্রতিজ্ঞা ও অঙ্গীকারের উপর আছি। আমি আমার সব কৃতকর্মের কুফল থেকে তোমার কাছে আশ্রয় চাচ্ছি। তুমি আমার প্রতি তোমার যে নি’য়ামত দিয়েছ তা স্বীকার করছি। আর আমার কৃত গুনাহের কথাও স্বীকার করছি। তুমি আমাকে ক্ষমা কর।’’

 

মোনাজাত বা দোয়া করার নিয়ম আল্লাহ তাআলাই বলে দিয়েছেন

তোমরা ধৈর্য্য ও সলাতের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা কর, আর তা আল্লাহভীরু ব্যক্তিবর্গ ছাড়া অন্য সকলের কাছে নিশ্চিতভাবে কঠিন। [সূরা আল বাকারাহ, আয়াত-৪৫]

 

তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে বিনয়ের সঙ্গে এবং গোপনে আহবান কর, তিনি সীমালঙ্ঘনকারীদেরকে পছন্দ করেন না। [সূরা আল আরাফ, আয়াত-৫৫]

 

তোমার প্রতিপালককে মনে মনে বিনয়ের সঙ্গে ভয়-ভীতি সহকারে অনুচ্চস্বরে সকাল-সন্ধ্যায় স্মরণ কর আর উদাসীনদের দলভুক্ত হয়ো না। [সূরা আল আরাফ, আয়াত- ২০৫]

 

প্রিয় নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -কে বলতে শুনেছিঃ

শীঘ্রই এ উম্মাতের মধ্যে এমন একদল লোকের আবির্ভাব ঘটবে, যারা পবিত্রতা অর্জন ও দু’আর ক্ষেত্রে বাড়াবাড়ি করবে।[সুনানে আবু দাউদঃ ৯৬] হাদিসের মান: সহিহ হাদিস

 

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ

যে ব্যক্তি আমাদের এই দ্বীনের মধ্যে এমন কিছু প্রবর্তন করবে যা তাতে নেই, তা প্রত্যাখ্যাত।

 

ইবনু ঈসা (রহঃ) বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ

কোন ব্যক্তি আমাদের আচার–অনুষ্ঠানের বিপরীত কিছু প্রবর্তন করলে তা বর্জনীয়।

[সুনানে আবু দাউদঃ ৪৬০৬] হাদিসের মান: সহিহ হাদিস

 

বান্দা সাজদাহর সময়ে মহান আল্লাহর সর্বাধিক নৈকট্য লাভ করে। কাজেই এ সময় তোমরা অধিক পরিমাণে দু‘আ পাঠ করবে। [সুনানে আবু দাউদঃ ৮৭৫] [নাসায়ীঃ ১০৪৫] হাদিসের মান: সহিহ হাদিস

 

যে-সব (১৮ টি) ছোটো আমল পূর্বের সমস্ত গুনাহ মিটিয়ে দেয়

১. পরিপূর্ণভাবে ওযু করা। রাসূল () বলেছেন, “যে-ব্যক্তি পরিপূর্ণভাবে ওযু করে, তার পূর্বের সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়। ফলে তার সালত এবং মাসজিদে গমন, নফল হিসেবে বিবেচিত হয়।” (সহীহ মুসলিম, হা. ২২৯)

 

২. ওযু-পরবর্তী দুই রাকা‘আত সালাত। রাসূল () বলেছেন, “যে-ব্যক্তি অতি উত্তমভাবে ওযু করে এমনভাবে দুই রাকা‘আত সালাত আদায় করে, যাতে দুনিয়াবি কোনো চিন্তা আসে না, তাহলে তার পূর্বের সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়।” (সহীহুল বুখারী, হা.৬৪৩৩; সহীহ মুসলিম, হা.২২৬)

 

৩. রুকু থেকে দাঁড়িয়ে দু‘আ পাঠ। রাসূল () বলেছেন, “ইমাম যখন ‘সামি‘আল্লা-হু লিমান হামিদা’ বলে, তখন তোমরা ‘আল্লাহম্মা রব্বানা- লাকাল হামদ’ বলো। কেননা যার বলা ফেরেশতাদের বলার সাথে মিলে যায়, তার পূর্বের সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়।” (তিরমিযি, হা. ২৬৭; সহীহ)

 

৪. সূরা ফাতিহা শেষে 'আমীন' বলা। রাসূল () বলেছেন, “ইমাম যখন আমীন বলে, তখন তোমরা আমীন বলো। কেননা যার আমিন ফেরেশতার আমিন সাথে মিলে যায়, তার পূর্বের সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়।” (সহীহুল বুখারী, হা. ৭৮০; সহীহ মুসলিম, হা. ৪১০)

 

৫. খাবার শেষে দু‘আ পাঠ করা। রাসূল () বলেছেন, “যে-ব্যক্তি খাবার শেষে বলল, ‘আলহামদু লিল্লা-হিল্লাযী আত্ব‘আমানী হাযাত্ত্ব‘আমা ওয়া রযাক্বানীহি মিন গইরি হাওলিম মিন্নী ওয়া লা- কুউ ওয়াতিন’ তার পূর্বের সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়।” (তিরমিযি, হা. ৩৪৫৮; হাসান)

 

৬. পোশাক পরিধানের দু‘আ পাঠ করা। রাসূল () বলেছেন, “যে-ব্যক্তি পোশাক পরিধানের সময় বলে, ‘আলহামদু লিল্লা-হিল্লাযী কাসা-নী হাযা- ওয়া রযাক্বানীহি মিন গইরি হাওলিম মিন্নী ওয়া লা- কুউ ওয়াতিন’ তার পূর্বের সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়।” (আবূ দাউদ, হা. ৪০২৩; হাসান)

 

৭. রমাযানের সিয়াম পালন করা। রাসূল () বলেছেন, “যে-ব্যক্তি ঈমানের সাথে নেকীর আশায় রমাযানের সিয়াম পালন করে, তার পূর্বের সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়।” (সহহুল বুখারী, হা. ২০১৪; সহীহ মুসলিম, হা. ৭৫৯)

 

৮. রমাযানে ক্বিয়াম তথা তারাবীর সালাত আদায় করা। রাসূল () বলেছেন, “যে-ব্যক্তি ঈমানের সাথে নেকীর আশায় রমাযানে ক্বিয়াম তথা তারাবীর সালাত আদায় করে, তার পূর্বের সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়।” (সহহুল বুখারী, হা.২০১৪; সহীহ মুসলিম, হা. ৭৫৯)

 

৯. লাইলাতুল ক্বদরে ইবাদত করা। রাসূল () বলেছেন, “যে-ব্যক্তি ঈমানের সাথে নেকীর আশায় লাইলাতুল ক্বদরে ইবাদত করে, তার পূর্বের সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়।” (সহহুল বুখারী, হা. ২০১৪; সহীহ মুসলিম, হা. ৭৫৯)

 

১০. হজ্ব সম্পাদন করা। রাসূল () বলেছেন, “যে-ব্যক্তি হজ্ব সম্পাদন করে এবং এতে অন্যায়-অশ্লীল কথা ও কাজ করা থেকে বিরত থাকে, তার পূর্বের সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়।” (তিরমিযি, হা. ৮১১; সহীহ)

 

১১. আযানের দু‘আ পাঠ করা। রাসূল () বলেছেন, “মুয়াজ্জিনের আযান শুনে যে-ব্যক্তি বলে, ‘আশহাদু আল্লা-ই-লা-হা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু, লা শারিকা লাহু ওয়া আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রাসুলুহু। রাযীতু বিল্লা-হি রব্বান ওয়াবি মুহাম্মাদিন রাসুলান, ওয়াবিল ইসলামী দীনান।’ তার গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে।” (সহীহ মুসলিম, [ই.ফা.] হা. ৭৩৫, ৭৫০)

 

১২. ইস্তিগফার পাঠ করা। রাসূল () বলেছেন, “যে-ব্যক্তি ‘আস্তাগফিরুল্লাহ আল আ‘যীম আল্লাযী লা- ইলা-হা ইল্লা- হুয়াল হায়য়ুল কাইয়্যুম ওয়া আতূবু ইলাইহি’ পাঠ করে, আল্লাহ তা‘য়ালা তাকে মাফ করে দেন। যদিও সে যুদ্ধের মাঠ থেকে পলায়ন করার মত জঘন্য পাপ করে।” (তিরমিযি হা. ৩৫৭৭, সহীহ)

 

১৩. ফরয-সালাত পরবর্তী তাসবীহ, তাহমীদ ও তাকবীর পাঠ করা। রাসূল () বলেছেন, “যে-ব্যক্তি প্রত্যেক ফরয সালাতের পর ৩৩ বার সুবহা-নাল্লা-হ, ৩৩ বার আলহামদুলিল্লা-হ, ৩৩ বার আল্লাহু আকবার বলে—এই হলো ৯৯ বার - এবং ১০০ বার পূর্ণ করবেলা- ইলা-হা ইল্লাল্লাহ, ওয়াহদাহু লা- শারীকা লাহু, লাহূল মুলকু ওয়া লাহূল হামদু, ওয়া হূওয়া ‘আলা কুল্লি শায়য়িন ক্বদীর—এর মাধ্যমে, তার পূর্বের সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়; যদিও তা সমুদ্রের ফেনা পরিমাণ হয়।” সহীহ মুসলিম, হা. ৫৯৭)

 

১৪. ১০০ বার ‘সুবহা-নাল্লা-হি ওয়া বিহামদিহি’ পাঠ করা। রাসূল ‘() বলেছেন, “যে-ব্যক্তি ‘সুব্হানাল্লা-হি ওয়া বিহামদিহি’ দিনে ১০০ বার পাঠ করে, আল্লাহ তা’আলা তার সমুদ্রের ফেনারাশি পরিমাণ গুনাহ মাফ করে দেন।” (সহীহ বুখারী হা. ৬৪০৫)

 

১৫. ‘লা- ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ, ওয়াল্লাহু আকবার, ওয়া লা- হাওলা ওয়া লা- কুওওয়াতা ইল্লা-বিল্লাহ’ পাঠ করা। রাসূল () বলেছেন, “যে-ব্যক্তি ‘লা- ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ, ওয়াল্লাহু আকবার, ওয়া লা- হাওলা ওয়া লা- কুউয়্যাতা ইল্লা-বিল্লাহ’ পাঠ করবে, আল্লাহ তা’আলা তার সমুদ্রের ফেনারাশি পরিমান গুনাহ মাফ করে দেবেন।” (তিরমিযি, হা. ৩৪৬০; হাসান)

 

১৬. ফজরের সালাতের পর ১০০ বার ‘সুবহা-নাল্লা-হ’ এবং ১০০বার ‘লা- ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ’ পাঠ করা। রাসূল () বলেছেন, “যে-ব্যক্তি ফজরের সালাতের পর ১০০ বার ‘সুবহা-নাল্লা-হ’ এবং ১০০ বার ‘লা- ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ’ পাঠ করে, তার পূর্বের সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়; যদিও তা সমুদ্রের ফেনা পরিমাণ হয়।” (নাসায়ী, হা. ১৩৫৪, সহীহ)

 

১৭. বিছানায় দু‘আ পাঠ করা। রাসূল () বলেছেন, “যে-ব্যক্তি বিছানায় ‘লা- ইলা-হা ইল্লাল্লাহ, ওয়াহদাহু লা- শারীকা লাহু, লাহূল মুলকু ওয়া লাহূল হামদু, ওয়া হূওয়া ‘আলা কুল্লি শায়য়িন ক্বদীর, লা- হাওলা ওয়া লা- কুউয়্যাতা ইল্লা-বিল্লাহ, সুবহা-নাল্লা-হ, ওয়াল হামদুলিল্লা-হ, ওয়া লা- ইলা-হা ইল্লাল্লাহূ, ওয়াল্লাহু আকবার’ পাঠ করে, তাঁর সমস্ত গুনাহ মাফ করা দেওয়া হয়। যদিও তার গুনাহ সমুদ্রের ফেনার চেয়েও বেশি হয়।” (ইবনু হিব্বান, হা. ৫৫২৮, সহীহ)

 

১৮. পরস্পর সাক্ষাতে সালাম দিয়ে মুসাফাহা করা। রাসূল () বলেছেন, “দুজন মুসলমান পরস্পর মিলিত হয়ে মুসাফাহা করলে পরস্পর বিচ্ছিন্ন হওয়ার পূর্বেই তাদের ক্ষমা করে দেওয়া হয়।” (আবূ দাউদ, হা. ৫২১২, সহীহ)

 

বিদআতের ভয়াবহতা: (১৫টি পয়েন্ট)

দ্বীনের মধ্যে বিদআতের পরিণতি অতিভয়ঙ্কর। বিদআত দ্বীনকে ধ্বংস করার সবচেয়ে বড় মাধ্যম। নেক সুরতে শয়তানের ধোঁকা। তাই এ বিষয়ে সচেতন থাকা প্রত্যেক ইমানাদারের জন্য আবশ্যক।

 

নিচে বিদআতের ভয়াবহতা বিষয়ে ১৫ টি পয়েন্ট (হাদিস ও সাহাবী-তাবেঈদের উক্তি) উল্লেখ করা হল:

 

১. বিদআতীর আমল আল্লাহর কাছে অগ্রাহ্যঃ

আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন,

مَنْ عَمِلَ عَمَلًا لَيْسَ عَلَيْهِ أَمْرُنَا فَهُوَ رَدٌّ

 “যে ব্যক্তি এমন কোন কাজ করল যা দ্বীনে নেই সে কাজটি আল্লাহর কাছে পরিত্যজ্য।” (বুখারী ও মুসলিম)

 

অন্য হাদিসে এসেছে:

عَنْ عَائِشَةَ رَضِىَ اللهُ عَنْهَا قَالَتْ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم مَنْ أَحْدَثَ فِى أَمْرِنَا هَذَا مَا لَيْسَ مِنْهُ فَهُوَ رَدٌّ.

 

আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আমাদের এই দ্বীনের মধ্যে নতুন কিছুর উদ্ভব ঘটাল, যা তার মধ্যে নেই, তা প্রত্যাখ্যাত’ (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/১৪০)।

 

ফুযাইল ইবনু আয়ায (রহ.) বলেন, যখন তোমরা বিদআতপন্থী কোন লোক আসতে দেখবে সে রাস্তা ছেড়ে অন্য রাস্তা গ্রহণ করবে। বিদআতীর কোন আমল আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। যে ব্যক্তি বিদআতপন্থীকে সহযোগিতা করল সে যেন দ্বীন ধ্বংস করতে সহযোগিতা করল। (খাছায়িছূ আহলিস সুন্নাহ)

 

২. বিদআতীর তওবা গ্রহনযোগ্য হবে না যতক্ষণ না সে বিদআত সম্পূর্ণ ছেড়ে দেয়ঃ

আনাস ইবনু মালেক (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন,

إنَّ اللهَ حجب التوبةَ عن كلِّ صاحبِ بدعةٍ حتى يدَعَ بدعتَه

“আল্লাহ তাআলা বিদআতীদের থেকে তওবাকে আড়াল করে রাখেন যতক্ষণ না সে বিদআত পরিত্যাগ করেন।” (তবরানী, সহিহ তারগিব/৫৪, সনদ হাসান)

 

৩. কিয়ামতের দিন বিদআতি হাওযে কাউসারের পানি থেকে বঞ্চিত হবেঃ

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কিয়ামতের দিন বিদআতী লোকদের থেকে বেশী অসন্তুষ্টি প্রকাশ করবেন। সাহাল ইবনু সাআদ (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনك

 إِنِّي فَرَطُكُمْ عَلَى الْحَوْضِ مَنْ مَرَّ عَلَيَّ شَرِبَ ، وَمَنْ شَرِبَ لَمْ يَظْمَأْ أَبَدًا ، لَيَرِدَنَّ عَلَيَّ أَقْوَامٌ أَعْرِفُهُمْ وَيَعْرِفُونِي ، ثُمَّ يُحَالُ بَيْنِي وَبَيْنَهُمْ ، فَأَقُولُ : إِنَّهُمْ مِنِّي ، فَيُقَالُ : إِنَّكَ لَا تَدْرِي مَا أَحْدَثُوا بَعْدَكَ ، فَأَقُولُ : سُحْقًا ، سُحْقًا ، لِمَنْ غَيَّرَ بَعْدِي

আমি হাওযে কাওসারে তোমাদের অপেক্ষায় থাকব। যে ব্যক্তি সেখানে আসবে সে পানি পান করবে। আর যে ব্যক্তি একবার পানি পান করবে তার কখনো তৃষ্ণা থাকবে না। কিছু লোক এমন আসবে যাদেরকে আমি চিনব। তারাও আমাকে চিনবে। আমি মনে করব তারা আমার উম্মত তার পরও তাদেরকে আমার নিকট পর্যন্ত পৌঁছতে দেয়া হবে না। আমি বলব এরা তো আমার উম্মত।

 

আমাকে বলা হবে, আপনি জানেন না আপনি দুনিয়া থেকে চলে আসার পর এসব লোকেরা কেমন কেমন বিদআত সৃষ্টি করেছে।

 

তার পর আমি বলব, “দূর হোক, দূর হোক সে সকল লোক যারা আমার পর দ্বীনের মধ্যে পরিবর্তন সাধন করেছে। (বুখারী ও মুসলিম)

 

৪. বিদআত সৃষ্টিকারীর প্রতি আল্লাহ, তার ফেরেশতা মণ্ডলী এবং সব মানুষের অভিশাপ বর্ষিত হয়:

রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন:

 الْمَدِينَةُ حَرَمٌ مَا بَيْنَ عَيْرٍ إِلَى ثَوْرٍ، فَمَنْ أَحْدَثَ فِيهَا حَدَثًا، أَوْ آوَى مُحْدِثًا، فَعَلَيْهِ لَعْنَةُ اللهِ وَالْمَلَائِكَةِ وَالنَّاسِ أَجْمَعِينَ، لَا يَقْبَلُ اللهُ مِنْهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ صَرْفًا، وَلَا عَدْلً

মদীনা হারাম (সম্মানার্থে) আইর হতে সওর পর্যন্ত। যে তাতে কোন বিদ‘আত সৃষ্টি করবে অথবা বিদ‘আত সৃষ্টিকারীকে আশ্রয় দিবে, তার উপর আল্লাহ ও ফেরেশতাগণ এবং মানুষ সকলেরই অভিসম্পাত। তার ফরয বা নফল কিছুই কবুল করা হবে না।” (মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/২৭২৮; বঙ্গানুবাদ মিশকাত হা/২৬০৮)।

 

৫. বিদআতীকে সহযোগিতাকারীর উপর আল্লাহর অভিশাপঃ

আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, “আল্লাহ অভিশাপ করেছেন সেই ব্যক্তিকে যে আল্লাহ ব্যতিত অন্য কারো নামে জন্তু জবেহ করে। আর যে জমির সীমা চুরি করে। আর যে মাতা পিতাকে অভিশাপ দেয়। আর যে বিদআতীকে আশ্রয় দেয়। (মুসলিম)

 

৬. বিদআত থেকে যে কোন উপায়ে বাঁচার আদেশ রয়েছেঃ

ইরবায ইবনু সারিয়া বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন.

إياكم ومحدثات الأمور

“তোমরা দ্বীনের মধ্যে নিত্য-নতুন আবিষ্কার (বিদআত) থেকে বাঁচো।“ (আবু দাউদ, সহিহ। কিতাবুস সুন্নাহ ইবনু আবী আসিম)

 

৭. নিকৃষ্টতম কাজ হ’ল দ্বীনের মধ্যে নতুন সৃষ্টি করা (বিদআত তৈরি করা):

عَنْ جَابِرٍ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم أَمَّا بَعْدُ فَإِنَّ خَيْرَ الْحَدِيْثِ كِتَابُ اللهِ وَخَيْرَ الْهَدْىِ هَدْىُ مُحَمَّدٍ وَشَرَّ الأُمُوْرِ مُحْدَثَاتُهَا وَكُلُّ بِدْعَةٍ ضَلاَلَةٌ. وَفِيْ نَسَائِي (وَكُلُّ ضَلاَلَةٍ فِى النَّارِ).

জাবের (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হামদ ও ছালাতের পর বলেন, ‘নিশ্চয়ই শ্রেষ্ঠ বাণী হ’ল আল্লাহর কিতাব এবং শ্রেষ্ঠ হেদায়াত হ’ল মুহাম্মাদের হেদায়াত। আর নিকৃষ্টতম কাজ হ’ল দ্বীনের মধ্যে নতুন সৃষ্টি এবং প্রত্যেক নতুন সৃষ্টিই হ’ল ভ্রষ্টতা’ (মুসলিম, মিশকাত হা/১৪১)।

 

আর নাসাঈতে রয়েছে, ‘প্রত্যেক ভ্রষ্টতার পরিণতি জাহান্নাম’ (নাসাঈ হা/১৫৭৮)।

 

  ৮. বিদআত প্রচলনকারী নিজের গুনাহ ব্যতিত তার সৃষ্ট বিদআত মতে আমলকারী সব লোকের গুনাহের একটি ভাগ পাবেঃ

কাসীর ইবনু আব্দুল্লাহ রহঃ বলেন রাসূলুল্লাহ () বলেছেন,

عَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم قَالَ مَنْ دَعَا إِلَى هُدًى كَانَ لَهُ مِنَ الأَجْرِ مِثْلُ أُجُوْرِ مَنْ تَبِعَهُ لاَ يَنْقُصُ ذَلِكَ مِنْ أُجُوْرِهِمْ شَيْئًا وَمَنْ دَعَا إِلَى ضَلاَلَةٍ كَانَ عَلَيْهِ مِنَ الإِثْمِ مِثْلُ آثَامِ مَنْ تَبِعَهُ لاَ يَنْقُصُ ذَلِكَ مِنْ آثَامِهِمْ شَيْئًا.

আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কাউকে সৎ পথের দিকে আহ্বান করে, তার জন্য সেই পরিমাণ ছওয়াব রয়েছে, যা তার অনুসারীদের জন্য রয়েছে। অথচ এতে তাদের নিজস্ব ছওয়াবে কোনরূপ কমতি হবে না। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি কাউকে পথভ্রষ্টতার দিকে আহ্বান করে, তার জন্যও ঠিক সেই পরিমাণ গোনাহ রয়েছে, যা তার অনুসারীদের জন্য রয়েছে। অথচ তাদের নিজস্ব গোনাহে কোনরূপ কমতি হবে না’ (মুসলিম, মিশকাত হা/১৫৮)।

 

৯. ‘বিদআতি কাজে কষ্ট-পরিশ্রম করার চেয়ে মধ্যম পন্থায় সুন্নাতের উপর আমল করা অতীব উত্তম:

ইবনু মাসঊদ রা. থেকে বর্ণিতঃ

الِاقْتِصَادُ فِي السُّنَّةِ أَحْسَنُ مِنَ الِاجْتِهَادِ فِي الْبِدْعَةِ.

“বিদআতি কাজে কষ্ট-পরিশ্রম করার চেয়ে মধ্যম পন্থায় সুন্নাতের উপর আমল করা অতীব উত্তম।” (আত-তারগীব হা/৬৩-সহিহ)।

 

১০. বিদআত ফিতনায় পতিত হওয়া বা কষ্ট দায়ক শাস্তিযোগ্য হওয়ার বড় কারণঃ

ইমাম মালেক রাহঃ কে জিজ্ঞাসা করা হল, হে আবু আব্দল্লাহ! ইহরাম কোথা থেকে বাঁধব? আমি মসজিদে নববী তথা কবর শরীফের কাছ থেকে ইহরাম বাঁধতে চাই।

 

উত্তরে ইমাম মালেক বললেন: এরূপ কর না। আমার ভয় হয়, হয়ত তুমি ফিতনায় পতিত হবে।

 

লোকটি বলল, এখানে ফিতনার কী আছে? আমি তো শুধু কয়েক মাইল পূর্বে ইহরাম বাঁধতে চাইছি।

 

ইমাম মালেক বললেন: এর চেয়ে বড় ফিতনা আর কি হবে যে, তুমি মনে করছ যে ইহরাম বাঁধার সওয়াব রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে আগে বেড়ে যাচ্ছ। আল্লাহ তাআলা বলেন, “যারা আল্লাহ তায়ালার আদেশ অমান্য করে তাদের ভয় থাকা উচিৎ যেন তারা কোন ফিতনা বা কষ্ট দায়ক শাস্তিতে পতিত না হয়। (আল ইতিসাম)

 

১১. বিদআত গ্রহণকারী ব্যক্তিদের কে সুন্নাহ থেকে বঞ্চিত রাখা হয়ঃ

عَنْ حَسَّانَ قَالَ مَا ابْتَدَعَ قَوْمٌ بِدْعَةً فِيْ دِيْنِهِمْ إِلاَّ نَزَعَ اللهُ مِنْ سُنَّتِهِمْ مِثْلَهَا ثُمَّ لاَ يُعِيْدُهَا إِلَيْهِمْ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ.

হাসসান বিন আত্বিয়াহ মুহারেবী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ “যখনই কোন সম্প্রদায় তাদের দ্বীনের মধ্যে কোন বিদ‘আত সৃষ্টি করে, তখনই আল্লাহ তাদের মধ্য হতে সেই পরিমাণ সুন্নাত উঠিয়ে নেন। অতঃপর ক্বিয়ামত অবধি তা আর তাদের মধ্যে ফিরে আসে না।” (দারেমী, মিশকাত হা/১৮৮-সহিহ)

 

১২. অন্য গুনাহের চেয়ে বিদআত শয়তানের কাছে অধিক প্রিয়ঃ

সুফিয়ান ছাওরী (রহঃ) বলেন:

إن البدعة أحب إلى إبليس من المعصية لأن البدعة لا يُتاب منها والمعصية يُتاب منها

 শয়তান পাপের পরিবর্তে বিদআতকে বেশি পছন্দ করে। কারণ পাপ থেকে তো লোকেরা তওবা করে নেয় কিন্তু বিদআত থেকে তওবা করে না। (শরহুস সুন্নাহ, আত তুহফাতুল ইরাকিয়া ফিল আমাল আল কালবিয়া, পৃষ্ঠা ১২)

 

১৩. বিদআতিকে সহযোগিতা করা ইসলাম ধ্বংসে সহযোগিতা করার শামিল:

ফুযাইল ইবনে ইয়ায রাহ, বলেন:

 أعان صاحب بدعة فقد أعان على هدم الإسلام

“যে ব্যক্তি বিদআতপন্থীকে সহযোগিতা করল সে যেন দ্বীন ধ্বংস করতে সহযোগিতা করল।” (খাছায়িছূ আহলিস সুন্নাহ)

 

১৪. আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ রাঃ বিদআতীদেরকে মসজিদ থেকে বের করে দিয়েছেনঃ

আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ) জানতে পারলেন যে, কিছু লোক মসজিদে একত্রিত হয়ে উচ্চস্বরে যিকির এবং দরুদ শরীফ পড়তে ছিলেন। তিনি তাদের কাছে আসলেন এবং বললেন, আমরা রাসূল () এর যামানায় এরূপভাবে যিকির করতে বা দুরূদ পড়তে কাউকে দেখিনি। অতএব আমি তোমাদেরকে বিদআতী মনে করি। তিনি এ কথাটি বারবার বলেছিলেন, এমনকি তাদেরকে মসজিদ থেকে বের করে দিলেন। (আবূ নুআইম)

 

১৫. মুহাদ্দিসগণের নিকট বিদআতীদের হাদীস গ্রহণযোগ্য নয়ঃ

মুহাম্মাদ ইবনু সিরীন (রহ) বলেন, প্রথম প্রথম লোকেরা হাদীসের সনদ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করত না কিন্তু যখন ফিতনা, বিদআত ও মন গড়া বর্ণনা প্রসার হতে লাগল তখন হাদীসের সনদ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা অপরিহার্য হয়ে গেল। যদি হাদীস বর্ণনাকারী আহলে সুন্নাহ হয়, তাহলে তা গ্রহণ করা হয় আর যদি বর্ণনাকারী বিদআতপন্থি হয় তাহলে তার হাদীস গ্রহণ করা হয় না। (মুসলিম)

 

আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য ১৬ আমল

♦️মুমিন জীবনের প্রধান লক্ষ্য আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি ও ভালোবাসা অর্জন। তাই মুমিনের সারাদিনের সকল কাজ-কর্ম, ইবাদত-বন্দেগি হবে শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য। বান্দার সব আমলের ব্যাপারে আল্লাহ খোঁজ নেবেন এবং সে আলোকেই ফয়সালা গ্রহণ করবেন। এ ব্যাপারে তিনি পবিত্র কোরআনে ঘোষণা করেছেন, ‘আমি (আল্লাহ) ছাড়া অন্যের সন্তুষ্টির জন্য তারা যেসব আমল (ইবাদত) করেছে, আমি সেসবের খোঁজ নেব, এরপর সে আমলকে উৎক্ষিপ্ত ধূলিকণায় পরিণত করব।’ (সুরা ফুরকান: ২৩)

 

যে বান্দা আল্লাহর সন্তুষ্টি পেতে পদক্ষেপ নেন, আল্লাহ তার ওপর সন্তুষ্ট হন, ভালোবাসেন। ফেরেশতারাও তাকে ভালোবাসেন। জমিনেও তার গ্রহণযোগ্যতা বাড়িয়ে দেওয়া হয়। পরিশেষে ওই ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টি ও জান্নাত লাভে ধন্য হন। আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভে মুমিন প্রধানত যেসব আমলের প্রতি মনোযোগী হবেন এখানে সেগুলো তুলে ধরা হলো—

 

🍁১। নফল ইবাদতের প্রতি যত্নবান হওয়া—

ইসলামে নফল ইবাদত আবশ্যকীয় বিধান নয়। তবু আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন ও তাঁর সঙ্গে গভীর সম্পর্ক স্থাপনে সেসবের বিকল্প নেই। হাদিসে কুদসিতে এসেছে, আল্লাহ বলেন, ‘আমি যা কিছু আমার বান্দার ওপর ফরজ করেছি, তা দ্বারা কেউ আমার নৈকট্য লাভ করবে না। বান্দা সর্বদা নফল ইবাদত দ্বারা আমার নৈকট্য লাভ করতে থাকবে। একপর্যায়ে আমি তাকে এমন প্রিয় পাত্র বানিয়ে নিই যে আমিই তার কান হয়ে যাই, যা দিয়ে সে শোনে। আমিই তার চোখ হয়ে যাই, যা দিয়ে সে দেখে। আর আমিই তার হাত হয়ে যাই, যা দিয়ে সে ধরে। আমিই তার পা হয়ে যাই, যা দ্বারা সে চলে।’ (বুখারি: ৬৫০২)

 

🍁২। সর্বদা অন্তরে আল্লাহর স্মরণ—

চলতে-ফিরতে, মুখে-অন্তরে সর্বদা আল্লাহর স্মরণ করা আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের অন্যতম মাধ্যম। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, আল্লাহ তাআলা বলেন, আমার সম্পর্কে আমার বান্দার ধারণা মোতাবেক আমি (আচরণ করি)। আমি তার সঙ্গে থাকি, যখন সে আমাকে স্মরণ করে। যদি সে আমাকে তার অন্তরে স্মরণ করে আমি তাকে আমার অন্তরে স্মরণ করি। যদি সে আমাকে মজলিসে স্মরণ করে, আমি তাকে তাদের চেয়ে উত্তম মজলিসে স্মরণ করি। যদি সে আমার দিকে এক বিঘত অগ্রসর হয়, আমি তার দিকে এক হাত অগ্রসর হই, যদি সে আমার দিকে এক হাত অগ্রসর হয়, আমি তার দিকে এক বাহু অগ্রসর হই। যদি সে আমার দিকে আসে হেঁটে, আমি তার দিকে যাই দ্রুত।’ (বুখারি: ৭৪০৫)

 

🍁৩। পাপ থেকে বেঁচে থাকা—

আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের অন্যতম একটি উপায় হলো, পাপ কাজ ছেড়ে দেওয়া। সুতরাং পাপ যতই ক্ষুদ্র হোক পরকালীন শাস্তির কথা ভেবে তা থেকে বিরত থাকা উচিত। রাসুল (স.) আয়েশা (রা.)-কে বলেছেন, ‘হে আয়েশা, তুমি ছোট ছোট গুনাহ থেকেও নিজেকে রক্ষা করো। কেননা সেটা লেখার জন্যও আল্লাহর পক্ষ থেকে একজন ফেরেশতা নিযুক্ত আছেন।’ (মেশকাত: ৫৩৫৬)

 

🍁৪। আল্লাহর জন্য কাউকে ভালোবাসা—

কোনো মুসলমানকে ভালোবাসার কারণেও আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ করা যায়। আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (স.) ইরশাদ করেছেন, ‘এক ব্যক্তি তার কোনো (মুসলমান) ভাইয়ের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য অন্য গ্রামে রওনা হয়, পথে আল্লাহ তার জন্য একজন ফেরেশতা বসিয়ে দেন। অতঃপর তিনি একথা পর্যন্ত হাদিস বর্ণনা করেন যে, (ফেরেশতা তাকে বলেন) নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাকে এরূপ ভালোবাসেন, যেরূপ তুমি আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে অমুক ব্যক্তিকে ভালোবাস।’ (মুসলিম: ২৫৬৭)

 

🍁৫। নেয়ামতের শুকরিয়া করা—

সুখে-দুঃখে আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন মুমিনের অনন্য বৈশিষ্ট্য। অত্যন্ত উঁচু ও মহৎ এই গুণের মাধ্যমেও বান্দা ও প্রভুর সম্পর্ক মজবুত ও দৃঢ় হয়। ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমরা কৃতজ্ঞ হলে তোমাদের (আমার নিয়ামত) আরো বাড়িয়ে দেব, আর অকৃতজ্ঞ হলে (জেনে রেখো) আমার শাস্তি কঠোরতম।’ (সুরা ইবরাহিম: ৭)

 

🍁৬। কুরআন চর্চা—

পবিত্র কোরআন মহান আল্লাহর কালাম। এটি মানুষকে আলোকিত করে। মানুষকে আল্লাহর সান্নিধ্য অর্জনে সাহায্য করে। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘এটি একটি বরকতময় কিতাব, যা আমি আপনার প্রতি বরকত হিসেবে অবতীর্ণ করেছি, যাতে মানুষ এর আয়াতসমূহ লক্ষ্য করে এবং বুদ্ধিমানরা যেন তা অনুধাবন করে।’ (সুরা সদ: ২৯)

 

🍁৭। আল্লাহর গুণবাচক নামসমূহের জিকির—

অন্তরে সর্বদা আল্লাহর পবিত্র নাম ও তঁর অতুলনীয় গুণাবলীর জিকির আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের অন্যতম মাধ্যম। ইরশাদ হয়েছে, ‘আর আল্লাহর জন্য রয়েছে সব উত্তম নাম। কাজেই সে নাম ধরেই তাঁকে ডাকো। আর তাদের বর্জন করো, যারা তাঁর নামের ব্যাপারে বাঁকা পথে চলে। তারা নিজেদের কৃতকর্মের ফল শিগগিরই পাবে।’ (সুরা আরাফ: ১৮০)

 

🍁৮। সর্বদা আল্লাহর মুখাপেক্ষিতা—

আল্লাহ কারো মুখাপেক্ষী নন, সবাই তাঁর মুখাপেক্ষী—এই অনুভূতি সর্বদা অন্তরে জাগ্রত রাখা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে বড় সহায়ক। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা তাঁর অমুখাপেক্ষিতার কথা তুলে ধরে বলেন, ‘হে মানুষ, তোমরা আল্লাহর কাছে মুখাপেক্ষী। আর আল্লাহ অভাবমুক্ত, প্রশংসিত।’ (সুরা ফাতির: ১৫)

 

🍁৯। নিয়মিত আমলে আল্লাহর সন্তুষ্টি—

যেকোনো আমল নিয়মিত করা আল্লাহ তাআলার প্রিয়। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেন, ‘..মনে রেখো, আল্লাহ তাআলার কাছে সবচেয়ে পছন্দের আমল হলো যা নিয়মিত করা হয় যদিও তা পরিমাণে হয় অল্প।’ (মুসলিম : ২৮১৮)

 

🍁১০। পুণ্যবানদের সাহচর্য ও জিকিরের মজলিসে অংশগ্রহণ—

পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আপনি নিজেকে তাদের সংসর্গে আবদ্ধ রাখুন, যারা সকাল ও সন্ধ্যায় তাদের পালনকর্তাকে তাঁর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে আহ্বান করে এবং আপনি পার্থিব জীবনের সৌন্দর্য কামনা করে তাদের থেকে নিজের দৃষ্টি ফিরিয়ে নেবেন না। যার মনকে আমার স্মরণ থেকে গাফেল করে দিয়েছি, যে নিজের প্রবৃত্তির অনুসরণ করে এবং যার কার্যকলাপ হচ্ছে সীমা অতিক্রম করা, আপনি তার আনুগত্য করবেন না’ (সুরা কাহাফ: ২৮)। হাদিসের এক বর্ণনায় এসেছে, রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, তোমরা যখন জান্নাতের বাগানগুলোর পাশ দিয়ে যাবে সে সময় সেখান থেকে পাকা ফল তুলে নেবে। লোকজন প্রশ্ন করল, জান্নাতের বাগানগুলো কী? তিনি বলেন, জিকিরের মজলিস।’ (তিরমিজি: ৩৫১০)

 

🍁১১। মেসওয়াক করা—

মেসওয়াক করার মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জিত হয়। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেন, মেসওয়াক হলো মুখের পবিত্রতা ও আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের মাধ্যম। (সুনানে নাসায়ি: ৫)

 

🍁১২। পিতার সন্তুষ্টি অর্জন—

রাসুলুল্লাহ (স.) ইরশাদ করেন, পিতার সন্তুষ্টির মধ্যেই রবের সন্তুষ্টি আর পিতার অসন্তুষ্টির মধ্যেই রবের অসন্তুষ্টি রয়েছে। (তিরমিজি: ১৮৯৯)

 

🍁১৩। আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে ব্রতী হওয়া—

রাসুলুল্লাহ (স.) বলেন, যে ব্যক্তি মানুষের অসন্তুষ্টি সত্ত্বেও আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে সচেষ্ট হয়, মানুষের দুঃখ-কষ্ট থেকে বাঁচানোর জন্য আল্লাহ তাআলা তার জন্য যথেষ্ট হয়ে যান। আর যে ব্যক্তি আল্লাহকে সন্তুষ্ট করে মানুষের সন্তুষ্টি অর্জনে ব্রতী হয় আল্লাহ তাকে মানুষের দায়িত্ব ছেড়ে দেন। (তিরমিজি: ২৪১৪)

 

🍁১৪। বিপদাপদের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া—

রাসুলুল্লাহ (স.) ইরশাদ করেন, বিপদ যত মারাত্মক হবে প্রতিদান তত মহান হবে। আল্লাহ তাআলা যখন কোনো জাতিকে ভালোবাসেন, তখন বিভিন্ন বালা-মসিবত দিয়ে তাদের পরীক্ষা করেন। সুতরাং যারা এর ওপর সন্তুষ্ট থাকে তাদের জন্য রয়েছে আল্লাহর সন্তুষ্টি। আর যারা এর ওপর অসন্তুষ্ট থাকে তাদের জন্য রয়েছে মহান রবের অসন্তুষ্টি। (সুনানে তিরমিজি: ২৩৯৬)

 

🍁১৫। সকাল-সন্ধ্যায় বিশেষ দোয়া পাঠ—

রাসুলুল্লাহ (স.) ইরশাদ করেছেন, যে মুমিন বান্দা সকাল-সন্ধ্যা তিনবার এই দোয়া ‘রাদীতু বিল্লাহি রাব্বাওঁ ওয়াবিল ইসলামি দীনাওঁ ওয়া বি-মুহাম্মাদিন নাবিয়্যাওঁ ওয়ারাসূলা’ পাঠ করবে’ আল্লাহ তাআলা তাকে বিচার দিবসে অবশ্যই সন্তুষ্ট করে দেবেন। (আল আহাদ ওয়াল মাসানিলি আহমদ: ৪৭১)

 

🍁তিনটি বৈশিষ্ট্য অর্জন—

রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, আল্লাহ তাআলা তোমাদের তিনটি কাজে সন্তুষ্ট হন এবং তিনটি কাজে অসন্তুষ্ট হন। যে তিন কাজে তিনি সন্তুষ্ট হন তা হলো-

১. তোমরা তাঁরই ইবাদত করবে এবং তাঁর সঙ্গে অন্য কাউকেও শরিক করবে না।

২. আল্লাহর রজ্জু (কোরআন) মজবুত করে ধরবে।

৩. রাষ্ট্রপ্রধানকে নসিহত করবে।

 

আর যে তিন কাজে তিনি অসন্তুষ্ট হন, তা হলো-

১. অধিক কথা বলা।

২. অপব্যয় করা।

৩. অধিক ভিক্ষা করা। (মুয়াত্তা মালেক: ১৮০৪)।

 

আল-কুরআনের ৮১টি উপদেশবাণী:

১। তোমরা সত্যকে মিথ্যার সাথে মিশিয়ে দিও না। [সূরা বাকারা ২:৪২]

২। সৎকার্য নিজে সম্পাদন করার পর অন্যদের করতে বলো। [সূরা বাকারা ২:৪৪]

৩। পৃথিবীতে বিবাদ-বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করো না। [সূরা বাকারা ২:৬০]

৪। কারো মসজিদ যাওয়ার পথে বাধা সৃষ্টি করো না। [সূরা বাকারা ২:১১৪]

৫। কারো অন্ধানুসরণ করো না। [সূরা বাকারা ২:১৭০]

৬। প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করো না। [সূরা বাকারা ২:১৭৭]

৭। ঘুসে লিপ্ত হয়ো না। [সূরা বাকারা ২:১৮৮]

৮। যারা তোমাদের সঙ্গে লড়াই করবে, শুধু তাদের সঙ্গে তোমরা লড়াই করো। [সূরা বাকারা ২:১৯০]

৯। লড়াইয়ের বিধি মেনে চলো। [সূরা বাকারা ২:১৯১]

১০। অনাথদের রক্ষণাবেক্ষণ করো। [সূরা বাকারা ২:২২০]

১১। রজঃস্রাব কালে যৌনসঙ্গম করো না। [সূরা বাকারা ২:২২২]

১২। শিশুকে পূর্ণ দুই বছর দুগ্ধপান করাও। [সূরা বাকারা ২:২৩৩]

১৩। সৎগুণ দেখে শাসক নির্বাচন করো। [সূরা বাকারা ২:২৪৭]

১৪। দ্বিনের ব্যাপারে কোনো জবরদস্তি নেই। [সূরা বাকারা ২:২৫৬]

১৫। প্রতিদান কামনা করে দাতব্য বিনষ্ট করো না। [সূরা বাকারা ২:২৬৪]

১৬। প্রয়োজনে তাদের সহযোগিতা করো। [সূরা বাকারা ২:২৭৩]

১৭। সুদ ভক্ষণ করো না। [সূরা বাকারা ২:২৭৫]

১৮। যদি ঋণী অভাবগ্রস্ত হয়,তবে তাকে সচ্ছলতা আসা পর্যন্ত সময় দাও। [সূরা বাকারা ২:২৮০]

১৯। ঋণের বিষয় লিখে রাখো। [সূরা বাকারা ২:২৮২]

২০। আমানত রক্ষা করো। [সূরা বাকারা ২:২৮৩]

২১। গোপন তত্ত্ব অনুসন্ধান করো না এবং পরনিন্দা করো না। [সূরা বাকারা ২:২৮৩]

২২। সমস্ত নবির প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করো। [সূরা বাকারা ২:২৮৫]

২৩। সাধ্যের বাইরে কারো উপর বোঝা চাপিয়ে দিও না। [সূরা বাকারা ২:২৮৬]

২৪। তোমরা পরস্পর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ো না। [সূরা আল-ইমরান ৩:১০৩]

২৫। ক্রোধ সংবরণ করো। [সূরা আল-ইমরান ৩:১৩৪]

২৬। রূঢ় ভাষা ব্যবহার করো না। [সূরা আল-ইমরান ৩:১৫৯]

২৭। এই বিশ্বের বিস্ময় ও সৃষ্টি নিয়ে গভীর চিন্তাভাবনা করো। [সূরা আল-ইমরান ৩:১৯১]

২৮। পুরুষ ও নারী উভয়ই তাদের কৃতকর্মের সমান প্রতিদান পাবে। [সূরা আল-ইমরান ৩:১৯৫]

২৯। মৃতের সম্পদ তার পরিবারের সদস্যসের মাঝে বন্টন করতে হবে। [সূরা নিসা ৪:৭]

৩০। উত্তরাধিকারের অধিকার নারীদেরও আছে। [সূরা নিসা ৪:৭]

৩১। অনাথদের সম্পদ আত্মসাৎ করো না। [সূরা নিসা ৪:১০]

৩২। যাদের সাথে রক্তের সম্পর্ক তাদের বিবাহ করো না। [সূরা নিসা ৪:২৩]

৩৩। অন্যায়ভাবে কারো সম্পদ ভক্ষণ করো না। [সূরা নিসা ৪:২৯]

৩৪। পরিবারের উপর কর্তৃত্ব চালাবে পুরুষ। [সূরা নিসা ৪:৩৪]

৩৫। অন্যদের জন্য সদাচারী হও। [সূরা নিসা ৪:৩৬]

৩৬। কার্পণ্য করো না। [সূরা নিসা ৪:৩৭]

৩৭। বিদ্বেষী হয়ো না। [সূরা নিসা ৪:৫৪]

৩৮। মানুষের সাথে ন্যায়বিচার করো। [সূরা নিসা ৪:৫৮]

৩৯। একে অপরকে হত্যা করো না। [সূরা নিসা ৪:৯২]

৪০। বিশ্বাসঘাতকদের পক্ষ নিয়ে বিতর্ক করো না। [সূরা নিসা ৪:১০৫]

৪১। ন্যায়ের উপর প্রতিষ্ঠিত থেকো। [সূরা নিসা ৪:১৩৫]

৪২। সৎকার্যে পরস্পরকে সহযোগিতা করো। [সূরা মায়িদা ৫:২]

৪৩। সীমালঙ্ঘনের ব্যাপারে একে অন্যের সহায়তা করো না। [সূরা মায়িদা ৫:২]

৪৪। মৃত পশু, রক্ত ও শূয়োরের মাংসা নিষিদ্ধ। [সূরা মায়িদা ৫:৩]

৪৫। সৎপরায়ণ হও। [সূরা মায়িদা ৫:৮]

৪৬। অপরাধীকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাও। [সূরা মায়িদা ৫:৩৮]

৪৭। পাপ ও অবৈধ জিনিসের বিরুদ্ধে শ্রম ব্যয় করো না। [সূরা মায়িদা ৫:৬৩]

৪৮। মাদক দ্রব্য ও আলকোহল বর্জন করো। [সূরা মায়িদা ৫:৯০]

৪৯। জুয়া খেলো না। [সূরা মায়িদা ৫:৯০]

৫০। ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের উপাস্যদের গালমন্দ করো না। [সূরা মায়িদা ৫:১০৮]

৫১। আধিক্য সত্যের মানদণ্ড নয়। [সূরা আন’আম ৬:১১৬]

৫২। মানুষকে প্রতারণা দেওয়ার জন্য ওজনে কম দিও না। [সূরা আন’আম ৬:১৫২]

৫৩। অহংকার করো না। [সূরা আ’রাফ ৭:১৩]

৫৪। পানাহার করো, কিন্তু অপচয় করো না। [সূরা আ’রাফ ৭:৩১]

৫৫। সালাতে উত্তম পোশাক পরিধান করো। [সূরা আ’রাফ ৭:৩১]

৫৬। অন্যদের ত্রুটিবিচ্যুতি ক্ষমা করো। [সূরা আ’রাফ ৭:১৯৯]

৫৭। যুদ্ধে পশ্চাদ্‌মুখী হয়ো না। [সূরা আনফাল ৮:১৫]

৫৮। যারা নিরাপত্তা কামনা করছে তাদের সহযোগিতা করো ও নিরাপত্তা দাও। [সূরা তওবা ৯:৬]

৫৯। পবিত্র থেকো। [সূরা তওবা ৯:১০৮]

৬০। আল্লাহ্‌ তাআলার অনুগ্রহ হতে নিরাশ হয়ো না। [সূরা ইউসুফ ১২:৮৭]

৬১। যারা অজ্ঞতাবশত ভুলত্রুটি করে আল্লাহ্‌ তাআলা তাদেরকে ক্ষমা করবেন। [সূরা নাহ্‌ল ১৬:১১৯]

৬২। প্রজ্ঞা ও উত্তম নির্দেশনা দ্বারা আল্লাহ্‌ তাআলার প্রতি আহ্বাব করা উচিত। [সূরা নাহ্‌ল ১৬:১১৯]

৬৩। কেউ কারো পাপের বোঝা বহন করবে না। [সূরা ইসরা ১৭:১৫]

৬৪। পিতামাতার সাথে সদ্ব্যবহার করো। [সূরা ইসরা ১৭:২৩]

৬৫। পিতামাতাকে অশ্রদ্ধা করে কোনো কথা বলো না। [সূরা ইসরা ১৭:২৩]

৬৬। অর্থ অপচয় করো না। [সূরা ইসরা ১৭:২৯]

৬৭। দারিদ্রের আশঙ্কায় সন্তানসন্ততিকে হত্যা করো না। [সূরা ইসরা ১৭:৩১]

৬৮। অবৈধ যৌনাচারে লিপ্ত হয়ো না। [সূরা ইসরা ১৭:৩২]

৬৯। যে বিষয়ে জ্ঞান নেই তার অনুবর্তী হয়ো না। [সূরা ইসরা ১৭:৩৬]

৭০। শান্তভাবে কথা বলো। [সূরা ত্বা-হা ২০:৪৪]

৭১। অনর্থ জিনিস থেকে দূরে থেকো। [সূরা মু’মিনুন ২৩:৩]

৭২। অনুমতি ছাড়া কারো গৃহে প্রবেশ করো না। [সূরা নূর ২৪:২৭]

৭৩। যারা শুধু আল্লাহ্‌ তাআলার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করেন তিনি তাদেরকে নিরাপত্তা দেন। [সূরা নূর ২৪:৫৫]

৭৪। বিনা অনুমতিতে পিতামাতার ব্যক্তিগত ঘরে প্রবেশ করো না। [সূরা নূর ২৪:৫৮]

৭৫। বিনয় সহকারে ভূপৃষ্ঠে বিচরণ করো। [সূরা ফুরকান ২৫:৬৩]

৭৬। এই পৃথিবীতে তুমি তোমার অংশকে উপেক্ষা করো না। [সূরা কাসাস ২৮:৭৭]

৭৭। আল্লাহ্‌র সাথে অন্য কোনো বাতিল উপাস্যকে ডেকো না। [সূরা কাসাস ২৮:৮৮]

৭৮। সমকামিতায় লিপ্ত হয়ো না। [সূরা আন্‌কাবুত ২৯:২৯]

৭৯। সৎকার্যের আদেশ করো এবং অসৎকার্য হতে নিষেধ করো। [সূরা লোকমান ৩১:১৭]

৮০। দম্ভভরে ভুপৃষ্ঠে বিচরণ করো না। [সূরা লোকমান ৩১:১৮]

৮১। কণ্ঠস্বর অবনমিত করো। [সূরা লোকমান ৩১:১৯]

 

জিহ্বা দিয়ে যে ১৯টি পাপ সংঘটিত হয়!!

১) অপবাদ দেয়া।

২) মিথ্যা স্বপ্ন বলা।

৩) চোগলখুরী করা।

৪) কারও গীবত করা।

৫) কারও নিন্দা করা।

৬) কাউকে গালি দেয়া।

৭) খারাপ উপনামে ডাকা।

৮) কাউকে অভিশাপ দেয়া।

৯) অশ্লীল ও খারাপ কথা বলা।

১০) খারাপ ঠাট্টা বা বিদ্রূপ করা।

১১) বেহুদা ও অতিরিক্ত কথা বলা।

১২) অনর্থক চিৎকার বা চেঁচামিচি করা।

১৩) বিনা প্রয়োজনে গোপনীয়তা ফাঁস করে দেয়া।

১৪) কারও নাম খারাপ করে ডাকা/নাম ব্যঙ্গ করা।

১৫) কাউকে সামনা-সামনি বা সম্মুখে প্রশংসা করা।

১৬) মোনাফিকী করা ও দুই মুখে (দ্বিমুখী) কথা বলা।

১৭) জিহ্বা দিয়ে হারাম বস্তুর স্বাদ নেয়া, গ্রহণ করা বা খাওয়া।

১৮) জিহ্বা দিয়ে খারাপ অর্থে কাউকে কোন ভঙ্গি করা বা দেখানো।

১৯) বাতিল ও হারাম জিনিস নিয়ে আলোচনা করে আনন্দ লাভ করা।

 

নিম্নোক্ত হাদিসটি আমাদের সবসময় সামনে রাখা উচিত:

সাহাল ইবনে সায়াদ (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ্ (স:) বলেছেন, 'যে ব্যক্তি দুই চোয়ালের মধ্যবর্তী অঙ্গ (জিহ্বা) এবং দুই উরুর মধ্যবর্তী অঙ্গ (লজ্জাস্থান) হেফাজতের নিশ্চয়তা দেবে, আমি তার জন্য জান্নাতের নিশ্চয়তা দেব।' (বুখারী: ৬৪৭৪)

 

রিযিক বন্ধ হয়ে যাওয়ার ২০টি গুনাহ।

১. সুদ (Riba):

যে ব্যবস্থার বিরুদ্ধে আল্লাহ নিজেই যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন, সেখানে কখনো বারকাহ আসতে পারে না।

📖 রেফারেন্স: সূরা আল-বাকারা ২৭৯ — “আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের পক্ষ থেকে যুদ্ধের ঘোষণা।”

 

২. অকৃতজ্ঞতা:

যে রিযিককে তুমি তুচ্ছ করো, সেটাই ধীরে ধীরে তোমার হাত থেকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়।

📖 রেফারেন্স: সূরা ইবরাহীম ৭ — “কৃতজ্ঞ হলে বাড়িয়ে দেব, অকৃতজ্ঞ হলে শাস্তি কঠিন।”

 

৩. আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করা:

রিযিকের সাথে আত্মীয়তার সম্পর্ক সরাসরি যুক্ত। সম্পর্ক কেটে দিলে রিযিকের দরজা বন্ধ হয়।

📖 হাদিস: “যে রিযিক বাড়াতে চায়, সে যেন আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখে।” — বুখারি ২৯৮৬

 

৪. অসততা:

ব্যবসায় মিথ্যা বললে সাময়িক লাভ হতে পারে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে রিযিক নষ্ট হয়।

 

৫. প্রতারণা:

কারও হক মেরে খেলে প্রতিটি হারাম টাকা জীবনে অভাব ডেকে আনে।

📖 হাদিস: “যে প্রতারণা করে, সে আমার উম্মতের মধ্যে নয়।” — মুসলিম ১০২

 

৬. সালাত অবহেলা:

আজান–সালাত গুরুত্বহীন মনে করলে রিযিকের বারকাহ কমে যায়।

📖 হাদিস: “রিযিক সালাতে আছে।” — সহিহ অর্থে বহু বর্ণনায় প্রমাণিত

 

৭. গীবত:

অন্যের পিঠ পেছনে খারাপ বলা তোমার নিজ জীবনের বারকাহ খেয়ে ফেলে।

📖 সূরা হুজুরাত ১২

 

৮. অহংকার:

রিযিক উপহার, প্রমাণ নয় যে তুমি শ্রেষ্ঠ। অহংকার আসমানের দরজা বন্ধ করে দেয়।

📖 হাদিস: “যার অন্তরে অহংকারের অণু পরিমাণ থাকে, সে জান্নাতে যাবে না।” — মুসলিম ৯১

 

৯. যাকাত আটকে রাখা:

যাকাত না দিলে সম্পদ অপবিত্র হয়ে যায় এবং ধ্বংস হতে থাকে।

📖 সূরা তাওবা ৩৪-৩৫

 

১০. কর্মচারীদের ওপর জুলুম:

যাদের তোমার ওপর কিছুটা অধিকার আছে, তাদের হক না দিলে রিযিক শুকিয়ে যায়।

📖 হাদিস: “মজদুরের মজুরি ঘাম শুকানোর আগেই পরিশোধ করো।” — ইবন মাজাহ ২৪৪৩

 

১১. বেচাকেনায় প্রতারণা বা জিনিসের দোষ লুকানো:

এতে সম্পদের বারকাহ সম্পূর্ণ তুলে নেওয়া হয়।

 

১২. লোভ:

যে শুধু আরও আরও চায় কিন্তু আলহামদুলিল্লাহ বলে না—সে শেষ পর্যন্ত কম পায়।

📖 হাদিস: “মানুষের মন যদি দুই পাহাড় ভরা সম্পদ পায়, তবুও সে তৃতীয়টি চাইবে।” — বুখারি ৬৪৩৯

 

১৩. বাবা–মাকে অবহেলা:

তোমার রিযিক তাদের দোয়া বা অভিশাপের সাথে জড়িত।

📖 হাদিস: “রিযিক ও আয়ু বাড়ে বাবা-মাকে সন্তুষ্ট রাখলে।” — মুসলিম (হাসান সনদে বহু রেওয়ায়েতে প্রমাণিত)

 

১৪. জুলুম করে সম্পদ অর্জন:

জুলুমের সম্পদে কোনো বারকাহ নেই, বরং ধ্বংস ডেকে আনে।

 

১৫. সদকা অবহেলা:

সদকা কখনো সম্পদ কমায় না, বরং বাড়ায়।

📖 হাদিস: “সদকা সম্পদ কমায় না।” — মুসলিম ২৫৮৮

 

১৬. হিংসা:

অন্যের রিযিক দেখে মন খারাপ করা নিজের রিযিকের দরজা বন্ধ করে দেয়।

 

১৭. নারীদের ও বাচ্চাদের প্রতি জুলুম:

যাদের যত্নের অধিকার সবচেয়ে বেশি, তাদের প্রতি অন্যায় করলে রিযিক উঠে যায়।

 

১৮. মিথ্যা কসম খাওয়া:

টাকা বা ব্যবসার জন্য মিথ্যা শপথ বারকাহ পুড়িয়ে ফেলে।

📖 বুখারি ২০৮৭

 

১৯. অলসতা:

রিযিক চেষ্টা করা মানুষের কাছে আসে। যারা চেষ্টা করে না, ভাগ্যও দরজা খোলে না।

 

২০. তাকদির নিয়ে অসন্তুষ্টি:

আল্লাহর সিদ্ধান্ত নিয়ে অভিযোগ করা ভবিষ্যতের রিযিকের দরজা বন্ধ করে দেয়।

📖 হাদিস: “আল্লাহ্‌র সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট থাকলে সে হৃদয়কে পরিপূর্ণ করেন।” — তিরমিজি ২৫১০

 

কুরআন ও হাদীসের আলোকে কিছু উপদেশ

১. সময়মতো নামাজ পড়ো এটা তোমার দিনের কেন্দ্রবিন্দু এবং বরকতের চাবিকাঠি। (সূরা আনকাবুত 29:45)

২. নিজেকে শৃঙ্খলিত করো- আত্মনিয়ন্ত্রণ ছাড়া স্বপ্ন শুধু স্বপ্নই থেকে যায়। (সূরা আল-হাশর 59:18)

৩. গোপনে হারাম থেকে বাঁচো একা থাকলে যা করো, সেটাই তোমার আসল পরিচয়। (সূরা আল-মুলক 67:12)

৪. সফর করো – আল্লাহর সৃষ্টি দেখো, জ্ঞান অর্জন করো, আর স্বাচ্ছন্দ্যের গণ্ডি ভাঙো। (সূরা আল-আনকাবুত 29:20)

৫. প্রতিদিন কুরআন পড়ো এক পৃষ্ঠা হলেও আল্লাহর সাথে সংযোগ তৈরি হয়। (সূরা ফাতির 35:29)

৬. দৃষ্টি হেফাজত করো- এটা তোমার হৃদয়কে অযাচিত বাসনা ও আফসোস থেকে রক্ষা করে। (সূরা আন-নূর 24:30-31)

৭. জবান নিয়ন্ত্রণ করো জিহ্বা এমন ক্ষত করে, যা হাতের আঘাতের থেকেও দ্রুত ধ্বংস করে। (তিরমিযি 2616)

৮. বেসিক ফিকহ ও আকীদা শিখো- জ্ঞান ছাড়া আল্লাহর ইবাদত সঠিকভাবে করা যায় না। জ্ঞান ঈমান বাড়ায়। (সুনান ইবনে মাজাহ 224)

৯. নিয়মিত দান করো দান কখনো সম্পদ কমায় না, বরং বাড়ায়। (মুসলিম 2588)

১০. ঋণ থেকে দূরে থাকো - এটা স্বাধীনতা ও বরকত কেড়ে নেয়। (বুখারি 2397)

১১. শরীরকে শক্ত রাখো- স্বাস্থ্য একটি আমানত; শক্তি ইবাদত ও কাজে সহায়তা করে। (বুখারি 18)

১২. মূল্যবান কোনো দক্ষতা অর্জন করো - যাতে তুমি হালাল উপার্জন করতে পারো, কারো চাকরির উপর নির্ভর না করে। (তিরমিযি 1130)

১৩. অযথা বিয়েতে দেরি করো না - "পারফেক্ট টাইম" এর পিছনে ছোটা অনেক সময় ফিতনার দিকে নিয়ে যায়। (বুখারি 5065, মুসলিম 1400)

১৪. সঠিক বন্ধুর সঙ্গ নাও – তারা তোমাকে জান্নাতের দিকে টানতে পারে, বা জাহান্নামের দিকে ঠেলে দিতে পারে। (আবু দাউদ 4833)

১৫. মৃত্যুকে স্মরণ করো- এটা তোমার অগ্রাধিকার ঠিক রাখে। (তিরমিযি 2307)

 

তাহাজ্জুদের সওয়াব মেলে যে ৭ আমলে

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘আল্লাহতায়ালা প্রতি রাতের শেষ তৃতীয়াংশ অবশিষ্ট থাকাকালে পৃথিবীর নিকটবর্তী আসমানে অবতরণ করে বলতে থাকেন, কে আছে এমনযে আমাকে ডাকবে? আমি তার ডাকে সাড়া দিব। কে আছে এমনযে আমার কাছে চাইবে? আমি তাকে তা দিব। কে আছে এমনআমার কাছে ক্ষমা চাইবে? আমি তাকে ক্ষমা করব। (বুখারি, হাদিস: ১১৪৫)

 

রাসুলুল্লাহ (সা.) তাহাজ্জুদের ব্যাপারে বেশ সজাগ ছিলেন। নিয়মিত আদায় করতেন। আয়েশা (রা.) বলেন, ‘হে আবদুল্লাহ! কিয়ামুল লাইল (তাহাজ্জুদের নামাজ) কখনও ছেড়ো না। কারণ রাসুলুল্লাহ (সা.) তা কখনও ছাড়েননি। কখনও অসুস্থতা বা দুর্বলতা বোধ করলে বসে আদায় করতেন।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ১৩০৯)

 

অনেকে চেষ্টা করেন তাহাজ্জুদ আদায় করতে। কিন্তু ঘুম থেকে উঠতে পারেন না। এমন ৭টি আমল রয়েছে, যেগুলো আদায় বা বাস্তবায়ন করলে তাহাজ্জুদের নামাজ আদায়ের সমপরিমাণ সওয়াব অর্জন করা সম্ভব। আমলগুলো হলো

 

১. জামাতের সঙ্গে এশা ও ফজরের নামাজ আদায় করা: রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে এশা ও ফজরের নামাজ জামাতের সঙ্গে আদায় করল, সে যেন পূর্ণ রাত নফল (তাহাজ্জুদের) নামাজ আদায় করল।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ৫৫৫)

 

২. রাতে পবিত্র কোরআনের ১০০ আয়াত তেলাওয়াত করা: রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে রাতে ১০০ আয়াত তেলাওয়াত করবে, তার জন্য পুরা রাত ইবাদাতে কাটানোর সওয়াব লেখা হবে।’ (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস : ১৬৯৫৮)

 

৩. তাহাজ্জুদের নামাজ আদায়ের নিয়ত করে রাতে ঘুমানো: রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে তাহাজ্জুদের নামাজ আদায় করার নিয়ত করে ঘুমাতে যায়, এরপর চোখে প্রবল ঘুম থাকার কারণে জাগতে জাগতে ভোর হয়ে যায়, তার জন্য তার নিয়ত অনুসারে সওয়াব লেখা হবে এবং আল্লাহতায়ালার পক্ষ থেকে তার ঘুম তার জন্য সদকাস্বরূপ হবে। (নাসায়ি, হাদিস : ১৭৮৭)

 

৪. ইমামের সঙ্গে পরিপূর্ণভাবে তারাবির নামাজ আদায় করা: আবু জর গিফারি (রা.)-এর এক প্রশ্নের উত্তরে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘কোনও ব্যক্তি যদি ইমামের সঙ্গে শেষ পর্যন্ত নামাজ আদায় করে, তাহলে তাকে পুরো রাত নামাজ আদায়কারী হিসেবে গণ্য করা হবে। (আবু দাউদ, হাদিস : ১৩৭৫)

উল্লিখিত হাদিসেনামাজবলতে রমজানে তারাবির নামাজকে বোঝানো হয়েছে বলে অধিকাংশ ইসলামি স্কলারের অভিমত রয়েছে। (মিরকাতুল মাফাহিত, খণ্ড : ৪, পৃষ্ঠা-৩১৮)

 

৫. বিধবা ও মিসকিনদের পাশে দাঁড়ানো। তাদের সহযোগিতা করা: রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘বিধবা ও মিসকিনদের অভাব দূর করার জন্য সচেষ্ট ব্যক্তি আল্লাহ রাস্তার মুজাহিদের মতো অথবা ওই ব্যক্তির মতো (সাওয়াব পাবে) যিনি রাতে তাহাজ্জুদের নামাজ আদায় করে এবং দিনে রোজা রাখে।’ (বুখারি, হাদিস : ৫৩৫৩)

 

৬. যথাযথ আদব ও সুন্নত মেনে জুমার নামাজ আদায় করা: রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে জুমার দিন (ফরজ গোসলের মতো) ভালোভাবে গোসল করবে, সকাল সকাল (মসজিদের উদ্দেশে) ঘর থেকে বের হবে, কোনও বাহনে না চড়ে হেঁটে মসজিদের যাবে, ইমামের কাছাকাছি বসবে এবং কোনও ধরনের অনর্থক কথা না বলে মনোযোগ সহকারে খুতবা শুনবে; তিনি মসজিদে যাওয়ার প্রতি কদমের বিনিময়ে এক বছর রোজা রাখা এবং রাতভর তাহাজ্জুদের নামাজ আদায় করার সমপরিমাণ সওয়াব পাবে।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ৩৪৫)

 

৭. আল্লাহর রাস্তায় দ্বীনের জন্য পাহারাদারি করা: রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘এক দিন ও এক রাত আল্লাহর রাস্তায় সীমান্ত পাহারা দেওয়া এক মাস ধরে রোজা রাখা এবং রাতে তাহাজ্জুদের নামাজ আদায় করার চেয়েও শ্রেষ্ঠ।’ (মুসলিম, হাদিস : ১৯১৩)

 

যে ৮টি আমলের কারণে ফেরেশতা মণ্ডলী মানুষের জন্য দুআ করে:

নি:সন্দেহে ফেরেশতাদের পক্ষ থেকে মানুষের দুআ পাওয়ার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ তারা নিষ্পাপ ও পূত-পবিত্র। তারা কখনও আল্লাহর অবাধ্যতা করে না। সুতরাং তাদের দুআ কবুলের সম্ভাবনা খুব বেশি।

 

সহিহ বুখারির ভাষ্যকার ইবনে বাত্তাল বলেন,

ومعلوم أن دعاء الملائكة مجاب " انتهى من " شرح صحيح البخارى

“এটা জানা কথা যে, ফেরেশতাদের দুআ কবুল হয়।” (বুখারি ৩/৪৩৯)

 

সিন্ধি বলেন,

 دُعَاءُ الْمَلَائِكَةِ يُرْجَى اسْتِجَابَتُهُ " انتهى من " حاشية السندي على سنن ابن ماجه

”ফেরেশতাদের দুআ কবুলের আশা করা যায়।” (ইবনে মাজাহ এর পাদটীকা হাশিয়াতুস সিন্দী ২/২২৪)

 

মোবারক পুরী মিশকাতুল মাসাবিহ এর ব্যাখ্যা গ্রন্থে বলেন,

دعاء الملائكة مستجاب " انتهى من " مرعاة المفاتيح

”ফেরেশতাদের দুআ কবুল হয়।” (মিরআতুল মাফাহিত শরহু মিশকাতুল মাসাবিহ ৫/৩০৯)

 

সুতরাং আমাদের জানা দরকার যে, কোন কোন আমল করলে ফেরেশতা মণ্ডলী আমাদের জন্য দুআ করবে। এ মর্মে বেশ কিছু আমল বর্ণিত হয়েছে। সে গুলো থেকে

 

সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ৮'টি আমল নিম্নে উপস্থাপন করা হল:

 

১) মানুষকে দীনের জ্ঞান ও কল্যাণকর বিষয় শিক্ষা দান করা:

আবু উমামা রা. হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,

إِنَّ اللَّهَ وَمَلائِكَتَهُ حَتَّى النَّمْلَةَ فِي جُحْرِهَا، وَحَتَّى الْحُوتَ فِي الْبَحْرِ لَيُصَلُّونَ عَلَى مُعَلِّمِ النَّاسِ الْخَيْرَ"

“নিশ্চয় আল্লাহ রহমত বর্ষণ করেন এবং ফেরেশতা মণ্ডলী এমন কি গর্তের পিপীলিকা এবং সাগরের মাছ ঐ ব্যক্তির জন্য রহমত ও মাগফেরাতের দুয়া করে যে মানুষকে কল্যাণকর বিষয় (তথা দীনের জ্ঞান) শিক্ষা প্রদান করেন।”

(তিরমিযী, হাদিস নং ২৬০৯, তিনি বলেন হাদিসটি হাসান গরীব। শাইখ আলবানি বলেন, হাসান। দ্রষ্টব্য: সহীহ তারগীব ওয়াত তারহীব)

 

২) জামায়াতের ১ম কাতারে সালাত আদায় করা:

বারা ইবনে আযিব রা. হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে বলতে শুনেছি: إِنَّ اللَّهَ وَمَلَائِكَتَهُ يُصَلُّونَ عَلَى الصَّفِّ الْأَوَّلِ

“নিশ্চয় আল্লাহ রহমত বর্ষণ করেন এবং ফেরেশতা মণ্ডলী রহমতের দুয়া করেন প্রথম কাতারে সালাত আদায়কারীদের জন্য।”

(সুনান ইবনে মাজাহ, অনুচ্ছেদ: প্রথম কাতারে মর্যাদা, হাদিস নং ৯৮৭, সনদ হাসান-আলবানী, দ্রষ্টব্য: সহীহ তারগীব ওয়াত তারহীব ১/১১৮)

 

৩) কাতারে ডান দিকে সালাত আদায় করা:

আয়েশা রা. হতে বর্ণিত। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,

إِنَّ اللَّهَ وَمَلَائِكَتَهُ يُصَلُّونَ عَلَى مَيَامِنِ الصُّفُوفِ

“নিশ্চয় আল্লাহ রহমত বর্ষণ করেন এবং ফেরেশতা মণ্ডলী রহমতের দুয়া করেন ঐ সকল লোকের জন্য যারা কাতারের ডান পাশে সালাত আদায় করে।”

(সুনান আবু দাউদ, হাদিস নং ৫৭৮, সনদ হাসান-আলবানী)

 

৪) কাতারের সাথে মিলে ফাঁকা জায়গা পূরণ করা:

আয়েশা রা. হতে বর্ণিত। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,

إِنَّ الله عَزَّ وَجَلَّ وَمَلائِكَتَهُ يُصَلُّونَ عَلَى الَّذِينَ يَصِلُونَ الصُّفُوفَ وَمَنْ سَدَّ فُرْجَةً رَفَعَهُ اللَّهُ بِهَا دَرَجَةً

“নিশ্চয় আল্লাহ রহমত বর্ষণ করেন এবং ফেরেশতা মণ্ডলী রহমতের দুয়া করেন ঐ সকল লোকের প্রতি যারা কাতারের সাথে মিলিত হয়ে সালাত আদায় করে এবং যে ব্যক্তি কাতারের ফাঁকা জায়গা পূরণ করে আল্লাহ তায়ালা এর কারণে তার মর্যাদা বৃদ্ধি করেন।”

(সুনান ইবনে মাজাহ, অনুচ্ছেদ, কাতার সোজা করা, হাদিস নং ৯৮৫। সনদ হাসান-আলবানী। দ্রষ্টব্য: সহীহ তারগীব ওয়াত তারহীব ১/১২১)

 

৫) নামাযের স্থানে বসে থাকা:

আবু হুরায়রা রা. হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,

لا تَزَالُ الْمَلائِكَةُ تُصَلِّي عَلَى أَحَدِكُمْ مَا دَامَ فِي مَسْجِدِهِ: اللَّهُمَّ اغْفِرْ لَهُ، اللَّهُمَّ ارْحَمْهُ، مَا لَمْ يُحْدِثْ

“তোমাদের কোন ব্যক্তি যতক্ষণ মসজিদের ভেতরে (অন্য বর্ণনায়, তার নামাজের স্থানে) অবস্থান করতে থাকে ততক্ষণ পর্যন্ত ফেরেশতা মণ্ডলী তার জন্য এ বলে দুয়া করতে থাকে যে, হে আল্লাহ, তাকে ক্ষমা করে দাও, তার প্রতি রহম কর। তার ওযু না ছুটে যাওয়া পর্যন্ত তারা তার জন্য এভাবে দুয়া করতে থাকে।”

 

হাজরা মাউতে এক লোক এ হাদিস শুনে আবু হুরায়রা রা. কে জিজ্ঞেস করল, হে আবু হুরায়রা, ওযু ছুটার অর্থ কী? তিনি বললেন, আল্লাহ সত্যের ব্যাপারে লজ্জা করেন না। ওযু ছুটে যাওয়া মানে বায়ু বের হওয়া।

[আল মুজামুল কাবীর (আল জুযউল মাফকূদ) তবরানী, হাদিস নং ১৪, শামেলা]

 

৬) রোযার জন্য সেহেরী খাওয়া:

আবু সাঈদ খুদরী রা. হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,

السَّحُورُ أَكْلُهُ بَرَكَةٌ، فَلَا تَدَعُوهُ، وَلَوْ أَنْ يَجْرَعَ أَحَدُكُمْ جُرْعَةً مِنْ مَاءٍ، فَإِنَّ اللهَ عَزَّ وَجَلَّ وَمَلَائِكَتَهُ يُصَلُّونَ عَلَى الْمُتَسَحِّرِينَ

“সেহেরী খাওয়া বরকতের বিষয়। অত:এব তোমরা তা পরিত্যাগ করিও না। এমনকি এক ঢোক পানি পান করে হলেও। কারণ আল্লাহ তায়ালা যারা সেহেরী খায় তাদের প্রতি রহমত বর্ষণ করেন এবং ফেরেশতা মণ্ডলীও তাদের জন্য দুয়া করেন।”

(মুসনাদ আহমদ, হাদিস নং ১১৮৭, শামেলা। হাসান লি গাইরেহী, দেখুন: সহীহ তারগীব ওয়াত তারহীব, ১/২৫৮)

 

৭) রোগীর সেবা-যত্ন করা:

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,

" مَا مِنْ مُسْلِمٍ يَعُودُ مُسْلِمًا إِلَّا ابْتَعَثَ اللهُ لَهُ سَبْعِينَ أَلْفَ مَلَكٍ يُصَلُّونَ عَلَيْهِ أَيَّ سَاعَةٍ مِنَ النَّهَارِ كَانَتْ حَتَّى يُمْسِيَ، وَأَيَّ سَاعَةٍ مِنَ اللَّيْلِ كَانَتْ حَتَّى يُصْبِحَ "

“কোন মুসলিম যদি অন্য কোন মুসলিম রোগীর সেবা-যত্ন করে তাহলে আল্লাহ তায়ালা তার নিকট সত্তর হাজার ফেরেশতা প্রেরণ করেন যারা তার জন্য দুয়া করতে থাকে। সে ব্যক্তি দিনের যে কোন সময় রোগীর পরিচর্যা করতে যাক না কেন সন্ধ্যা পর্যন্ত ফেরেশতা মণ্ডলী তার জন্য দুয়া করে অনুরূপভাবে রাতের যে কোন সময় রোগীর পরিচর্যা করতে যাক না কেন সকাল পর্যন্ত তারা তার জন্য দুয়া করতে থাকে।”

(হাকেম ও ইবনে হিব্বান মারফূ সূত্রে। সহীহ, শাইখ আলবানী- দেখুন: সহীহ তারগীব ওয়াত তারহীব ৩/১৯৭)

 

৮) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর উপর দরূদ পেশ করা:

عَبْدِ اللهِ بْنِ عَامِرِ بْنِ رَبِيعَةَ ، عَنْ أَبِيهِ ، قَالَ : سَمِعْتُ النَّبِيَّ  صلى الله عليه وسلم يَقُولُ عَلَى الْمِنْبَر: مَا مِنْ عَبْدٍ يُصَلِّي عَلَيَّ صَلاةً إِلا صَلَّتْ عَلَيْهِ الْمَلائِكَةُ ، مَا دَامَ يُصَلِّي عَلَيَّ ، فَلْيُقِلَّ ذَلِكَ أَوْ لِيُكْثِرْ

আব্দুল্লাহ বিন আমের বিন রাবিয়া তার পিতা (আমের) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেছেন, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে মিম্বারে বক্তব্য দিতে গিয়ে দাঁড়িয়ে বলতে শুনেছি, “যে ব্যক্তি আমার প্রতি দরুদ পেশ করবে ফেরেশতা মণ্ডলী তার জন্য দুয়া করবে। তারা ততক্ষণ পর্যন্ত দুয়া করতে থাকবে যতক্ষণ সে দরুদ পেশ করতে থাকে। সুতরাং কম হোক বেশী হোক যা ইচ্ছা সে দরুদ পেশ করতে পারে।”

(মুসনাদ তায়ালুসী, হাদিস নং ১২২৫, হাসান, আলবানী। দেখুন: সহীহুল জামে হাদিস নং ৫৭৪৪)

 

জান্নাতে প্রাসাদ লাভের ২০ টি আমল

(১) তাক্বওয়া বা আল্লাহভীতি অবলম্বন করা :

মহান আল্লাহ বলেন:

لَكِنِ الَّذِينَ اتَّقَوْا رَبَّهُمْ لَهُمْغُرَفٌ مِنْ فَوْقِهَاغُرَفٌ مَبْنِيَّةٌ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ وَعْدَ اللهِ لَا يُخْلِفُ اللهُ الْمِيعَادَ،

‘আর যারা তাদের পালনকর্তাকে ভয় করে, তাদের জন্য রয়েছে স্তরের উপর স্তর বিশিষ্ট সুউচ্চ প্রাসাদ। যার তলদেশ দিয়ে নদীসমূহ প্রবাহিত হয়। এটাই আল্লাহর প্রতিশ্রুতি। আর আল্লাহ প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেন না’ (যুমার ৩৯/২০)।

 

(২) আল্লাহর উপর ভরসা করা :

মহান আল্লাহ বলেন,وَالَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ لَنُبَوِّئَنَّهُمْ مِنَ الْجَنَّةِ غُرَفًا تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا نِعْمَ أَجْرُ الْعَامِلِينَ، الَّذِينَ صَبَرُوا وَعَلَى رَبِّهِمْ يَتَوَكَّلُونَ-

‘আর যারা ঈমান আনে ও সে অনুযায়ী সৎকর্ম সমূহ সম্পাদন করে আমরা অবশ্যই তাদেরকে জান্নাতের সুউচ্চ কক্ষসমূহে স্থান দেব। যার তলদেশ দিয়ে নদীসমূহ প্রবাহিত। যেখানে তারা চিরকাল থাকবে। কতই না উত্তম প্রতিদান সৎকর্মশীলদের জন্য। যারা দৃঢ় থাকে এবং তাদের পালনকর্তার উপর ভরসা করে’ (আনকাবূত ২৯/৫৮-৫৯)।

 

(৩) ধৈর্যশীল হওয়া :

আল্লাহ বলেন, أُولَئِكَ يُجْزَوْنَالْغُرْفَةَ بِمَا صَبَرُوا وَيُلَقَّوْنَ فِيهَا تَحِيَّةً وَسَلَامًا، خَالِدِينَ فِيهَا حَسُنَتْ مُسْتَقَرًّا وَمُقَامًا-

‘তাদেরকে তাদের ধৈর্যের প্রতিদান স্বরূপ জান্নাতের কক্ষ দেওয়া হবে এবং তাদেরকে সেখানে অভ্যর্থনা দেওয়া হবে অভিবাদন ও সালাম দ্বারা। সেখানে তারা চিরকাল থাকবে। কতই না সুন্দর সেই আশ্রয়স্থল ও আবাসস্থল!’ (ফুরক্বান ২৫/৭৫-৭৬)।

 

(৪) মসজিদ নির্মাণ করা :

ওছমান ইবনে আফফান (রাঃ) বলেন, مَنْ بَنَى لِلَّهِ مَسْجِدًا بَنَى اللهُ لَهُ بَيْتًا فِي الْجَنَّةِ،

‘যে ব্যক্তি আল্লাহর (সন্তুষ্টি লাভের) জন্য মসজিদ নির্মাণ করবে, তার জন্য আল্লাহ জান্নাতে একটি ঘর নির্মাণ করবেন’।(সহীহ বুখারী হা/৪৫০;সহীহ মুসলিম হা/৫৩৩; মিশকাত হা/৬৯৭।)

 

অনুরূপভাবে যারা মসজিদ নির্মাণে সহযোগিতা করবেন, তাদের জন্যও আল্লাহ জান্নাতে ঘর নির্মাণ করবেন। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন,

مَنْ بَنَى مَسْجِدًا لِلَّهِ كَمَفْحَصِ قَطَاةٍ، أَوْ أَصْغَرَ، بَنَى اللهُ لَهُ بَيْتًا فِي الْجَنَّةِ،

‘যে ব্যক্তি আল্লাহর জন্য কবুতরের ডিম পাড়ার জায়গা পরিমাণ অথবা তার চেয়েও ক্ষুদ্র একটি মসজিদ নির্মাণ করে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতে একটি ঘর নির্মাণ করেন’।[ইবনু মাজাহ হা/৭৩৮; ছহীহুল জামে‘ হা/৬১২৮; ছহীহুত তারগীব হা/২৭১; সনদ ছহীহ।]

 

(৫) নিয়মিত নফল ও সুন্নাতে রাতেবা ছালাত আদায় করা :

উম্মু হাবীবা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন,

مَنْ صَلَّى فِي يَوْمٍ وَلَيْلَةٍ ثِنْتَيْ عَشْرَةَ رَكْعَةً بُنِيَ لَهُ بَيْتٌ فِي الجَنَّةِ: أَرْبَعًا قَبْلَ الظُّهْرِ، وَرَكْعَتَيْنِ بَعْدَهَا، وَرَكْعَتَيْنِ بَعْدَ المَغْرِبِ، وَرَكْعَتَيْنِ بَعْدَ العِشَاءِ، وَرَكْعَتَيْنِ قَبْلَ صَلَاةِ الْفَجْرِ صَلَاةِ الْغَدَاةِ،

‘যে ব্যক্তি দিনে ও রাতে বারো রাক‘আত (সুন্নাত) ছালাত আদায় করবে, তার জন্য জান্নাতে একটি বাড়ি নির্মাণ করা হবে। (সেগুলো হ’ল) যোহরের (ফরয ছালাতের) পূর্বে চার রাক‘আত এবং পরে দুই রাক‘আত, মাগরিবের পরে দুই রাক‘আত, এশার ছালাতের পরে দুই রাক‘আত এবং ফজরের পূর্বে দুই রাক‘আত (সুন্নাত ছালাত)’। [তিরমিযী হা/৪১৫; মিশকাত হা/১১৫৯, সনদ ছহীহ।]

 

(৬) চার রাক‘আত চাশতের ছালাত আদায় করা :

আবূ মূসা আশ‘আরী (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন,

 مَنْ صَلَّى الضُّحَى أَرْبَعًا، وَقَبْلَ الْأُولَى أَرْبَعًا بُنِيَ لَهُ بِهَا بَيْتٌ فِي الْجَنَّةِ،

‘যে ব্যক্তি (সকাল বেলা) চার রাক‘আত চাশতের ছালাত আদায় করবে এবং যোহরের পূর্বে চার রাক‘আত ছালাত আদায় করবে, জান্নাতে তার জন্য একটি ঘর নিমার্ণ করা হবে’।[তাবারাণী, আল-মু‘জামুল আওসাত্ব হা/৪৭৫৩; ছহীহাহ হা/২৩৪৯; ছহীহুল জামে‘ হা/৬৩৪০, সনদ হাসান।]

 

(৭) আল্লাহর পথে হিজরত করা ও জিহাদ করা :

ফাযালা বিন উবায়েদ (রাঃ) বলনে, আমি রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-কে বলতে শুনেছি,

 أَنَا زَعِيمٌ، وَالزَّعِيمُ الْحَمِيلُ لِمَنْ آمَنَ بِي، وَأَسْلَمَ وَهَاجَرَ بِبَيْتٍ فِي رَبَضِ الْجَنَّةِ، وَبِبَيْتٍ فِي وَسَطِ

الْجَنَّةِ، وَأَنَا زَعِيمٌ لِمَنْ آمَنَ بِي، وَأَسْلَمَ، وَجَاهَدَ فِي سَبِيلِ اللهِ، بِبَيْتٍ فِي رَبَضِ الْجَنَّةِ، وَبِبَيْتٍ فِي وَسَطِ الْجَنَّةِ، وَبِبَيْتٍ فِي أَعْلَى غُرَفِ الْجَنَّةِ، مَنْ فَعَلَ ذَلِكَ فَلَمْ يَدَعْ لِلْخَيْرِ مَطْلَبًا، وَلَا مِنَ الشَّرِّ مَهْرَبًا، يَمُوتُ حَيْثُ شَاءَ أَنْ يَمُوتَ،

‘আমি সেই ব্যক্তির জন্য জান্নাতের উপকণ্ঠে একটি ঘরের এবং মধ্যখানে একটি ঘরের যিম্মাদার হ’লাম, যে আমার প্রতি ঈমান আনল, ইসলাম গ্রহণ করল এবং হিজরত করল। আর আমি জান্নাতের উপকণ্ঠে একটি ঘরের, মধ্যখানে একটি ঘরের এবং জান্নাতের কক্ষসমূহের উপরিভাগে আরেকটি ঘরের যিম্মাদার হ’লাম ঐ ব্যক্তির জন্য, যে আমার প্রতি ঈমান আনল, ইসলাম গ্রহণ করল এবং আল্লাহর পথে জিহাদ করল। যে ব্যক্তি এই কাজগুলো করবে, সে যদি কল্যাণের সন্ধান পরিত্যাগ না করে এবং মন্দ থেকে পলায়ন করার চেষ্টা নাও করে, (তবুও তার জন্য জান্নাত অবধারিত থাকবে) সে যেখানে চায় সেখানে মৃত্যুবরণ করলেও’।[নাসাঈ হা/৩১৩৩; ইবনু হিববান হা/৪৬১৯; ছহীহুত তারগীব হা/১৩০০, সনদ ছহীহ।]

 

(৮) কাতারের ফাঁকা বন্ধ করা :

মা আয়েশা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন,

“যে ব্যক্তি কাতারের মাঝে ফাঁকা বন্ধ করবে, এর বিনিময়ে আল্লাহ তার মর্যাদা বাড়িয়ে দেন এবং তার জন্য জান্নাতে একটি ঘর নির্মাণ করেন'। [তাবারাণী, আল-মু'জামুল আওসাত্ব হা/৫৭৯৭; সিলসিলা ছহীহাহ হা/১৮৯২, সনদ ছহীহ ।]

 

(৯) তাহাজ্জুদে অভ্যস্ত হওয়া :

আলী (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, ‘জান্নাতের মধ্যে কতিপয় প্রাসাদ আছে, যেগুলোর ভিতর থেকে বাইরের এবং বাহির থেকে ভিতরের দৃশ্য দেখা যায়’। এক বেদুঈন দাঁড়িয়ে বলল, “হে আল্লাহ্'র রাসূল! এই প্রাসাদগুলো কাদের জন্য? তিনি বললেন, যে ব্যক্তি মানুষের সাথে উত্তমভাবে কথা বলে, (ক্ষুধার্তকে) খাদ্য দান করে, নিয়মিত নফল ছিয়াম পালন করে এবং মানুষ যখন রাতে ঘুমিয়ে থাকে, তখন সে (আল্লাহ্'র জন্য) ছালাত আদায় করে'। [তিরমিযী হা/১৯৮৪; মুছান্নাফ ইবনে আবী শায়বাহ হা/২৫৭৪৩, সনদ হাসান ।]

 

(১০) সদাচরণকারী হওয়া :

রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) সদাচরণকারী বান্দাদের জন্য জান্নাতের সুউচ্চ স্থানে একটি বালাখানার ব্যাপারে যিম্মাদারী গ্রহণ করেছেন । তিনি বলেছেন,  ‘যে ব্যক্তি ন্যায়সঙ্গত হওয়া সত্ত্বেও ঝগড়া- বিবাদ পরিহার করবে, আমি তার জন্য জান্নাতের উপকণ্ঠে একটি ঘরের যিম্মাদার। আর যে ব্যক্তি তামাশার ছলেও মিথ্যা বলে না, আমি তার জন্য জান্নাতের মাঝখানে একটি ঘরের যিম্মাদার। আর যে ব্যক্তি তার চরিত্রকে সৌন্দর্যমণ্ডিত করেছে, আমি তার জন্য জান্নাতের সর্বোচ্চ স্থানে অবস্থিত একটি ঘরের যিম্মাদার'।” [আবূদাউদ হা/৪৮০০; বায়হাক্বী, শুআবুল ঈমান হা/৭৬৫৩, সনদ হাসান।]

 

(১১) সালামের প্রসার ঘটানো :

আবূ মূসা আশ'আরী (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন,  'জান্নাতে মধ্যে এমন কিছু প্রাসাদ আছে, যার বাইরের দৃশ্য ভিতর থেকে এবং ভিতরের দৃশ্য বাহির থেকে দেখা যায়। মহান আল্লাহ এসব প্রাসাদ সেই সকল লোকের জন্য তৈরী করেছেন, যারা অপরকে খাবার খাওয়ায়, সালামের প্রসার ঘটায় এবং রাতে মানুষ ঘুমিয়ে থাকলে (তাহাজ্জুদের) ছালাত আদায় করে’।[ছহীহ ইবনু হিব্বান হা/৫০৯; ছহীহুল জামে' হা/৯৪৭, সনদ ছহীহ।]

 

(১২) মানুষকে খাবার খাওয়ানো :

আবূ মূসা আশ'আরী (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, জান্নাতে মধ্যে এমন কিছু প্রাসাদ আছে, যার বাইরের দৃশ্য ভিতর থেকে এবং ভিতরের দৃশ্য বাহির থেকে দেখা যায়। মহান আল্লাহ এসব প্রাসাদ যাদের জন্য তৈরী করেছেন, তন্মধ্যে অন্যতম হ'ল— যে ক্ষুধার্তকে খাবার খাওয়ায়...'।” [ছহীহ ইবনু হিব্বান হা/৫০৯; ছহীহুল জামে' হা/৯৪৭, সনদ ছহীহ]

 

এ সম্পর্কে আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিরমিজির ১৯৮৪ নং হাদীসটি যা তাহাজ্জুদের সাথে আলোচনা করা হয়েছে সেটিও উল্লেখ যোগ্য

 

(১৩) নিয়মিত নফল ছিয়াম পালন করা:

ফরয ছিয়ামের পাশাপাশি নিয়মিত নফল ছিয়ামের মাধ্যমে জান্নাতী অট্টালিকার অধিকারী হওয়া যায়। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, ‘জান্নাতের মধ্যে কতিপয় প্রাসাদ আছে, যেগুলোর ভিতর থেকে বাইরের এবং বাহির থেকে ভিতরের দৃশ্য দেখা যায়'। এক বিদুঈন দাঁড়িয়ে বলল, 'হে আল্লাহ্'র রাসূল! এই প্রাসাদগুলো কাদের জন্য? তিনি বললেন, যে ব্যক্তি মানুষের সাথে উত্তমভাবে কথা বলে, (ক্ষুধার্তকে) খাদ্য দেয়, নিয়মিত নফল ছিয়াম পালন করে এবং মানুষ যখন রাতে ঘুমিয়ে থাকে, তখন সে আল্লাহ্'র জন্য ছালাত আদায় করে’৷ [তিরমিযী হা/১৯৮৪; মুছান্নাফ ইবনে আবী শায়বাহ হা/২৫৭৪৩, সনদ: হাসান]

 

(১৪) সূরা ইখলাছ পাঠ করা:

রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ‘যে ব্যক্তি দশবার সূরা ইখলাছ পাঠ করবে, এর বিনিময়ে তার জন্য জান্নাতে একটি প্রাসাদ নির্মাণ করা হবে। আর যে ব্যক্তি বিশবার পাঠ করবে, তার জন্য দু'টি প্রাসাদ নির্মাণ করা হবে। আর যে ব্যক্তি ত্রিশবার পাঠ করবে, তার জন্য তিনটি প্রাসাদ নিমার্ণ করা হবে। অতঃপর ওমর বিন খাত্তাব (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহ্'র রাসূল (ছাঃ)! তবে তো আমাদের প্রাসাদেও সংখ্যা অবশ্যই বৃদ্ধি পাবে। তখন রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বললেন, ‘আল্লাহ তোমাদের ধারণার চেয়েও অধিক দাতা' ৷ [দারেমী হা/৩৪২৯; হাদীছটি প্রখ্যাত তাবেঈ সাঈদ ইবনুল মুসাইয়িব (রহঃ) থেকে মুরসাল সূত্রে বর্ণিত হয়েছে। হাদীছটির রিজাল বুখারী- মুসলিমের এবং ছিক্কাত। আলবানী হাদীছটিকে হাসান বলেছেন ।]

 

অন্যত্র রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, “যে ব্যক্তি ‘কুল হওয়াল্লাহু আহাদ' বা সূরা ইখলাছ শেষ পর্যন্ত দশবার পাঠ করবে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতে একটি প্রাসাদ নির্মাণ করবেন' ।[সিলসিলা ছহীহাহ হা/৫৮৯; ছহীহুল জামে' হা/৬৪৭২, সনদ হাসান]

 

(১৫) দ্বীনি ভাই ও অসুস্থ-রোগীকে দেখতে যাওয়া :

আবূ হুরায়রা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, 'যখন কোন ব্যক্তি তার অসুস্থ (মুসলিম) ভাইকে দেখতে যায় অথবা তার সাথে সাক্ষাত করতে যায়, তখন আল্লাহ তাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, তোমার পথচলা উত্তম হয়েছে, তুমি তো জান্নাতে একটি বাড়ি বানিয়ে নিলে’ । [আল-আদাবুল মুফরাদ হা/৩৪৫; ছহীহুত তারগীব হা/৩৪৭৪, সনদ হাসান। ]

 

(১৬) সন্তানের মৃত্যুতে ধৈর্য ধারণ করা :

আবূ মূসা আশ'আরী (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, যখন বান্দার কোন সন্তান মারা যায়, তখন আল্লাহ তার ফেরেশতাদের প্রশ্ন করেন, তোমরা আমার বান্দার সন্তানকে কি ছিনিয়ে আনলে? তারা বলেন, হ্যাঁ। পুনরায় আল্লাহ প্রশ্ন করেন, তোমরা তার হৃদয়ের টুকরাকে ছিনিয়ে আনলে? তারা বলেন, হ্যাঁ। তখন তিনি জিজ্ঞেস করেন, (সন্তানের মৃত্যুতে) আমার বান্দা কি বলেছে? ফেরেশতারা বলে, সে আপনার প্রশংসা করেছে এবং “ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিঊন' পাঠ করেছে। আল্লাহ্ তা'আলা বলেন, জান্নাতের মধ্যে আমার এই বান্দার জন্য একটি ঘর তৈরী কর এবং তার নাম রাখ ‘বায়তুল হামদ’ বা ‘প্ৰশংসালয়’। [তিরমিযী হা/১০২১; ছহীহাহ হা/১৪০৮, সনদ হাসান। ]

 

(১৭) তর্ক-বিবাদ পরিহার করা :

রাসূলূল্লাহ (সাল্লাল্লাহি ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি ন্যায়সঙ্গত হওয়া সত্ত্বেও ঝগড়া পরিহার করবে আমি তার জন্য জান্নাতের বেষ্টনীর মধ্যে একটি ঘরের জিম্মাদার;[আবূদাউদ হা/৪৮০০; বায়হাক্বী, শুআবুল ঈমান হা/৭৬৫৩, সনদ হাসান।]

 

(১৮) কৌতুকের ছলে হ'লেও মিথ্যা পরিহার করা :

রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ‘আমি জান্নাতের মধ্যখানে একটি বাড়ির যিম্মাদার সেই ব্যক্তির জন্য, যে কৌতুকবশত হ'লেও মিথ্যা বলা পরিহার করে'।‍[আবূদাউদ হা/৪৮০০; বায়হাক্বী, শুআবুল ঈমান হা/৭৬৫৩, সনদ হাসান ।]

 

(১৯) বাজারে প্রবেশের দো'আ পড়া :

রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন,'যে ব্যক্তি বাজারে গিয়ে বলে, ‘লা-ইলা-হা ইল্লাল্ল-হু ওয়াহদাহু লা-শারীকা লাহু লাহুল মুল্‌কু ওয়ালাহুল হাম্দু ইউহয়ী ওয়া ইউমীতু, ওয়াহুওয়া হায়য়ুন, লা-ইয়ামূতু, বিয়াদিহিল খয়রু, ওয়াহুয়া ‘আলা-কুল্লি শাইয়িন ক্বদীর' (অর্থ: আল্লাহ ব্যতীত সত্য কোন মা'বূদ নেই, তিনি এক, তাঁর কোন শরীক নেই। তিনিই সব কিছুর ধারক এবং তাঁর জন্যই সকল প্রশংসা। তিনিই জীবন দান করেন এবং মৃত্যু দেন। তিনি চিরঞ্জীব, তিনি কখনো মৃত্যুবরণ করবেন না। তাঁর হাতেই যাবতীয় কল্যাণ, তিনি সব কিছুর উপরে ক্ষমতাবান) আল্লাহ তার জন্য দশ লক্ষ নেকী বরাদ্দ করেন, তার দশ লক্ষ গুনাহ মাফ করেন এবং তার জন্য জান্নাতে একখানা ঘর তৈরী করেন'।[তিরমিযী হা/৩৪২৯; মিশকাত হা/২৪৩১। সনদ হাসান।]

 

(২০) অন্যকে জান্নাতে প্রাসাদ নির্মাণকারী আমল শিক্ষা দেওয়া :

রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, যে ব্যক্তি অন্য কোন মানুষকে কোন নেক কাজের পথ দেখায় (উৎসাহিত করে), সে ঐ নেক কাজ সম্পাদনকারীর সমান ছওয়াব পায়’৷ ’’ (সহীহ মুসলিম ৪৭৯৩, তিরমিযী ২৬৭১, আবূ দাউদ ৫১২৯)

 

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ যে লোক সঠিক পথের দিকে ডাকে তার জন্য সে পথের অনুসারীদের প্রতিদানের সমান প্রতিদান রয়েছে। এতে তাদের প্রতিদান হতে সামান্য ঘাটতি হবে না-- সহীহ মুসলিম--৬৬৯৭ ( সহীহ)

 

জান্নাতে যাওয়ার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ ৭০ টি ছোট আমল

আমল – ১:

প্রত্যেক ওযুর পর কালেমা শাহাদত পাঠ করুণ (আশহাদু আল্লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহ্দাহু লা- শারী কা লাহূ ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান ‘আব্দুহূ ওয়া রাসূলুহূ) । এতে জান্নাতের ৮টি দরজার যে কোন দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে পারবেন। সহিহ মুসলিম, হাদিস নং- ২৩৪।

 

আমল – ২:

প্রত্যেক ফরজ সলাত শেষে আয়াতুল কুরসি পাঠ করুণ এতে মৃত্যুর সাথে সাথে জান্নাতে যেতে পারবেন। [সহিহ নাসাই, সিলসিলাহ সহিহাহ, হাদিস নং- ৯৭২]

 

আমল – ৩:

প্রত্যেক ফরজ সলাত শেষে ৩৩ বার সুবহানাল্লাহ, ৩৩ বার আলহামদুলিল্লাহ্, ৩৩ বার আল্লাহু আকবার এবং ১ বার (লা ইলা-হা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়ালাহুল হামদু ওয়াহুয়া ‘আলা কুল্লি শাই’ইন কাদীর) পাঠ করুণ এতে আপনার অতীতের সব পাপ ক্ষমা হয়ে যাবে। সহিহ মুসলিম, হাদিস নং- ১২২৮।

সেই সাথে জাহান্নাম থেকেও মুক্তি পেয়ে যাবেন কেননা দিনে ৩৬০ বার এই তাসবিহগুলো পড়লেই জাহান্নাম থেকে মুক্ত রাখা হয় আর এভাবে ৫ ওয়াক্তে ৫০০ বার পড়া হচ্ছে। সহিহ মুসলিম, মিশকাত হাদিস নং- ১৮০৩) ।

 

আমল – ৪:

প্রতিরাতে সূরা মুলক পাঠ করুণ এতে কবরের শাস্তি থেকে মুক্তি পেয়ে যাবেন। [সহিহ নাসাই, সহিহ তারগিব, হাকিম হাদিস নং- ৩৮৩৯, সিলসিলাহ সহিহাহ, হাদিস নং- ১১৪০]

 

আমল – ৫:

রাসুল (সাঃ)-এর উপর সকালে ১০ বার ও সন্ধ্যায় ১০ বার দরুদ পড়ুন এতে আপনি নিশ্চিত রাসুল (সাঃ)-এর সুপারিশ পাবেন। [তবরানি, সহিহ তারগিব, হাদিস নং- ৬৫৬]

 

আমল – ৬:

সকালে ১০০ বার ও বিকালে ১০০ বার সুবহানাল্লাহিল আজিম ওয়া বিহামদিহি পরলে সৃষ্টিকুলের সমস্ত মানুষ থেকে বেশী মর্যাদা দেওয়া হবে। [সহিহ আবু দাউদ, হাদিস নং- ৫০৯১]

হজরত জাবের (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, 'যে ব্যক্তি 'সুবহানাল্লাহিল আজিম ওয়া বিহামদিহি' পাঠ করে, তার জন্য জান্নাতে একটি খেজুরগাছ রোপণ করা হয়। (তিরমিজি: ৩৪৬৪)

 

আমল – ৭:

সকালে ১০০ বার ও সন্ধ্যায় ১০০ বার সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি পাঠ করলে কিয়ামতের দিন তার চেয়ে বেশী সওয়াব আর কারো হবে না। সহিহ মুসলিম, হাদিস নং- ২৬৯২।

 

আমল – ৮:

সকালে ও বিকালে ১০০ বার সুবহানাল্লাহ, ১০০ বার আলহামদুলিল্লাহ্, ১০০ বার আল্লাহু আকবার এবং ১০০ বার লা ইলা-হা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়ালাহুল হামদু ওয়াহুয়া ‘আলা কুল্লি শাই’ইন কাদীর পাঠ করলে অগণিত সওয়াব হবে। [নাসাই, সহিহ তারগিব, হাদিস নং- ৬৫১]

 

আমল – ৯:

বাজারে প্রবেশ করে- (লা ইলা-হা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়ালাহুল হামদু য়্যুহয়ী ওয়া ইউমীতু ওয়া হুয়া হাইয়ুল লা য়্যামূত, বিয়াদিহিল খাইরু ওয়াহুয়া ‘আলা কুল্লি শাই’ইন কাদীর) পাঠ করুণ এতে ১০ লক্ষ পুণ্য হবে, ১০ লক্ষ পাপ মোচন হবে, ১০ লক্ষ মর্যাদা বৃদ্ধি হবে এবং জান্নাতে আপনার জন্য ১ টি গৃহ নির্মাণ করা হবে। তিরমিজি, হাদিস নং- ৩৪২৮,৩৪২৯।

 

আমল – ১০:

বাড়িতে সালাম দিয়ে প্রবেশ করুণ এতে আল্লাহ তা’লা নিজ জিম্মাদারিতে আপনাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। [ইবনু হিব্বান, হাদিস নং- ৪৯৯, সহিহ তারগিব, হাদিস নং- ৩১৬]

 

আমল – ১১:

জামাতে ইমামের প্রথম তাকবীরের সাথে ৪০ দিন সলাত আদায় করুন এতে আপনি নিশ্চিত জাহান্নাম থেকে মুক্তি পেয়ে যাবেন। [তিরমিজি, সিলসিলাহ সহিহাহ, হাদিস নং- ৭৪৭, সহিহ তারগিব, হাদিস নং- ৪০৪]

 

আমল – ১২:

প্রতিমাসের আয়ের একটা অংশ এতিমখানা বা মসজিদ মাদ্রাসা বা গরিব-দুখি, বিধবা ও দুস্থদের মাঝে দান করবেন হোক সেটা অতি অল্প এতে আপনি আল্লাহ তা’লার কাছে জিহাদকারির সমতুল্য হবেন। [সহিহ বুখারি, হাদিস নং- ৬০০৭]

 

আমল – ১৩:

মহিলারা ৪টি কাজ করবেন, ১- ৫ ওয়াক্ত সলাত ২- রমজানের সিয়াম, ৩- লযযাস্থানের হেফাজত, ৪- স্বামীর আনুগত্য করুণ এতে জান্নাতের যে কোন দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে পারবেন। [সহিহ ইবনু হিব্বান, হাদিস নং- ৪১৬৩]

 

আমল – ১৪:

মসজিদে ফজরের সলাত আদায় করে বসে দোয়া জিকির পাঠ করুণ এবং সূর্য উঠে গেলে ২ রাকাত চাস্তের সলাত আদায় করুণ এতে প্রতিদিন নিশ্চিত কবুল ১ টি হজ্জ ও উমরার সওয়াব পাবেন। [তিরমিজি, তারগিব হাদিস নং- ৪৬১]

 

আমল – ১৫:

প্রতিটি ভালো কাজ ডান দিক দিয়ে বিসমিল্লাহ বলে শুরু করা।

 

আমল – ১৬:

ঘুম থেকে উঠে ঘুমের দুয়া পড়া।

 

আমল – ১৭:

বাথরুমে যেতে দুয়া পড়ে বাম পা দিয়ে প্রবেশ করা, বের হওয়ার সময় ডান পা দিয়ে বের হয়ে দুয়া পড়া। [বাথরুমে কোন দুয়া পড়া যাবে না]

 

আমল – ১৮:

ওযুর পূর্বে মিসওয়াক করার অভ্যাস করা। -ওযুর শুরুতে এবং শেষে হাদিসে বর্ণিত দুয়া পড়া।

 

আমল – ১৯:

ঘর থেকে বের হওয়ার সময় ডান পা দিয়ে দুয়া পড়ে বের হওয়া এবং প্রবেশের সময়ও ডান পা দিয়ে প্রবেশ করে সালাম দেয়া। যদিও ঘরে কেউ না থাকুক না কেন সালাম দেয়া সুন্নাহ, আল্লাহর হুকুম। যদি ঘরে কেউ নাকে তবে এই সালাম ঘরের ফিরিশতাদের জন্য।

 

আমল – ২০:

মসজিদে ডান পা দিয়ে দরুদ ও দুয়া পড়ে ঢুকা এবং বাম পা দিয়ে দরুদ ও দুয়া পড়ে বের হওয়া।

 

আমল – ২১:

রাস্তার ডানপাশে চলার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা। না পারলে ভিন্ন কথা।

 

আমল – ২২: ফরজ সালাত শেষে হাদিসে বর্ণিত যিকির, দুয়ার আমল করা।

ফজর ও মাগরিবের পর, তিন ক্বুল পড়ে শরীর দম করা, ইত্ত্যাদি হাদিসে বর্ণিত আমল করা।

 

আমল – ২৩: আযানের জবাব দেয়া, আযানের পর হাদিসে বর্ণিত দুয়া পড়া

(হাত উত্তোলন না করে) -চলতে ফিরতে ছোট বড় সকলকে সালাম দেয়া। সালাম দিয়ে কথা শুরু ও শেষ করা। শুদ্ধভাবে সালাম দেয়া।

 

আমল – ২৪:

জামা ও জুতা পরার সময় ডান দিক থেকে পরা এবং খুলার সময় বামদিকে আগে খুলা। সম্ভব হলে হাদিসে বর্ণিত দুয়া মুখস্থ করে আমলের অভ্যাস করা।

 

আমল – ২৫:

পানি খাওয়ার সময় ৬টি সুন্নত ভালোভাবে মেনে খাওয়ার চেষ্টা করা।

 

আমল – ২৬:

ভাত বা যেকোন খাবার খাওয়ার সময় সমতল জায়গায় বসে দস্তরখানা বিছিয়ে বিসমিল্লাহ বলে দুয়া পড়ে খাওয়া, কিছু পরে গেলে তুলে ধুয়ে খাওয়া, খাওয়া শেষে আলহামদুলিল্লাহ্‌ পড়া।

 

আমল – ২৭:

ঘুমানোর আগে সূরা মূলক তিলাওয়াত করা, তিন ক্বুল (ইখলাস, ফালাক্ব, নাস) পড়ে তিনবার শরীর দম করা, ঘুমের দুয়া পড়া, আয়াতুল কুরসী পড়া, সূরা কাফিরুন পড়ে ডান কাত হয়ে শোয়া।

 

আমল – ২৮:

ঘুমের মাঝখানে কোন খারাপ স্বপ্ন দেখলে উঠে বামপাশে তিনবার থু থু ফেলা এবং আউযুবিল্লাহি মিনাশ শাইত্বনির রজিম পড়ে আল্লাহর কাছে শয়তানের হাত থেকে পানাহ চাওয়া।

 

আমল – ২৯: আত্নীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করা

‘‘কেউ যদি চায় যে তার মূলধন বৃদ্ধি করা হোক এবং বয়স দীর্ঘ করা হোক, তবে তাকে বল সে যেন আত্নীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করে।’’ [বুখারী, মুসলিম]

 

আমল – ৩০: ২টি পবিত্র হারামে (মক্কা ও মাদীনা) সলাত পড়া

‘‘আমার এই মাসজিদে সলাত পড়া অন্য কোথাও ১ হাজার বার সলাত পড়ার চেয়েও উত্তম, শুধুমাত্র মাসজিদুল হারাম ছাড়া এবং মসজিদুল হারাম এ সলাত পড়া অন্য কোথাও একশ হাজার বার সলাত পড়ার চেয়ে উত্তম।’’ [আহমাদ, ইবনে মাজাহ]

 

আমল – ৩১: জামা’আতে সলাত পড়া

‘‘জামা’আতে সলাত পড়া একাকী সলাত পড়ার চাইতে ২৭ গুন বেশী মর্যাদার।’’ [বুখারী, মুসলিম]

 

আমল – ৩২: ইশা এবং ফজর জামা’আতে পড়া

‘‘যে ব্যক্তি ইশার সলাত জামা’আতে পড়ল সে যেন অর্ধেক রাত ইবাদাত করল। আর যে ব্যক্তি ফজরের সলাত জামা’আতে পড়ল সে যেন পুরো রাত ইবাদাত করল।’’ [মুসলিম]

 

আমল – ৩৩: নফল সলাত বাসায় পড়া

‘‘ফরজ সলাত ছাড়া মানুষের সলাতের মধ্যে সেই সলাত উৎকৃষ্ট, যা সে ঘরে পড়ে।’’ [বুখারী, মুসলিম]

 

আমল – ৩৪: জুম’আহ র দিনের ইবাদাত গুলো পালন করা

‘‘যে জুমু’আহর দিনে গোসল করে, তারপর প্রথম খুৎবার পূর্বেই উপস্থিত থাকে, পায়ে হেটেঁ আসে, ইমামের কাছে বসে এবং মনোযোগ দিয়ে খুৎবা শুনে ও কোন কথা না বলে -- তাহলে প্রতিটি পদক্ষেপের বিনিময়ে একবছর সলাত পড়া ও রোজা রাখার সমান সওয়াব পাবে।’’ (আহল-আস-সুনান) হজরত আউস ইবনে আউস আস্সাকাফি (রা.) বলেন, আমি রাসুল (সা.)-কে বলতে শুনেছি, 'যে ব্যক্তি জুমার দিন উত্তমরূপে গোসল করবে, অতঃপর কোনো রকম যানবাহনে না চড়ে হেঁটে আগে আগে মসজিদে যাবে, ইমামের নিকটবর্তী বসবে, চুপ থাকবে এবং অনর্থক কথা বলা থেকে বিরত থাকবে, তবে তার জন্য বাড়ি থেকে মসজিদ পর্যন্ত প্রতি কদমে এক বছরের রোজা ও কিয়ামুল লাইলের সওয়াব লেখা হবে। (আবু দাউদ: ৩৪৫)

 

আমল – ৩৫: দোহার (ইশরাক) সলাত পড়া

‘‘যে ব্যক্তি ফজরের সলাত জামা’আতের সাথে পড়ে, তারপর সূর্য ওঠার আগ পর্যন্ত আল্লাহর যিকর করে, তারপর দু’ রাকাআত সলাত পড়ে, সে যেন হজ্জ এবং ওমরাহর সওয়াব পূর্ণ করল। [রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একথাটি ৩বার জোড়ে জোড়ে পুনরাবৃত্তি করলেন। [আত-তিরমিজি]

 

আমল – ৩৬: ইলমের জন্য মাসজিদে যাওয়া

‘‘যে দুনিয়াবি কোন কারন ছাড়া দ্বীনি ইলম শিখা বা শিখানোর উদ্দেশ্যে মাসজিদে যায়, সে ঐ ব্যক্তির মত যে তার হজ্জ পূর্ণ করেছে।’’ [আত তাবারানী]

 

আমল – ৩৭: রমজানে ওমরাহ পালন করা

‘‘রমজানে ওমরাহ করা আমার সাথে হজ্জ করার সমান।’’ [বুখারী]

 

আমল – ৩৮: মসজিদে ফরজ সলাত আদায় করা

‘‘যে ব্যক্তি নিজের গৃহ থেকে পবিত্রতা অর্জন করে (অজু ও প্রয়োজনে গোসলও করে) আল্লাহর গৃহের মধ্য থেকে কোন একটি গৃহের দিকে যায়, আল্লাহর ফরজের মধ্য থেকে কোন একটি ফরজ আদায় করার উদ্দেশ্যে, তার একটি পদক্ষেপে একটি গুনাহ ক্ষমা করা হয় এবং অন্য পদক্ষেপটি তার একটি মর্যাদা উন্নত করে।’’ [মুসলিম]

 

আমল – ৩৯: জামা’আতে প্রথম সারিতে দাড়ানোর চেষ্টা করা

‘‘রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রথম সারির জন্য ৩ বার এবং দ্বিতীয় সারির জন্য ১ বার ক্ষমা প্রার্থনা করতেন।’’ [আন নাসাঈ, ইবন মাজাহ]

 

আমল – ৪০: মাদীনার মাসজিদুল কুবায় সলাত পড়া

‘‘যে ব্যক্তি ঘর থেকে নিজেকে পবিত্র করে, তারপর মাসজিদুল কু’বায় আসে এবং সলাত পড়ে, সে যেন ওমরাহর সওয়াব পেল।’’ [আন নাসাঈ, ইবন মাজাহ]

 

আমল – ৪১: আযানের জবাব দেয়া

‘‘যখন তোমরা আযান শুনতে পাও তখন মুয়াজ্জিন যা বলে তার পুনরাবৃত্তি করে যাও। যখন আযান শেষ হয় তখন (দোয়া) চাও, তোমাকে দেয়া হবে।’’ [আবু দাউদ, আন নাসাঈ]

 

আমল – ৪২: রমজানের এবং শাওয়ালের রোজা রাখা

‘‘যে ব্যক্তি রমজানের রোজা রাখলো, তারপর শাওয়ালের ৬টি রোজা রাখলো সে যেন এক বছর রোজা রাখলো।’’ [মুসলিম]

 

আমল – ৪৩: প্রত্যেক মাসে ৩টি রোজা রাখা

‘‘প্রত্যেক মাসে ৩টি রোজা রাখা সারা বছর রোজা রাখার সমান।’’ [বুখারী, মুসলিম]

 

আমল – ৪৪: রোজাদার ব্যক্তিকে ইফতারি করানো

‘‘যে ব্যক্তি কোন রোজাদারকে ইফতার করায় সে তার (রোজাদার) সমান প্রতিদান পায়, কিন্তু এর ফলে রোজাদারের প্রতিদানের মধ্যে কোন কমতি হবে না।’’ [তিরমিজি, ইবন মাজাহ]

 

আমল – ৪৫: লাইলাতুল ক্বদরে ইবাদাত করা

‘‘মর্যাদাপূর্ণ এ রাতটি হাজার মাসের চেয়ে উত্তম’’। [ক্বদর, ৯৭:৩]

 

আমল – ৪৬: জিহাদ

‘‘একজন ব্যক্তির আল্লাহর পথে জিহাদের সারিতে দাড়ানো, ৬০ বছর ইবাদাতের চেয়েও উত্তম।’’ [আল-হাকিম]

 

আমল – ৪৭: রিবাত (রাত জেগে ইবাদাত করা)

‘‘একদিন ও একরাত স্বদেশের (মুসলিম দেশের সীমান্ত, যেখানে শত্রুর হামলার আশংখা আছে) সীমান্ত পাহারা দেয়া এক মাস ধরে রোজা রাখা ও রাতে ইবাদাত করার চাইতে বেশী মূল্যবান। এ অবস্থায় যদি সে মারা যায় তাহলে যে কাজ সে করে যাচ্ছিল, মারা যাবার পরও তা তার জন্য জারী থাকবে। তার রিযকও জারী থাকবে এবং কবরের পরীক্ষা থেকেও সে থাকবে সুরক্ষিত। য[মুসলিম]

 

আমল – ৪৮: যুল হিজ্জা এর প্রথম ১০ দিন বেশী বেশী ইবাদাত করা

‘‘এমন কোন দিন নেই যেদিনে কৃত আমল এসব দিন অর্থাৎ যুল হিজ্জা এর প্রথম ১০দিনের নেক আমলের মত আল্লাহর কাছে সর্বাধিক প্রিয়।’’ সাহাবীরা জিজ্ঞেস করলেন, ‘‘ইয়া রসূলুল্লাহ! আল্লাহর পথে জিহাদের মত (নেকী) আমল ও কি নয়?’’ তিনি বললেন: ‘‘না, আল্লাহর পথে জিহাদের মত (নেকী) আমলও নয়। তবে যে ব্যক্তি তাদের জান ও মাল নিয়ে আল্লাহর পথে বের হল এবং এর কোনটা নিয়েই আর ফিরে আসল না সে ছাড়া।’’ [বুখারী]

 

আমল – ৪৯: কুরআনের সূরা গুলো বার বার তিলাওয়াত করা

‘ক্বুল হুওয়াল্লাহু আহাদ’ কুরআনের এক তৃতীয়াংশ এবং ‘ক্বুল ইয়া আইযুহাল কাফিরুন’ কুরআনের চার ভাগের এক ভাগ।’’’ [আত তাবারানী]

 

আমল – ৫০: ইসতিগফার করা

‘‘যে ব্যক্তি ঈমানদার নারী পুরুষের জন্য ইসতিগফার করে, আলাহ প্রত্যেকের জন্য ১টি করে নেক আমল লিখে দেন। [রিয়াদুস সালেহিন]

 

আমল – ৫১: মানুষের প্রয়োজন পূরণ করা

‘‘যে ব্যক্তি তার মুসলমান ভাইয়ের প্রয়োজন পূরণ করে, আলাহ তার প্রয়োজন পূর্ণ করে দেন। যে ব্যক্তি তার মুসলমান ভাইয়ের কোন অসুবিধা (বিপদ) দূর করে দেয়, আলাহ এর বিনিময়ে কিয়ামাতের দিন তার কষ্ট ও বিপদের অংশ বিশেষ দূর করে দিবেন।’’

 

আমল – ৫২: যিকর

‘‘সুবহানালা-হি ওয়াল হামদু লিলা-হি, ওয়ালা ইলা-হা ইলালাহ-হু আলাহু আকবার’’ এই কালিমা গুলো বলা, সূর্য যে সমস্ত জিনিসের ওপর উদিত হয়, সেই সমুদয় জিনিসের অপেক্ষা অধিকতর প্রিয়।’ [মুসলিম]

 

আমল – ৫৩:

‘‘আলাহ কি তোমাদের জন্য ইশার সলাত জামা’আতে পড়া হজ্জের সমান এবং ফজরের সলাত জামা’আতে পড়া ওমরাহর সমান করেন নি’’ এবং ‘‘যে ফরজ সলাত জামা’আতে পড়ার জন্য হেঁটে যায়, তা হজ্জের সমান এবং যে নফল সলাত পড়ার জন্য হেঁটে যায়, তার সওয়াব নফল ওমরাহর সমান।’’ (সহীহ আল জামি: ৬৪৩২)

 

আমল – ৫৪:

‘‘যে ব্যক্তি ফজরের সলাত জামা’আতের সাথে পড়ে, তারপর সূর্য ওঠার আগ পর্যন্ত আলাহর যিকর করে, তারপর দু’ রাকাআত সলাত পড়ে, সে যেন হজ্জ এবং ওমরাহর সওয়াব পূর্ণ করল। [রসূলুলাহ সালালাহু আলাইহি ওয়া সালাম একথাটি ৩বার জোড়ে জোড়ে পুনরাবৃত্তি করলেন।] [আত-তিরমিজি ‘‘সাহাবীরা বললেন, ‘‘ইয়া রসূলুলাহ! ধনীরা তো আখিরাতে বেশী পুরস্কার পাবে, তারা হজ্জ আদায় করে, আমরা পারিনা, তারা জিহাদ করে এবং আমরা পারিনা। মুহাম্মাদ (সালালাহু আলাইহি ওয়া সালাম) বললেন, ‘‘আমি কি তোমাদের এ রকম কিছুর কথা বলব না, যদি তোমরা এটি শক্ত করে ধরে রাখ, তাহলে তোমরা তাদেও মত সওয়াব অর্জন করতে পারবে। তাহল প্রত্যেক সলাতের পর আলাহু আকবার ৩৪ বার, সুবহান আলাহ ৩৩ বার এবং আলহামদুলিলাহ ৩৩ বার বলা।’’

 

আমল – ৫৫:

‘‘যখন কেউ তার ভাইয়ের জন্য দো’আ করে, তখন ফিরিশতারা বলেন, ‘আমিন, তোমার জন্যও তা।’’ [সাহীহ আল জামি: ২১৪৩] হে আল্লাহ! অবশ্যই আমি তোমার নিকট কঠিন দুরবস্থা (অল্প ধনে জনের আধিক্য), দুর্ভাগ্যের নাগাল, মন্দ ভাগ্য এবং দুশমন-হাসি থেকে রক্ষা কামনা করছি। (মুসলিম)

 

আমল – ৫৬:

অন্য হাদিসে ইরশাদ হচ্ছে, 'হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, দুটি বাক্য এমন রয়েছে, যা বলা সহজ, আমলের পাল্লায় অনেক ভারী, আর আল্লাহর কাছেও অধিক পছন্দনীয়। সেটি হলো, 'সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি সুবহানাল্লাহিল আজিম।' (বুখারি: ৬৪০৬)

 

আমল – ৫৭: সদকায়ে জারিয়াহ

রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, 'যখন মানুষ মারা যায়, তখন তার আমল বন্ধ হয়ে যায়; কিন্তু তিনটি জিনিস বন্ধ হয় না- সদকায়ে জারিয়াহ, ওই ইলম, যা দ্বারা মানুষ উপকৃত হয়; সুসন্তান, যে তার মৃত বাবার জন্য দোয়া করে। (তিরমিজি: ১৩৭৬)

 

আমল – ৫৮: সুরা ইখলাছের ফজিলত

রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, 'তোমরা কি কেউ প্রতি রাতে কোরআন শরিফের এক-তৃতীয়াংশ তিলাওয়াত করতে অক্ষম? তাহলে সে প্রতি রাতে সুরা ইখলাছ পড়বে। তাহলে কোরআনের এক-তৃতীয়াংশ তিলাওয়াতের সওয়াব পাওয়া যাবে।' (মুসনাদে আহমদ: ২৩৫৫৪)

 

আমল – ৫৯: গোপনে নফল পড়ার ফজিলত

রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, 'জনসম্মুখের তুলনায় লুকিয়ে নফল নামাজ পড়ার মধ্যে ২৫ গুণ বেশি সওয়াব।

 

আমল – ৬০: মানুষের উপকার করার ফজিলত

রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, 'কোনো মুসলিম ভাইয়ের প্রয়োজনে কিছুক্ষণ সময় দেওয়া আমার কাছে এক মাস মসজিদে ইতেকাফ করার চেয়েও বেশি পছন্দনীয়।' (আল মু'জামুল কাবির: ১৩৬৪৬)

 

আমল – ৬১: আমলের নিয়তেও সওয়াব মেলে

রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, 'যদি কোনো ব্যক্তি রাতে শয়নকালে এই নিয়ত করে যে সে রাতে উঠে নামাজ পড়বে; কিন্তু প্রচণ্ড ঘুমের কারণে সকাল হয়ে যায়, তাহলে সে তার নিয়ত অনুযায়ী নামাজের সওয়াব পাবে। আর ঘুমটা আল্লাহর পক্ষ থেকে তার জন্য সদকাস্বরূপ হবে। (নাসায়ি: ১৭৮৭)

 

আমল – ৬২: রোগী দেখার ফজিলত

রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, 'যে ব্যক্তি কোনো মুসলমান ভাইয়ের রোগের খোঁজখবর নেয়, আল্লাহ সত্তর হাজার ফেরেশতাকে তার মাগফিরাতের দোয়ায় নিযুক্ত করে দেন। সে দিনের যে সময়ই তা করবে, ফেরেশতারা সন্ধ্যা পর্যন্ত তার জন্য দোয়া করবে। আর রাতের যে সময়ই করবে, ফেরেশতারা ফজর পর্যন্ত তার জন্য দোয়া করবে।' (মুসনাদে আহমদ: ৯৫৫)

 

আমল – ৬৩: বিশুদ্ধ নিয়ত

নিয়ত অর্থ সংকল্প। এটি মনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি আমল। প্রত্যেক কাজ, তা দ্বীনী কাজ হোক কিংবা দুনিয়াবী, শুরুতেই নিয়তকে শুদ্ধ করা কর্তব্য। সব কাজ আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য করার সংকল্পই হচ্ছে বিশুদ্ধ নিয়ত। এই নিয়ত মুমিন বান্দার ব্যক্তিগত জীবন থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় পর্যায় পর্যন্ত প্রায় সকল কাজকেই নেকির কাজে পরিণত করতে পারে। হাদিসে আছে, হজরত উমর ইবনে খাত্তাব (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী করিম (সা.) কে বলতে শুনেছি, নিশ্চয়ই সব আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল। আর প্রত্যেক ব্যক্তি তাই পাবে যার নিয়ত সে করবে। অতএব যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তার রাসূলের উদ্দেশ্যে হিজরত করবে তার হিজরত আল্লাহ ও তার রাসূলের জন্যই হবে। আর যে দুনিয়া লাভের জন্য কিংবা কোনো নারীকে বিয়ের উদ্দেশ্যে হিজরত করবে তার হিজরত উক্ত বিষয়ের জন্যই হবে, যার জন্য সে হিজরত করেছিল। [সহিহ বুখারি, হাদিস- ১; সহিহ মুসলিম হাদিস- ১৯০৭]

 

আমল – ৬৪:

আবু যর রা: থেকে রেওয়ায়েত করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ)বলেছেনঃ-

তিন ব্যাক্তির সাথে রোজ কিয়ামতে আল্লাহ পাক কথা বলবেন না । তাদের দিকে দৃষ্টিপাত করবেন না। তাদের কে পবিত্র করবেন না । আর তদের জন্য রয়েছে ভীষন আযাব। রেওয়ায়েতকারী বলেন তিনি এ আয়াতটি তিনবার পড়লেন । আবু যর রা: বললেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ (সঃ), তারা কারা? তিনি বললেন, তারা হল: যে ব্যাক্তি টাখনুর নিচে কাপড় ঝুলিয়ে পড়ে, যে ব্যাক্তি দান করে খোটা দেয় এবং যে ব্যাক্তি মিথ্যা শপথ করে মাল বিক্রি করে। (মুসলিম-ঈমান পর্ব:১৯৫)

 

আমল – ৬৫:

হজরত নবী করিম (সা.) বলেছেন, কোনো সৎ কাজকেই কখনো তুচ্ছ জ্ঞান করবে না। যদিও তা হয় তোমার ভাইয়ের সঙ্গে হাসিমুখে সাক্ষাত। [সহিহ মুসলিম]। কারণ এই ধরনের সহজ আমলের মধ্যেও অনেক সময় নিহিত থাকে অনেক প্রাপ্তি ও পুরষ্কার। হাদিস শরিফে এমন অনেক আমলের বর্ণনা পাওয়া যায়, যা করতে সহজ, কিন্তু এর বিশাল প্রাপ্তি ও পুরষ্কারের কথা নবী করিম (সা.) ঘোষণা করেছেন।

 

আমল – ৬৬:

আন-নওয়াস বিন সাম’আন রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত হয়েছে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: “উত্তম চরিত্র হচ্ছে নেকী, আর গোনাহ্ তাকে বলে যা তোমার মনকে সংশয়ের মধ্যে ফেলে এবং তা লোকে জানুক তা তুমি অপছন্দ কর।” [মুসলিম: ২৫৫৩]

 

আমল – ৬৭:

আবূ হুরায়রা (রাঃ) বর্ণনা করেছেন:-

আল্লাহ্‌র রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি জুমু‘আর দিন জানাবাত গোসলের ন্যায় গোসল করে এবং সালাতের জন্য আগমন করে সে যেন একটি উট কুরবানী করল। যে ব্যক্তি দ্বিতীয় পর্যায়ে আগমন করে সে যেন একটি গাভী কুরবানী করল। তৃতীয় পর্যায়ে যে আগমন করে সে যেন একটি শিং বিশিষ্ট দুম্বা কুরবানী করল। চতুর্থ পর্যায়ে যে আগমন করল সে যেন একটি মুরগী কুরবানী করল। পঞ্চম পর্যায়ে যে আগমন করল সে যেন একটি ডিম কুরবানী করল। পরে ইমাম যখন খুত্‌বা দেয়ার জন্য বের হন তখন মালাইকা (ফেরেশতাগণ) যিক্‌র শ্রবণের জন্য উপস্থিত হয়ে থাকে। সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৮৮১

 

আমল – ৬৮:

রাসূল (সা:) বলেন.... "অন্ধকারের মধ্যে যাহারা মসজিদে বেশী বেশী যাতায়ত করে, কেয়ামতের দিনের জন্য তাহাদেরকে পূর্ণ নূরের সুসংবাদ শুনাও।"

 

আমল – ৬৯:

হযরত আবু হুরইরহ রদিয়াল্লহু আ’নহু

(أبىْ هريْرة رضى الله عنْه)

হইতে বর্ণিত আছে যে, রসুলুল্লহ সল্লাল্লহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করিয়াছেন, (যখন) কোন বান্দা অন্তরের এখলাসের সহিত, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলে, তখন এই কালেমার জন্য নিশ্চিতরূপে আসমানের দরজাসমূহ খুলিয়া দেওয়া হয়। এমনকি এই কালেমা সোজা আরশ পর্যন্ত পৌঁছিয়া যায়। অর্থাৎ সাথে সাথেই কবুল হইয়া যায়। তবে শর্ত হইল, যদি এই কালেমা পাঠকারী কবীরা গুনাহ হইতে বাঁচিয়া থাকে। (তিরমিযী)

 

আমল – ৭০: ভালো কাজ মন্দ কাজকে মুছে দেয়

আবূ যার জুনদুব বিন জুনাদাহ্ এবং আবূ আব্দুর রহমান মু’আয বিন জাবাল রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা হতে বর্ণিত আছে, তারা বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “তুমি যেখানে যে অবস্থায় থাক না কেন আল্লাহকে ভয় কর এবং প্রত্যেক মন্দ কাজের পর ভাল কাজ কর, যা তাকে মুছে দেবে; আর মানুষের সঙ্গে ভাল ব্যবহার কর।” [তিরমিযী: ১৯৮৭, এবং (তিরমিযী) বলেছেন যে, এটা হচ্ছে হাসান হাদীস। কোন কোন সংকলনে এটাকে সহীহ্ (হাসান) বলা হয়েছে।]

 

দারিদ্রতা ও রোগ থেকে মুক্তি লাভ করার পরীক্ষিত আমল-দোআ!

হজরত আবু হুরাইরা [রা.] বলেন: একদিন আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সঙ্গে বের হলাম, আমার হাত রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাত মুবারক দিয়ে ধরা ছিল। তখন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জীর্ণশীর্ণ আকৃতির একজন লোকের কাছে আসলেন এবং তাকে জিজ্ঞেস করলেন, হে অমুক! তোমার এ অবস্থা কেন? লোকটি বললো, অসুখ-বিসুখ ও দরিদ্রতার কারণে আমার এ দশা। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমি কি তোমাকে এমন কিছু কালিমা শিখিয়ে দেব, যেগুলো পড়লে তোমার অসুখ বিসুখ ও দরিদ্রতা দূর হয়ে যাবে? লোকটি বললো: আপনার সঙ্গে বদর ও ওহুদ যুদ্ধে অংশীদার থাকা অপেক্ষা এসব কোনো কিছুই আমার জন্য তেমন আনন্দদায়ক নয়। একথা শুনে রাসুল সাল্লল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হেসে দিয়ে বললেন, আরে একজন অল্পেতুষ্ট দরিদ্র ব্যক্তি যা পাবে বদর ও ওহুদের অংশীদাররা কি সেথায় পৌঁছতে পারবে? হজরত আবু হুরাইরা [রা.] বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! তাহলে আমাকেই তা শিখিয়ে দিন। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন উপরোক্ত দোয়াটি শিখিয়ে দিলেন। হজরত আবু হুরাইরা [রা.] বলেন: কিছুদিন পর রাসুলসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার কাছে আসলেন, তখন আমার অবস্থা ভাল হয়ে গিয়েছিল। রাসুল আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, কি ব্যাপার! আমি বললাম, আপনি যে কালিমাসমূহ আমাকে শিখিয়ে দিয়েছিলেন আমি সেগুলো নিয়মিত পড়ছি [ফলে আল্লাহ তায়ালা আমার অবস্থার পরিবর্তন করে দিয়েছেন]। [মুসনাদে আবু ইয়ালা-৬৬৭১, ইবনুস সুন্নি-৫৫১, ইবনে কাসির-৫/১৩৭, রূহুল মাআনি-৮/২৬৬] রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যখনই কোনো বিষয়ে আমি চিন্তিত হয়েছি বা বিপদে পড়েছি তখনই হজরত জিবরাইল আলাইহিস সালাম কোনো মানুষের আকৃতিতে এসে আমাকে বলতেন: হে মুহাম্মদ! আপনি বলুন... [এই দোয়াটি পড়তে বলতেন] [মুসতাদরাকে হাকেম-১৮৮৬, তারগিবুত তারহিব-২৮১৫ এর বরাতে-রূহুল মাআ’নী-৮/২৬৬]

 

আরবি দোআ : একবার

‎تَوَكَّلْتُ عَلَى الْحَيِّ الَّذِي لاَ يَمُوتُ الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي لَمْ يَتَّخِذْ وَلَدًا وَلَمْ يَكُنْ لَهُ شَرِيكٌ فِي الْمُلْكِ وَلَمْ يَكُنْ لَهُ وَلِيٌّ مِنَ الذُّلِّ وَكَبِّرْهُ تَكْبِيرًا.

বাংলা উচ্চারণ : তাওয়াক্কালতু আলাল হায়্যাল্লাজি লা ইয়ামুতু। আলহামদুলিল্লাহিল্লাজি লাম ইয়াত্তাখিজু, ওয়ালাদান ওয়া লাম ইয়াকুন লাহু শারিকান ফিল মুলকি। ওয়া লাম ইয়াকুন লাহু ওয়ালিয়ূন মিনাজ জুললি। ওয়া কাববিরহু তাকবির।

অর্থ : আমি ভরসা করলাম ওই চিরঞ্জীব সত্তার উপর যিনি কখনো মৃত্যু বরণ করবেন না। সমস্ত প্রশংসা ওই আল্লাহর জন্য যিনি কোনো সন্তান গ্রহণ করেননি। তার রাজত্বের মাঝে কোনো অংশীদার নেই এবং তাকে লাঞ্চনা থেকে বাঁচানোর জন্য কোনো সহযোগীর প্রয়োজন নেই। অতএব তুমি উত্তমরূপে তাঁরই বড়ত্ব ও মহিমা বর্ণনা কর। [১৭:১১১]

 

দরিদ্রতা থেকে মুক্তি লাভের পরীক্ষিত আমল:

ইমাম মালেক রহ. হজরত ইবনে উমর [রা.] থেকে বর্ণনা করেন যে, একবার এক ব্যক্তি হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে বললো: ইয়া রাসুলাল্লাহ! দুনিয়া আমার থেকে বিমুখ হয়েছে এবং পৃষ্ঠ প্রদর্শণ করেছে। রাসুল বললেন, তুমি কি ফেরেশতাদের দোয়া ও আল্লাহর সব সৃষ্টিজীবের তাসবীহ পড় না? যে তাসবীহের কারণে তাদেরকে রিজিক দেয়া হয়? সুবহে সাদেকের সময় তুমি সে তাসবীহ একশবার করে পড়বে, তাহলে দেখবে দুনিয়া তোমার কাছে তুচ্ছ হয়ে আসবে। লোকটি চলে গেল। এবং এ দোয়াটি পড়তে লাগল। কিছুদিন পরে আবার সে ফিরে এসে বললো ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমার কাছে এত অধিক সম্পদ জমা হয়েছে যেগুলো হেফাজত করার মত কোনো জায়গা আমার কাছে নেই। [জিয়াউন্নবী-৫/৯০২]

আরবি দোআ سبحان الله وبحمده سبحان الله العظيم أستغفر الله

সুবহানাল্লাহি ওয়াবিহামদিহি সুবহানাল্লাহিল আজিম। আসতাগফিরুল্লাহ। (১০০ বার)

অর্থ: আল্লাহ তায়ালা সব অসম্পূর্ণতা থেকে পবিত্র এবং সমস্ত প্রশংসা তাঁরই। মহান আল্লাহ পবিত্র। আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থণা করছি।

 

কাউকে কিছু টাকা ধার দিলে প্রতিদিন সমপরিমাণ টাকা দান করার সাওয়াব পাবেন

ধরুন, আপনি কাউকে দুই মাসের জন্য ১ হাজার টাকা ধার দিলেন। তো হাদিসের ভাষ্যমতে আপনি এখন এই দুই মাস পর্যন্ত প্রতিদিন ১ হাজার টাকা দান করার সাওয়াব পাবেন। কী দারুণ তাই না? আরো ইন্টারেস্টিং ব্যাপার হল, দুইমাস পর যদি ঋণগ্রহীতা টাকা ফেরত দিতে অপারগ হয় এবং আপনি যদি বলেন, যাও! আরো কিছুদিন সময় দিলাম। যখন সামর্থ হয় ফেরত দিও। তাহলে দুই মাস পর থেকে পরে যতদিন সময় বাড়বে তার বিনিময়ে প্রতিদিন ২ হাজার টাকা দান করার সাওয়াব পাবেন। কী অবাক হলেন?

 

আসুন এবার হাদিসখানা একটু পড়ে নিই।

عَنْ بريدة، قَالَ : سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ:

হযরত বুরায়দা রা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, আমি আল্লাহর রাসুল থেকে বলতে শুনেছি....

" مَنْ أَنْظَرَ مُعْسِرًا فَلَهُ بِكُلِّ يَوْمٍ مِثْلُهُ صَدَقَةٌ ".

যে ব্যক্তি কোনো অভাবীকে [ঋণ আদায়ে] অবকাশ দিবে সে প্রতিদিন ওই পরিমাণ সম্পদ সদকার সাওয়াব পাবে...

قَالَ: ثُمَّ سَمِعْتُهُ يَقُولُ : " مَنْ أَنْظَرَ مُعْسِرًا فَلَهُ بِكُلِّ يَوْمٍ مِثْلَيْهِ صَدَقَةٌ"

হযরত বুরায়দা রা. বলেন, অতঃপর আমি আল্লাহর রাসুলকে [আবার] বলতে শুনলাম, যে ব্যক্তি কোনো অভাবীকে [ঋণ আদায়ে] সুযোগ দিবে সে প্রতিদিন উক্ত ঋণের দিগুণ পরিমাণ সম্পদ সদকার সাওয়াব পাবে...

. قُلْتُ : سَمِعْتُكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ تَقُولُ: " مَنْ أَنْظَرَ مُعْسِرًا فَلَهُ بِكُلِّ يَوْمٍ مِثْلُهُ صَدَقَةٌ "، ثُمَّ سَمِعْتُكَ تَقُولُ : " مَنْ أَنْظَرَ مُعْسِرًا فَلَهُ بِكُلِّ يَوْمٍ مِثْلَيْهِ  صَدَقَةٌ"

আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসুল! আমি আপনাকে একবার বলতে শুনলাম, যে ব্যক্তি অভাবীকে [ঋণ আদায়ে] অবকাশ দিবে সে প্রতিদিন ওই পরিমাণ সম্পদ সদকার সাওয়াব পাবে। এরপর আবার বলতে শুনলাম, যে ব্যক্তি অভাবীকে [ঋণ আদায়ে] সুযোগ দিবে সে প্রতিদিন উক্ত ঋণের দিগুণ পরিমাণ সম্পদ সদকার সাওয়াব পাবে। [এর ব্যাখ্যা কী?]

. قَالَ لَهُ : " بِكُلِّ يَوْمٍ صَدَقَةٌ قَبْلَ أَنْ يَحِلَّ الدَّيْنُ، فَإِذَا حَلَّ الدَّيْنُ فَأَنْظَرَهُ فَلَهُ بِكُلِّ يَوْمٍ مِثْلَيْهِ صَدَقَةٌ ".

তখন আল্লাহর রাসুল বললেন, ঋণের মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগ পর্যন্ত প্রতিদিন ঋণের সমপরিমাণ দানের সাওয়াব হবে। অতঃপর যখন মেয়াদ পূর্ণ হয়ে যাবে—কিন্তু ঋণ আদায়ে অক্ষমতা প্রকাশ করবে—তখন যদি আবার সময় বাড়িয়ে দেওয়া হয়, তাহলে প্রতিদিন দিগুণ দানের সাওয়াব হবে। [মুসনাদে আহমাদ: ২৩০৪৬]

 

দোয়া কবুলের শ্রেষ্ঠ মুহূর্ত

আল্লাহর কাছে বিশেষভাবে দোয়া বা কিছু চাওয়ার ক্ষেত্রে কিছু বিশেষ মুহূর্তকে বেছে নেয়া উত্তম। দোয়ার বিশেষ মুহূর্ত আছে অনেকগুলো। আমরা অধিকাংশই এই সময়গুলোর ব্যাপারে জানি না। না জানার কারণে এই সময়গুলোতে দোয়ার ব্যাপারে আমরা গুরুত্বও দিই না। এটি আমাদের জন্য আসলে এক প্রকার লোকসানের ব্যাপার।

 

দোয়া কবুলে বিশেষ মুহূর্তগুলো একসাথে উল্লেখ করছি। হতে পারে এটি আমাদের কারো কারো উপকারে আসতে পারে।

 

দুআ কবুলের দিনসমূহঃ

১. জুমুআর দিন।

২. আরাফার দিন

৩. উভয় ঈদের দিন

৪. রজবের সাতাশ তারিখ

৫. শাবানের পনেরো তারিখ

৬. রমজানের ১৭ রোজার দিন

৭. আশুরা তথা মুহাররমের ১০ তারিখ

৮. জিলহজ মাসের প্রথম দশ দিন এবং আইয়ামে তাশরিকের দিনসমূহ

 

দুআ কবুলের রাতসমূহঃ

১. রমজানের পুরো মাস, বিশেষত শেষের দশের বিজোড় রাত

২. ইফতারির সময়

৩. জুমুআর রাত

৪. রজবের প্রথম রাত

৫. রজবের পনেরোতম রাত

৬. রজবের সাতাইশতম রাত

৭. মুহাররমের প্রথম রাত

৮. মুহাররমের দশম রাত

৯. শাবানের পনেরোতম রাত

১০. জিলহজের নবব রাত

১১. দুই ঈদের রাত

১২. জিলহজের চৌদ্দ ও পনেরোতম রাত।

 

বিভিন্ন মকবুল সময়ঃ

১. ওজুর মাঝামাঝি ও ওজুর শেষের সময়

২. আজান শোনার মুহূর্ত, আজানের মধ্যবর্তী ও পরের মুহূর্ত

৩. আজান ও ইকামাতের মধ্যবর্তী সময়

৪. হাইয়ালাতাইনের পরবর্তী সময় (হাইয়ালাতাইনের (Hay'ala-tain) বা আযানের 'হাইয়া আলাস সালাহ' ও 'হাইয়া আলাল ফালাহ' অংশটির পরবর্তী সময়ে মুয়াজ্জিন 'আস-সালাতু খাইরুম মিনান নাওম' (فجرের আযানের ক্ষেত্রে) এবং সাধারণভাবে 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' বলে থাকেন।)

৫. ইকামাত শুরু হওয়ার মুহূর্ত

৬. নামাজে সুরা ফাতেহা শেষ হওয়ার পর

৭. ফরজ নামাজসমূহের পর

৮. সিজদার সময়

৯. কুরআন তিলাওয়াতের পর

১০. তিলাওয়তে কুরআন খতম হওয়ার পর

১১. মুসলিমদের জমায়েতের স্থান ও সময়

১২. জিকিরের মজলিসের সময়

১৩. উলামায়ে রব্বানি ও আহলুল্লাহদের প্রতি দৃষ্টিপাতের সময়

১৪. বৃষ্টি বর্ষণের সময়

১৫. অসুস্থতার সময়

১৬. রোগীর সেবা শশ্রুষাকারীর দুআ

১৭. অপারগতা, অস্বচ্ছলতা এবং অসহায়ত্বের সময়

১৮. সফরের সময়

১৯. সূর্য উদয়, অস্ত ও হেলার সময়, বিশেষত জুমার দিন

২০. শেষ রাতে মোরগা আজান দেওয়ার সময়

২১. সুবহে সাদিকের সময়

২২. রাতের বেলা, বিশেষত অর্ধরাত্রির পর

২৩. রাতের প্রথম এক তৃতীয়াংশের সময়

২৪. রাতের শেষ এক তৃতীয়াংশের সময়

২৫. রাতের শেষ এক ষষ্ঠাংশের সময়

২৬. মাজলুমের দুআ

২৭. জিহাদের কাতারে অবস্থানের সময়

২৮. কাফেরদের সাথে প্রচণ্ড লড়াইয়ের সময় ইসলামী সেনাবাহিনীর দুআ

২৯. যখন মৃত্যু শয্যায় শায়িত ব্যক্তির শেষ সময় হয় এবং তার রুহ চলে যেতে থাকে আর মানুষ তার চোখ ও মুখ বন্ধ করে দিতে থাকে, তখনকার সময়

৩০. বাইতুল্লাহকে প্রথমবার দেখার সময়

৩১. যমযমের পানি পান করার সময়।

 

দোয়া কবুল হওয়ার ২৯টি স্থান, ক্ষেত্র ও সময়

১)সুরা ফাতিহা পাঠ করার পর, সুরা বাকারার শেষ দুই আয়াত পাঠ করে দু'আ করলে দু'আ কবুল হয়।(মুসলিম-৮০৬)

২) অনুপস্থিত ব্যক্তির জন্য দু'আ, কোন মুসলিমের অগোচরে অন্য মুসলিমের জন্য দু'আ করলে দু'আ কবুল হয়। (মুসলিম-৬৮২২)

৩) জালিমের বিরুদ্ধে মাজলুম ব্যক্তির দু'আ কবুল হয়। (তিরমীযি-৩৪৪৮)

৪) মা-বাবা তার সন্তানের জন্য দু'আ করলে দোয়া কবুল হয়। (তিরমীযি-৩৪৪৮)

৫) নেককার সন্তানের দু'আ কবুল হয়। (বাবা-মায়ের জন্য তাদের মৃত্যুর পর)। (আবু দাউদ-২৮৮০)

৬) আরাফাতের ময়দানে দু'আ করলে দু'আ কবুল হয়। (তিরমীযি-৩৫৮৫)

৭) বিপদগ্রস্ত অসহায় ব্যক্তির দু'আ তাড়াতাড়ি কবুল হয়। (সূরা নমল৬২,৫৭ ও সূরা ইসরার ৬৭ নাম্বার আয়াত)

৮) সেজদায় দু'আ করলে দু'আ কবুল হয়। (নাসায়ী১০৪৫)

৯) হজ্জের স্থানসমূহের দু'আ তাড়াতাড়ি কবুল হয়। যেমন: আরাফাহ, মুজদালিফা, মিনা...। (ইবনে মাজাহ-২৮৯২)

১০) হজ্জ করা অবস্থায় হাজ্জীর দু'আ কবুল হয়। (ইবনে মাজাহ-২৮৯৩)

১১) উমরাহ করার সময় উমরাহকারীর দু'আ কবুল হয়। (নাসায়ী-২৬২৫)

১২) আযানের পর দু'আ কবুল হয়। (তিরমীযি-২১০)

১৩) ক্বিতাল চলাকালীন সময় দু'আ করলে দু'আ কবুল হয়। (আবু দাউদ-২৫৪০)

১৪) বৃষ্টি বর্ষণকালে দু'আ করলে দু'আ কবুল হয়। (আবু দাউদ-২৫৪০)

১৫) শেষ রাতের দু'আ, তাহাজ্জুদের সময়কার দু'আ কবুল হয়। বুখারী-১১৪৫)

১৬) জুম্মার দিনে দু'আ কবুল হয়, আসরের শেষ দিকে তালাশ করার জন্য নির্দেশ আছে। (নাসায়ী-১৩৮৯)

১৭) লাইলাতুল ক্বদরের রাত্রির দু'আ কবুল হয়। (বুখারী ও মুসলিম)

১৮) আযান ও ইকামতের মধ্যবর্তী সময়কার দু'আ কবুল হয়। (আহমাদ-১৪৬৮৯, মুসলিম-৬৬৮)

১৯) ফরয সালাতের শেষ অংশে দু'আ করলে কবুল হয়। (সালাম ফিরানোর আগে)। (রিয়াদুস স্বালেহীন ১৫০৮, তিরমীযি-৩৪৯৯)

২০),মুসাফিরের দু'আ কবুল হয়। (সফর অবস্থায়)। (তিরমীযি-৩৪৪৮)

২১) রোজাদার ব্যক্তির দু'আ কবুল হয়। (রোজা অবস্থায়)। (ইবনে মাজাহ-১৭৫২)

২২) ন্যায়পরায়ণ শাসকের দু'আ কবুল হয়। (তিরমীযি-২৫২৬)

২৩) দু'আ ইউনুস পাঠ করে দু'আ করলে দু'আ কবুল হয়। (তিরমীযি-৩৫০৫)

২৪) ইসমে আযম পড়ে দু'আ করলে দু'আ কবুল হয়। (ইবনে মাজাহ-৩৮৫৬)

ইসমে আযম: আল্লা-হুম্মা ইন্নী আস-আলুকা বি-আন্না লাকাল হামদু লা ইলাহা ইল্লা আন্তা ওয়াহ'দাকা লা-শারীকা লাকা আল মান্না-ন। ইয়া বাদীউস সামা-ওয়াতি ওয়াল - আরদ্বি ইয়া জাল জালালি ওয়াল ইকরাম। ইয়া হা'ইয়্যু ইয়া কাইয়্যুম। (নাসাঈ-১৩০০)

[হাদিস শরীফে মোট তিনটি ইসমে আযম এসেছে, যে কোন একটি পড়লেই হবে, তবে এটিই বেশি প্রচলিত]

২৫) বিপদে পতিত হলে যে দু'আ পড়া হয় (ইন্না লিল্লা-হি... রাজিউন) এবং (আল্লা-হুম্মা আজিরনি ফি মুসিবাতি ওয়া ওয়াখলিফলী খইরাম মিনহা...) তখন দু'আ কবুল হয়। (মিশকাতুল মাসীবাহ-১৬১৮, মুসলিম -৯১৮)

২৬) জমজমের পানি পান করার পর দু'আ করলে কবুল হয়। (ইবনে মাজাহ-৩০৬২, আহমদ৩/৩৫৭)

২৭) নির্যাতীত ব্যাক্তি দু'আ করলে দু'আ কবুল হয়। (তিরমীযি-৩৪৪৮)

২৮) যখন তোমরা মোরগের ডাক শুনবে, তখন তোমরা আল্লাহর অনুগ্রহ চাইবে (দোয়া করবে), কেননা সে একটি ফেরেশতা দেখেছে। (বুখারী (ফাতহুল বারীসহ), ৬/৩৫০, নং ৩৩০৩; মুসলিম, ৪/,২০৯২, নং ২৭২৯)

২৯) দু'হাত তুলে দোয়া করা, কারণ আল্লাহ বান্দার খালি হাত ফিরিয়ে দিতে লজ্জাবোধ করেন। (আবু দাউদ-১৪৮৮)

 

কোন সময় দোয়া করলে বেশি কবুল হয়? 🚫

দোয়া অন্যতম ইবাদত। দোয়া করতে হয় প্রশান্তচিত্তে ও দৃঢ় মনে। দোয়াকে আল্লাহর রাসুল (সা.) ইবাদতের মগজ আখ্যায়িত করেছেন। যেকোনো প্রতিকূল পরিস্থিতিতে তিনি দোয়ায় নিমগ্ন হতেন।

আল্লাহর কাছে চাইতে হবে বিপুল আকুলতায়। প্রার্থনা করতে হবে তার রহমত ও অনুকম্পা। সুস্থির হৃদয় ও মনোযোগ দিয়ে চাইলে আল্লাহ দোয়া কবুল করেন। তার কাঙ্ক্ষিত ও প্রত্যাশিত বিষয় সমাধা করে দেন।

যেকোনো সময় আল্লাহ তাআলা দোয়া কবুল করেন। তবে হাদিসে কিছু বিশেষ সময়ের কথা উল্লেখ রয়েছে, যখন দোয়া করলে কবুল হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি।

§  শেষ রাতে দোয়া করলে কবুল হয়

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, ‘মহান আল্লাহ প্রতি রাতের শেষ প্রহরে (যখন রাতের এক-তৃতীয়াংশ বাকি থাকে) দুনিয়ার আকাশে অবতরণ করেন। তিনি তখন বলেন, ‘আছ কি কোনো আহ্বানকারী? আমি তোমার ডাকে সাড়া দেব। কোনো প্রার্থনাকারী কি আছো, আমি তোমাকে যা চাও তা দেব? কেউ কি ক্ষমা প্রার্থনা করবে, আমি তোমাকে ক্ষমা করে দেব।’ (মুসলিম, হাদিস: ৭৫৮)

 

§  সিজদার সময় দোয়া

সিজদা আল্লাহর কাছে প্রিয় আমল। সিজদা বান্দাকে আল্লার একবারে কাছে পৌঁছিয়ে দেয়। আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেন, ‘সিজদারত বান্দা আল্লাহর সবচেয়ে নিকটবর্তী। সুতরাং সে সময় বেশি বেশি দোয়া করো।’ (মুসলিম, হাদিস: ৪৮২)

 

§  আজানের সময় দোয়া

মুসলমানদের প্রধানতম সংস্কৃতি আজান। আজানের মাধ্যমে ইসলামের আহ্বান ভেসে যায় সবখানে। আজানের সময় দোয়া কবুল হয়। রাসুল (সা.) বলেন, ‘যখন মুয়াজ্জিন আজান দেয় আসমানের দোয়ার খুলে যায় ও দোয়া কবুল হয়’ (মাজমাউজ জাওয়ায়েদ, হাদিস: ১৮৮৪)

 

§  আজান ও ইকামতের মধ্যবর্তী সময়ে দোয়া

হাদিসে এসেছে, আজান ও ইকামতের মধ্যবর্তী সময়ে দোয়া কবুল হয়। আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেন, ‘আজান ও ইকামতের মধ্যবর্তী দোয়া ফিরিয়ে দেওয়া হয় না।’ (তিরমিজি, হাদিস: ২১২)

 

§  ফরজ নামাজের পর দোয়া

আবু উমামা (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, ‘একবার রাসুল (সা.)-কে জিজ্ঞেস করা হলো, হে আল্লাহর রাসুল! কোন সময়ের দোয়া দ্রুত কবুল হয়? তিনি উত্তর দিলেন, ‘রাতের শেষ সময়ে এবং ফরজ নামাজের পর।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ৩৪৯৮)

 

§  জুমার দিন দোয়া কবুল হয়

শুক্রবার সপ্তাহের সেরা দিন। অন্য দিনের চেয়ে মর্যাদায় শ্রেষ্ঠ। এ দিনে মানুষের দোয়া কবুল হয়। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবুল কাসিম (সা.) বলেন, ‘জুমার দিনে এমন একটি মুহূর্ত আছে, যদি সে মুহূর্তটিতে কোনো মুসলিম দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করে, আল্লাহর কাছে কোনো কল্যাণের জন্য দোয়া করলে তা আল্লাহ তাকে দান করবেন।’ (বুখারি, হাদিস: ৬৪০০; মুসলিম, হাদিস: ১৪০৭)

 

§  বৃষ্টির সময় দোয়া কবুল হয়

বৃষ্টির সময় মহানবী (সা.) বেশি বেশি দোয়া করতেন। রাসুল (সা.) বলেন, ‘দুই সময়ের দোয়া ফিরিয়ে দেওয়া হয় না। আজানের সময়ের দোয়া ও বৃষ্টি বর্ষণের সময়ের দোয়া।’ (সুনানে আবু দাউদ, সহিহুল জামি, হাদিস: ৩০৭৮)

 

§  রমজান ও শবে কদরের রাত

পবিত্র রমজান মাস অতি বরকতময়। রহমত, নাজাত ও মাগফিরাতোর মাস। রমজানে ইফতারের সময় দোয়া কবুল হয়। এছাড়াও আছে হাজার রাতের চেয়ে উত্তম মহিমান্বিত কদর। বরকতময় এ রাতে ফেরেশতারা বান্দার দোয়া আল্লাহর দরবারে নিয়ে যান।

রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি ইমানের সঙ্গে সওয়াব লাভের আশায় লাইলাতুল কদরে রাত জেগে দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করে, তার আগের (জীবনের) সব গোনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ১৩৭২)

 

§  হজের মৌসুমে দোয়া করলে কবুল হয়

প্রিয়নবী (সা.) বলেন, ‘জিলহজের এ দশকে সম্পাদিত আমল থেকে আল্লাহর কাছে উত্তম কোনো আমল নেই। সাহাবায়ে কেরাম প্রশ্ন করেন, তাহলে আল্লাহর রাস্তায় জিহাদও কি নয়? তিনি বলেন, না, আল্লাহর রাস্তায় জিহাদও নয়। তবে কোনো ব্যক্তি যদি জান-মাল নিয়ে আল্লাহর পথে বের হয় অতঃপর জিহাদের ময়দান থেকে কিছুই নিয়ে না ফিরে।’ (অর্থাৎ শহীদ হয়ে যায়, তাহলে সে ব্যক্তি ব্যতিক্রম) (মুসনাদে আবি ইয়ালা, হাদিস: ২০৯০)

 

§  রোগে আক্রান্ত অবস্থায়,

§  বিপদ-আপদের সময়,

§  দূরবর্তী সফরের সময়

§  সন্তানের জন্য মা-বাবার দোয়া খুব বেশি কবুল হয়।

 

জান্নাতি মানুষের ১১ গুণ

♦️জান্নাতি মানুষের দুনিয়াবি জীবন একজন প্রবাসীর মতোই। বিদেশের মাটিতে প্রবাসীর মনটা যেমন স্বদেশের জন্য ছটফট করে, তেমনি প্রকৃত মুমিনের মনও সদা জান্নাতে যেতে ব্যাকুল থাকে। হাদিসে প্রিয়নবী (স.) দুনিয়াকে মুমিনের জেলখানা বলে আখ্যায়িত করেছেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘পৃথিবী মুমিনের জেলখানা এবং কাফেরের জন্য জান্নাত।’ (ইবনে মাজাহ: ৪১১৩) প্রকৃত মুমিন সর্বদা নেক কাজ করে এবং অন্যকেও সে নেক কাজের প্রতি উৎসাহিত করে। এখানে জান্নাতি মানুষের ১১টি গুণ তুলে ধরা হলো।

 

(১) নেক আমলের প্রতি ঝোঁক।

জান্নাতি মানুষের প্রধান বৈশিষ্ট্যই হলো—নেক আমলের প্রতি ঝোঁক থাকবে তাদের। কেননা আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেন, ‘যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকাজ করেছে, তারাই জান্নাতের অধিবাসী। তারা সেখানে চিরকাল থাকবে।’ (সূরা বাকারা : ৮২) অন্যত্র ইরশাদ হয়েছে, ‘যারা ভালো কাজ করেছে, তাদের জন্য রয়েছে কল্যাণ এবং তার চেয়েও বেশি। সেদিন তাদের চেহারাকে স্পর্শ করবে না মলিনতা কিংবা অপমান। তারাই হবে জান্নাতের অধিবাসী, তারা সেখানে থাকবে চিরকাল। কিন্তু যারা মন্দ কাজ করেছে, তাদের মন্দের প্রতিফল মন্দের মতোই হবে, অপমান তাদের আচ্ছন্ন করে ফেলবে; সেদিন আল্লাহর আজাব থেকে তাদের রক্ষাকারী কেউ থাকবে না। তাদের চেহারা এমন কালো হবে, যেন তাদের মুখমণ্ডলকে ঢেকে দেয়া হয়েছে আঁধার রাতের টুকরো দিয়ে। এরা হচ্ছে জাহান্নামের অধিবাসী। এরা সেখানে অনন্তকাল থাকবে।’ (সূরা ইউনুস : ২৬-২৭)

(২) গুনাহ হয়ে গেলে অবিলম্বে তওবা করা।

দ্রুত তওবা করা জান্নাতি মানুষের বৈশিষ্ট্য। এ প্রসঙ্গে পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করা হয়েছে, ‘আল্লাহ তাদেরই তওবা কবুল করেন, যারা না জেনে মন্দ কাজ করে, তারপর অচিরেই তওবা করে। এদেরই তওবা আল্লাহ কবুল করেন। আল্লাহ মহাজ্ঞানী প্রজ্ঞাময়।’ (সুরা নিসা: ১৭) আরও ইরশাদ হয়েছে, ‘তারা কখনো কোনো অশ্লীল কাজ করে ফেললে কিংবা কোনো মন্দ কাজে জড়িত হয়ে নিজের ওপর জুলুম করে ফেললে, আল্লাহকে স্মরণ করে এবং নিজের পাপের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে। আল্লাহ ছাড়া আর কে পাপ ক্ষমা করবে? তারা নিজেদের কৃতকর্মের জন্য হঠকারিতা প্রদর্শন করে না এবং জেনে-শুনে তা-ই করতে থাকে না। তাদের জন্য প্রতিদান হলো তাদের পালনকর্তার ক্ষমা ও জান্নাত, যার তলদেশে প্রবাহিত হচ্ছে প্রস্রবণ-যেখানে তারা থাকবে অনন্তকাল। যারা সৎ কাজ করে তাদের জন্য কতই না চমৎকার প্রতিদান।’ (সুরা আলে ইমরান: ১৩৫-১৩৬)

(৩) সহজ-সরল নম্রভাষী মানুষ।

আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রা.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘আমি কি তোমাদেরকে জানিয়ে দিবো না, কোন ব্যক্তির জন্য জাহান্নাম হারাম এবং জাহান্নামের জন্য কোন ব্যক্তি হারাম? যে ব্যক্তি মানুষের কাছাকাছি (জনপ্রিয়), সহজ-সরল, নম্রভাষী ও সদাচারী।’ (তিরমিজি: ২৪৮৮)

(৪) হিংসা-বিদ্বেষ না থাকা।

পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আর আমি তাদের অন্তর থেকে হিংসা-বিদ্বেষ বের করে ফেলব, তারা সেখানে ভাই ভাই হয়ে আসনে মুখোমুখি বসবে।’ (সুরা হিজর: ৪৭)

(৫) মানুষের ওপর রাগ না করা।

নবীজি (স.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি নিজের ক্রোধ চরিতার্থ করার ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও তা সংবরণ করে, আল্লাহ তাকে কেয়ামতের দিন সমগ্র সৃষ্টির সামনে ডেকে আনবেন এবং জান্নাতের যেকোনো হুর নিজের ইচ্ছামতো বেছে নেওয়ার অধিকার দান করবেন।’ (ইবনে মাজাহ: ৪১৮৬)। প্রিয়নবী (স.) আরও বলেন, ‘আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য বান্দার ক্রোধ সংবরণে যে মহান প্রতিদান রয়েছে, তা অন্য কিছুতে নেই।’ (ইবনে মাজাহ: ৪১৮৯)

(৬) কুপ্রবৃত্তি থেকে আত্মসংবরণকারী (ধৈর্যশীল) জান্নাতি।

আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘অনন্তর যে সীমালঙ্ঘন করে এবং পার্থিব জীবনকে অগ্রাধিকার দেয় জাহান্নামই হবে তার আবাস। পক্ষান্তরে যে তার রবের সামনে উপস্থিত হওয়ার ভয় করে এবং কুপ্রবৃত্তি থেকে নিজেকে বিরত রাখে জান্নাতই হবে তার ঠিকানা।’ (সুরা নাজিয়াত: ৩৭-৪০)

(৭) দুর্বল।

(৮) মজলুম।

হারিসা ইবনে ওয়াহাব (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী (স.)-কে বলতে শুনেছি—‘আমি কি তোমাদেরকে জান্নাতি লোকদের সম্পর্কে অবহিত করব না? তারা হবে দুনিয়াতে দুর্বল, মাজলুম। তারা যদি কোন কথায় আল্লাহর ওপর কসম করে ফেলে, তবে আল্লাহ তাআলা তা পূর্ণ করে দেন। আর যারা জাহান্নামে যাবে তারা হবে অবাধ্য, ঝগড়াটে ও অহংকারী।’ (বুখারি: ৬২০২)

(৯) ন্যায়পরায়ণ সত্যবাদি।

(১০) দয়ালু মানুষ।

(১১) চরিত্রবান।

 

হাদিসে এসেছে, ‘তিন শ্রেণীর মানুষ জান্নাতি। প্রথমত, রাষ্ট্রের কর্ণধার, ন্যায়পরায়ণ, সত্যবাদী এবং নেক কাজের সুযোগ লাভে ধন্য লোক। দ্বিতীয়ত, দয়ালু, আত্মীয়-স্বজন ও মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতি কোমলচিত্ত লোক। তৃতীয়ত, পুতপবিত্র চরিত্রের অধিকারী, ভিখারি নয় এবং সন্তানাদি সম্পন্ন লোক।..’ (মুসলিম: ৭০৯৯)

 

শির্ক পাঁচ প্রকার।

(১) জ্ঞানগত শির্ক

(২) ব্যবহারগত শির্ক

(৩) ইবাদতে শির্ক

(৪) অভ্যাসগত শির্ক

(৫) ভালবাসায় শির্ক।

এগুলো হল বড় শির্ক বা ‘শির্কে আকবার’। এতদ্ব্যতীত ‘শির্কে আছগার’ বা ছোট শির্ক হল ‘রিয়া’ বা লোক দেখানো দ্বীনদারী। যা বড় শির্কের এক দর্জা নীচে এবং সবচেয়ে বড় কবীরা গোনাহ।

 

(১) জ্ঞানগত শির্ক: এর অর্থ হল আল্লাহ ব্যতীত অন্যকে অদৃশ্য জ্ঞানের অধিকারী মনে করা। বিপদ-আপদে অন্য কোন অদৃশ্য সত্তাকে আহবান করা, অন্যের নামে যিকর করা বা ধ্যান করা ইত্যাদি।

 

(২) ব্যবহারগত শির্ক: এর অর্থ সৃষ্টির পরিকল্পনা ও সৃষ্টি জগতের পরিচালনায় অন্য কাউকে শরীক গণ্য করা। পবিত্র কুরআন ও ছহীহ হাদীছের আলোকেই মুসলমানের রাজনীতি, অর্থনীতি, বিচারনীতি, শিক্ষানীতি, ধর্মীয় নীতি, সমাজনীতি সবকিছু পরিচালিত হবে। এটাই হল তাওহীদের মূল কথা এবং এর বিপরীতটাই হল শির্ক।

 

(৩) ইবাদতে শির্ক: এর অর্থ হল ইবাদত বা উপাসনার ক্ষেত্রে আল্লাহর সাথে অন্যকে শরীক করা। যেমন আল্লাহ ব্যতীত অন্যকে সিজদা করা, অন্যের নামে যবহ করা, মানত করা, অন্যের নিকটে প্রার্থনা করা, অন্যকে ভয় করা, আকাঙ্ক্ষা করা, যে আনুগত্য ও সম্মান আল্লাহকে দিতে হয় সেই আনুগত্য ও সম্মান অন্যের প্রতি প্রদর্শন করা, কবরপূজা করা ইত্যাদি। পৃথিবীর সবচাইতে প্রাচীনতম শির্ক হ’ল মূর্তিপূজা।

 

(৪) অভ্যাসগত শির্ক: এর অর্থ হল মানুষ অভ্যাস বশতঃ অনেক সময় শির্ক করে থাকে। শির্কী কথা মুখ দিয়ে উচ্চারণ করে, হালালকে হারাম করে, হারামকে হালাল করে ইত্যাদি। যেমন বিশ্বব্যাপী প্রচলিত রেওয়াজের দোহাই দিয়ে দেশে সূদী অর্থনৈতিক ব্যবস্থা চালু রাখা, কারো সম্মানে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা, নিজেদের বানানো শহীদ মিনার, শিখা অনির্বাণ, শিখা চিরন্তন, স্মৃতিসৌধ, ভাষ্কর্য, টাঙ্গানো ছবি বা চিত্রে ইত্যাদিতে ফুলের মালা বা পুষ্পাঞ্জলী নিবেদন করা।

 

(৫) ভালবাসায় শির্ক: এর অর্থ বান্দার ভালবাসাকে আল্লাহর ভালবাসার ঊর্ধ্বে স্থান দেওয়া। অর্থাৎ পবিত্র কুরআন ও ছহীহ হাদীছে বর্ণিত বিধানের ঊর্ধ্বে কোন মুজতাহিদ ইমাম, মুফতী, পীর-আউলিয়া বা শাসনকর্তার আদেশ-নিষেধ ও বিধান সমূহকে অধিক ভালোবাসা ও তদনুযায়ী আমল করা।

 

সমাজে প্রচলিত কিছু শির্ক এর তালিকা

শির্ক হচ্ছে সকল পাপের চাইতে বড় পাপ। যা আল্লাহ তা’আলা কখনো ক্ষমা করবেন না (দুনিয়ায় থাকতে ক্ষমা না চাইলে)। শির্ক করলে জীবনের সকল নেক আমল মুহুর্তে নষ্ট হয়ে যায় ও শির্ক করলে আল্লাহকে অপমান করা হয়।

 

<– নিচের কথা গুলো বিশ্বাস বা মেনে চললে শির্ক হয় । –>

1.       আপনি ছিলেন বলেই আজকে রক্ষা পেলাম

2.       ড্রাইভার ভাল বলে দুর্ঘটনা ঘটলো না।

3.       আমি আপনার উপরই ভরসা করছি।

4.       আপনি ছাড়া আর কে সাহায্য করবে।

5.       দয়াল বাবা, পীর বাবা, দয়ার নাবী আমাই রক্ষা কর।

6.       তুমি শুধু আমার একমাত্র ভরসা।

7.       একমাত্র তুমিই শুধু আমাকে বাচাতে পার।

8.       আমাদের সমাজে দেখা যায় পুরুষের প্রথম স্ত্রী মারা যাবার পরে দ্বিতীয় বিয়ের পর দুটি মূর্তি ঘরে রাখা হয় যেন প্রথম স্ত্রী দ্বিতীয়কে জ্বালাতন না করে এমন আকিদা থাকলে শিরক হয়।

9.       ৭৮৬ কে আল্লাহ্‌র নাম বা বিসমিল্লাহ মনে করলে শিরক হয়।

10.    কল্যাণের/ভালোর আশায় হাতে যেকোনো ধরনের সূতা বাঁধা শিরক।

11.    কল্যাণের/ভালোর আশায় কোমরে কাল সূতা বা ডোরা বা বিছাহ বাঁধা শিরক।

12.    ছোট বাচ্চার কপালে কালো টিপ দেয়া যেনো কারোর নজর না লাগে এমন মনে করে টিপ দেওয়া শিরক।

13.    আল্লাহ ব্যতিত অন্য কিছুর কসম যেমন কুরআনের কসম আমার ছেলের কসম, মাথার, চোখের কসম, মায়ের কসম, বাঁশের কসম, মাটির কসম, মসজিদে দাঁড়াইয়া বলছি, এই বলে কসম করা শিরক।

14.    মাঝি ভাল বলে নৌকা ডুবল না এমন মনে করা শিরক।

15.    কাজের শুরুতে বা কোথাও যাওয়ার সময় যে কোন বাধা পাওয়া ((পায়ে হোঁচট, পেছন থেকে ডাক দেওয়া)) কাজ/যাত্রা অশুভ বলে মনে করাও শিরক।

16.    রাতের বেলা ঝাড়ু দিয়ে বাইরে ফেলা জাবেনা মনে করলে শিরক শিরক হয়

17.    রাতের বেলায় টাকা বা অন্য প্রয়োজনীয় কিছু ধার/হাওলাদ দেওয়া যাবেন বা ধার/হাওলাদ দিলে খারাপ/অমঙ্গল হবে বলে ধারণা করা শিরক।

18.    রবিবারে (বা যেকোন particular/নির্দিষ্ট দিন এ) বাঁশ কাটা যাবেনা ।

19.    সকালে যে কোন ছান/ভর্তা বা ডিম খেয়ে কোথাও সফরে বা ঘুরতে যাওয়া যাবেনা ।

20.    মহরম মাসে বিয়ে করা যাবেনা ।

21.    সকালে বা যেকোনো সময় বাড়িতে কোদাল কাধে করা যাবেনা ।

22.    সন্ধ্যার পর কোন কিছু লেনদেন করা যাবেনা (বাকিতে)।

23.    জোড়া কলা খেলে জোড়া সন্তান হয়।

24.    দুর্ঘটনা না ঘটার কারণ মনে করে (গাড়ীর সামনে বা পেছনে টায়ার, জুতা অথবা স্যান্ডেল ঝুলিয়ে রাখলে)।

25.    আল্লাহর গুনবাচক নামে অন্য কাউকে ডাকা শিরক (যেমন কুদ্দুস, রাহমান, রহীম, জাব্বার, সালাম, মুমিন ইত্যাদি) (সুরা ইসরা আয়াত ১১০) —–> এমন নাম দিতে হলে বা এমন নামে ডাকতে হলে অবশ্যই মূল নামের আগে “আব্দুর” বা “আব্দুস” ইত্যাদি লাগাতে হবে। যেমনঃঃ আব্দুর রহমান। এর মানে রহমান (সর্বাপেক্ষা দয়ালু) এর গোলাম। এটা এখন ঠিক আছে।

26.    যে কোন জড় বস্তুকে সম্মান দেখানো তথা তাযীম করা বা তার সামনে নিরবতা পালন করা শিরক।

27.    কোন মৃত্যু ব্যক্তি বা জীবিত ব্যক্তির সন্মানে নিরবতা পালন শিরক। যেমন আমাদের সমাজে তথাকথিত কিছু দিন আছে যেগুলোতে ছাত্র-ছাত্রীদের কে নিরবতা পালন করতে বলা হয় এমনকি স্বয়ং সংসদ এও কখনো কখনো করা হয়। এগুলো করা যাবে না।

28.    আল্লাহর ছাড়া অন্য কারো সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য কিংবা লোক দেখানো ইবাদাত করা শিরক ।

29.    যেমন নামায লম্বা করা বা সালাম দেয়া (লোক দেখানোর উদ্দেশে) ।

30.    আল্লাহ ব্যাতিত কোন গণক বা অন্য কেউ গায়েব জানে এই কথা বিশ্বাস করা শিরক ।

31.    ভাগ্য গণনা বা লটারি কেটে ভাগ্য গণনা করা শিরক ((যেমনঃ- কবিরাজের কাছে, পীরের কাছে, পাখী দারা, আথবা জীন দ্বারা)।

32.    হাতের রেখা দেখে ভাগ্য গননা করা শিরক ।

33.    টিকটিকিতে টিক টিক করা মানে সে অবস্থায় নেয়া সিধান্ত কে সঠিক বলে ধারণা করা শিরক।

34.    তার ভবিষ্যত অন্ধকার’, ‘তার কপালে বহু কষ্ট আছে’, এইধরনের গায়েবি কথা কাউকে বলা শিরক।

35.    আল্লাহর ছাড়া কোন পির-আওলিয়া এবং কোন মাজারের নিকট দুয়া করা বা কোন কিছু চাওয়া শিরক।

36.    মৃত ব্যাক্তির কবরের কাছে গিয়ে কোন কিছু চাওয়া শিরক ((যেমনঃ- নবী –রাসূলদের (আল্লাহ তাদের শান্তিতে রাখুন) কবরের কাছে গিয়ে, পীরের কবরের কাছে গিয়ে, পুকুরের কাছে চাওয়া বা মানত করা, গাছের কাছে চাওয়া বা মানত করা)।

37.    মাজারে ও কোন পির-ফকির কিংবা কারো নিকট সিজদা দেয়া শিরক ।

38.    যে ঘরে ছবি বা মূর্তি থাকে সে ঘরে নামাজ হবে না (যেমনঃ- ক্যালেন্ডারে যেকোনো জীবজন্তুর ছবি, ঘরে বা শোকেচে সাজানো যে কোনো ধরণের মূর্তি যেমন ঘোড়া, মাছ, পাখি, কচ্ছপ ইত্যাদি, দেওয়ালে সাজানো পারিবারিক ছবি বা যেকোনো ধরণের ছবি)।

39.    জিন ও জিন সাধকরা গায়েব সম্পর্কে জানতে পারে বলে বিশ্বাস করা শিরক।

40.    পাখি বা বানরের মাধ্যমে ভাগ্য জানার চেষ্টা করা শিরক।

41.    রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে জনগণকে সকল ক্ষমতার মালিক বলে বিশ্বাস করা শিরক।

42.    মানব রচিত বিধান ও আইন দ্বারা দেশ শাসন ও বিচার কার্য পরিচালনা করা শিরক।

43.    জিনের অনিষ্ট থেকে বাঁচার জন্য জিনকে শিরনী দান করা শিরক।

44.    ভাগ্য পরিবর্তনের ক্ষেত্রে পাথর নির্মিত আংটির প্রভাবে বিশ্বাস করা শিরক।

45.    কবরমুখী হয়ে বা কবরের পার্শ্বে নামায আদায় করা শিরক।

46.    রোগ নিরাময়ের উদ্দেশ্যে ধাতব দ্রব্য দ্বারা নির্মিত আংটি বা বালা পরিধান করা শিরক।

47.    গাভী ও তার নতুন বাচ্চার গলায় তাবিজ, জুতা ও জালের টুকরা ঝুলানো শিরক।

48.    কপালে টাকা স্পর্শ করে তা সম্মান করা শিরক।

49.    জঙ্গলে প্রবেশের সময় জঙ্গলের মাটি ও গাছকে সালাম করা শিরক।

50.    চোখের অশুভ দৃষ্টি থেকে সন্তানকে রক্ষার জন্য সন্তানের কপালে কালো টিপ বা দাগ দেয়া শিরক। এ কাজটি আল্লাহর উপরে ভরসার পরিপন্থী বলে তা শিরকে আসগার।

51.    পরীক্ষা দিতে যাওয়ার পূর্বে ডিম খাওয়া যাবে না। তাহলে পরীক্ষায় ডিম (ফেল) পাবে বিশ্বাস করা শিরক।

52.    দোকানের প্রথম কাস্টমার ফেরত দিলে অমঙ্গল হয় বা আর কাস্টমার হবে না অথবা প্রথম কাস্টমার কে বাকিতে দিলে পরে সব বাকি যাবে এমন মনে করলে বা বিশ্বাস করিলে শিরক হয়।

53.    নতুন স্ত্রীকে নরম স্থানে বসতে দিলে সারাজীবন মেজাজ নরম থাকবে মনে করলে শিরক হয়।

54.    জোড়া কলা খেলে জোড়া সন্তান জন্ম হবে মনে করলে শিরক হয়।

55.    রাতে নখ, চুল ইত্যাদি কাটতে নাই। কাটলে ক্ষতি হতে পারে মনে করলে শিরক হয়।

56.    পীর-মুরশিদ, রাষ্ট্রীয় নেতা-নেত্রীদের ভক্তি সম্মানের উদ্দেশ্যে পশু জবাই করা শিরক।

57.    নাবী (সা) কে হাজির নাযির (যেখানে খুশি সেখানে উপস্থিত হতে পারেন) মনে করা শিরক।

58.    আল্লাহ ব্যতীত অন্যের নামে শপথ করা শিরক।

59.    পাশ্চাত্য গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, পুজিবাদ, জাতিয়াতাবাদ, প্রগতিবাদ ধর্মনিরপেক্ষবাদ সমর্থন ও বিশ্বাস করা শিরক।

60.    ঘরের ময়লা পানি রাতে বাইরে ফেলা যাবে না।

61.    ভাই-বোন মিলে মুরগী জবেহ করা যাবে না।

62.    চোখে কোন গোটা হলে ছোট বাচ্চাদের পুরুষাঙ্গ লাগাইলে সুস্থ হয়ে যাবে।

63.    ঘর থেকে কোন উদ্দেশ্যে বের হওয়ার পর পেছন থেকে ডাক দিলে যাত্রা অশুভ হবে।

64.    ব্যাঙ ডাকলে বৃষ্টি হবে।

65.    কুরআন মাজীদ হাত থেকে পড়ে গেলে আড়াই কেজি চাল দিতে হবে।

66.    ছোট বাচ্চাদের দাঁত পড়লে ইঁদুরের গর্তে দাঁত ফেলতে বলা হয়, দাঁত ফেলার সময় বলতে শিখানো হয়, ‘ইঁদুর ভাই, ইঁদুর ভাই, তোর চিকন দাঁত টা দে, আমার মোটা দাঁত টা নে।’

67.    মুরগীর মাথা খেলে মা-বাবার মৃত্যু দেখবে না।

68.    বলা হয়, কেউ ঘর থেকে বের হলে পিছন দিকে ফিরে তাকানো নিষেধ। তাতে নাকি যাত্রা ভঙ্গ হয় বা অশুভ হয়।

69.    ঘরের ভিতরে প্রবেশ কৃত রোদে অর্ধেক শরীর রেখে বসা যাবে না। (অর্থাৎ শরীরের কিছু অংশ রৌদ্রে আর কিছু অংশ বাহিরে) তাহলে জ্বর হবে।

70.    রাতে বাঁশ কাটা যাবে না।

71.    রাতে গাছের পাতা ছিঁড়া যাবে না।

72.    ঘর থেকে বের হয়ে বিধবা নারী চোখে পড়লে যাত্রা অশুভ হবে।

73.    ঘরের চৌকাঠে বসা যাবে না।

74.    মহিলাদের মাসিক/period অবস্থায় সবুজ কাপড় পরিধান করতে হবে। তার হাতের কিছু খাওয়া যাবে না।

75.    বিধবা নারীকে সাদা কাপড় পরিধান করতে হবে।

76.    আঙ্গুলের ইশারায় কবর দেখালে সেই আঙ্গুল পঁচে যায়।

77.    বিড়াল মারলে আড়াই কেজি লবণ ‘সদকা’করতে হয়।

78.    কুকুরকে পা দিয়ে বাড়িতে গর্ত করতে দেখলে কারো মৃত্যুর আশঙ্কা আছে, এটা মনে করা।

79.    রাতে নখ, চুল, দাঁড়ি গোফ ইত্যাদি কাটতে নেই।

80.    ভাঙ্গা আয়না দিয়ে চেহারা দেখা যাবে না। তাতে চেহারা নষ্ট হয়ে যাবে।

81.    ডান হাতের তালু চুলকালে টাকা আসবে। আর বাম হাতের তালু চুলকালে বিপদ আসবে।

82.    নতুন কাপড় পরিধান করার পূর্বে আগুনে ছেক দিয়ে পড়তে হবে।

83.    নতুন কাপড় পরিধান করার পর পিছনে তাকাইতে নাই।

84.    বৃষ্টির সময় রোদ দেখা দিলে বলা হয় শিয়ালের বিয়ে।

85.    আশ্বিন মাসে নারী বিধবা হলে আর কোন দিন বিবাহ হবে না।

86.    খানার পর যদি কেউ গা মোচড় দেয়, তবে বলা হয় খানা না কি কুকুরের পেটে চলে যায়।

87.    রাতের বেলা কাউকে সুই-সূতা দিতে নাই।

88.    গেঞ্জি ও গামছা ছিঁড়ে গেলে সেলাই করতে নাই।

89.    খালি ঘরে সন্ধ্যার সময় বাতি দিতে হয়। না হলে ঘরে বিপদ আসে।

90.    গোছলের পর শরীরে তেল মাখার পূর্বে কোন কিছু খেতে নেই।

91.    মহিলার পেটে বাচ্চা থাকলে কিছু কাটা-কাটি বা জবেহ করা যাবে না।

92.    পাতিলের মধ্যে খানা থাকা অবস্থায় তা খেলে পেট বড় হয়ে যাবে।

93.    কোন ব্যক্তি বাড়ি হতে বাহির হলে যদি তার সামনে খালি কলস পড়ে যায় বা কেউ খালি কলস নিয়ে তার সামনে দিয়ে অতিক্রম করে তখন সে যাত্রা বন্ধ করে দেয়, বলে আমার যাত্রা আজ শুভ হবে না।

94.    ছোট বাচ্চাদের হাতে লোহা পরিধান করাতে হবে।

95.    রুমাল, ছাতা, হাত ঘড়ি ইত্যাদি কাউকে ধার স্বরূপ দেয়া যাবে না।

96.    হোঁচট খেয়ে পড়ে গেলে ভাগ্যে দুর্ভোগ আছে।

97.    হাত থেকে প্লেট পড়ে গেলে মেহমান আসবে।

98.    নতুন স্ত্রী কোন ভাল কাজ করলে শুভ লক্ষণ।

99.    পাখি ডাকলে বলা হয় ইষ্টি কুটুম (আত্মীয়)আসবে।

100.  কাচা মরিচ হাতে দিতে নাই।

101.  তিন রাস্তার মোড়ে বসতে নাই।

102.  খানার সময় যদি কারো ঢেকুর আসে বা মাথার তালুতে উঠে যায়, তখন একজন আরেকজনকে বলে, দোস্ত তোকে যেন কেউ স্মরণ করছে বা বলা হয় তোকে গালি দিচ্ছে।

103.  কাক ডাকলে বিপদ আসবে।

104.  শুঁকুন ডাকলে মানুষ মারা যাবে।

105.  পেঁচা ডাকলে বিপদ আসবে।

106.  তিনজন একই সাথে চলা যাবে না।

107.  দুজনে ঘরে বসে কোথাও কথা বলতে লাগলে হঠাৎ টিকটিকির আওয়াজ শুনা যায়, তখন একজন অন্যজনকে বলে উঠে ‘দোস্ত তোর কথা সত্য, কারণ দেখছস না, টিকটিকি ঠিক ঠিক বলেছে।’

108.  একজন অন্য জনের মাথায় টোকা খেলে দ্বিতীয় বার টোকা দিতে হবে, একবার টোকা খাওয়া যাবে না। নতুবা মাথায় ব্যথা হবে/শিং উঠবে।

109.  ভাত প্লেটে নেওয়ার সময় একবার নিতে নাই।

110.  নতুন জামাই বাজার না করা পর্যন্ত একই খানা খাওয়াতে হবে।

111.  নতুন স্ত্রীকে স্বামীর বাড়িতে প্রথম পর্যায়ে আড়াই দিন অবস্থান করতে হবে।

112.  পাতিলের মধ্যে খানা খেলে মেয়ে সন্তান জন্ম নিবে।

113.  পোড়া খানা খেলে সাতার শিখবে।

114.  পিপড়া বা জল পোকা খেলে সাতার শিখবে।

115.  দাঁত উঠতে বিলম্ব হলে সাত ঘরের চাউল উঠিয়ে তা পাক করে কাককে খাওয়াতে হবে এবং নিজেকেও খেতে হবে।

116.  সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠেই ঘর ঝাড়– দেয়ার পূর্বে কাউকে কোন কিছু দেয়া যাবে না।

117.  রাতের বেলা কোন কিছু লেন-দেন করা যাবে না।

118.  সকাল বেলা দোকান খুলে যাত্রা (নগদ বিক্রি) না করে কাউকে বাকী দেয়া যাবে না। তাহলে সারা দিন বাকীই যাবে।

119.  দাঁড়ী-পাল্লা, মাপার জিনিস পায়ে লাগলে বা হাত থেকে নিচে পড়ে গেলে সালাম করতে হবে, না হলে লক্ষ্মী চলে যাবে।

120.  শুকরের নাম মুখে নিলে ৪০দিন মুখ নাপাক থাকে।

121.  রাতের বেলা কাউকে চুন ধার দিলে চুন না বলে ধই বলতে হয়।

122.  বাড়ি থেকে বের হলে রাস্তায় যদি হোঁচট খেয়ে পড়ে যায় তাহলে যাত্রা অশুভ হবে।

123.  কোন ফসলের জমিতে বা ফল গাছে যাতে নযর না লাগে সে জন্য মাটির পাতিল সাদা-কালো রং করে ঝুলিয়ে রাখতে হবে।

124.  বিনা ওযুতে বড় পীর আবদুল কাদের জিলানীর নাম নিলে আড়াইটা পশম পড়ে যাবে।

125.  নখ চুল কেটে মাটিতে দাফন করতে হবে, কেননা বলা হয় কিয়ামতের দিন এগুলো খুঁজে বের করতে হবে।

126.  নতুন স্ত্রীকে দুলা ভাই কোলে করে ঘরে আনতে হবে।

127.  মহিলাগণ হাতে বালা বা চুড়ি না পড়লে স্বামীর অমঙ্গল হবে।

128.  স্ত্রীগণ তাদের নাকে নাক ফুল না রাখলে স্বামীর বেঁচে না থাকার প্রমাণ।

129.  দা, কাচি বা ছুরি ডিঙ্গিয়ে গেলে হাত-পা কেটে যাবে।

130.  গলায় কাটা বিঁধলে বিড়ালের পা ধরে মাপ চাইতে হবে।

131.  বেচা কেনার সময় জোড় সংখ্যা রাখা যাবে না। যেমন, এক লক্ষ টাকা হলে তদস্থলে এক লক্ষ এক টাকা দিতে হবে। যেমন, দেন মোহর (কাবীন) এর সময় করে থাকে, একলক্ষ এক টাকা ধার্য করা হয়।স্বাভাবিক ভাবে করা যাবে কিন্তু বিজোড় না করলে অমঙ্গল হবে এই বিশ্বাস বা উদ্দেশ্যে করা যাবে না।

132.  বন্ধু মহলে কয়েকজন বসে গল্প-গুজব করছে, তখন তাদের মধ্যে অনুপস্থিত কাউকে নিয়ে কথা চলছে, এমতাবস্থায় সে উপস্থিত হলে, কেউ কেউ বলে উঠে ‘দোস্ত তোর হায়াত আছে।’ কারণ একটু আগেই তোর কথা বলছিলাম।

133.  হঠাৎ বাম চোখ কাঁপলে দুখ: আসে।

134.  ইষ্টি কুটুম পাখি ডাকলে বলা হয় আত্মীয় আসবে।

135.  স্বামীর নাম বলা জাবে না এতে অমঙল হয়।

136.  বাছুর এর গলায় জুতার টুকরা ঝুলালে কারো কু দৃষ্টি থেকে বাচা যায়।

137.  খালি ঘরে সন্ধ্যায় বাতি দিতে হয়, না হলে বিপদ অনিবার্য।

138.  নবী করিম সা.-এর নাম শুনলে হাতে চুম্বন খাওয়া, তদ্রুপ মক্কা-মদিনার ছবি দেখলে চুমো খাওয়া।

139.  পাতিলের মধ্যে খানা থাকা অবস্থায় তা খেলে পেট বড় হয়।

140.  ছোট বাচ্চাদের শরীরে লোহা জাতীয় কিছু বেঁধে দিতে হয়, তাতে সে দুষ্টু জ্বীন-শয়তানের প্রভাব থেকে রক্ষা পায়।

141.  পর পর কয়েক সন্তান মারা যাওয়ার পর ছেলে হলে বড়শি পুড়ে তার কপালে দাগ দেয়া দরকার।

142.  খাওয়ার সময় ঢেঁকুর আসলে অথবা খাবার আটকে গেলে কেউ তাকে স্মরণ করছে বা গালি দিচ্ছে মনে করা।

143.  কাকের ডাক বিপদের পূর্বাভাস মনে করা।

144.  শকূন ডাকলে বা দেখলে কেউ মারা যাবে, এটা মনে করা।

145.  মৃতের বাড়িতে ৩ দিন পযর্ন্ত মাছ-গোশত না খাওয়া, বাধ্যতামূলক নিরামিষ খাওয়া উচিত।

146.  পুরুষের বুকে লোম থাকা স্ত্রীকে ভালোবাসার পরিচায়ক মনে করা।

147.  নতুন জামাই বাজার না করা পর্যন্ত এক পদ দিয়ে খাওয়ানো।

148.  পাতিলে ভাত খেলে মেয়ে সন্তান জন্ম নেয়।

149.  কবরের খোদাইয়ের সময় প্রথম কোপের মাটি রেখে দেয়া।

150.  দাঁত উঠতে বিলম্ব হলে সাত বাড়ি থেকে চাল উঠিয়ে তা রান্না করে কাককে খাওয়ানো ও নিজেও খাওয়া।

151.  সকালে ঘুম থেকে উঠে ঘর ঝাড়ু দেয়ার আগ পর্যন্ত খাওয়ার জন্য কাউকে কোনো কিছু দেয়া নিষেধ।

152.  দাঁড়িপাল্লা কিংবা মাপার জিনিস পায়ে লাগলে বা হাত থেকে নিচে পড়ে গেলে সেটাকে সালাম করতে হয়, না হলে ঘরের লক্ষ্মী চলে যায়।

153.  হঠাৎ বাম চোখ কাঁপলে দুঃখ আসবে মনে করা।

154.  ফলবান বৃক্ষ বা বাগানে মানুষের বদ নজর এড়াতে মাটির পাতিলে সাদাকালো রং মেখে তা ঝুলিয়ে রাখতে হয়।

155.  স্ত্রীর নাকে নাক ফুল পরিধান স্বামীর জন্য মঙ্গলজনক মনে করা।

156.  নতুন বউকে বাপের বাড়ি থেকে ধান এনে স্বামীর বাড়ির গোলায় রাখা।

157.  ঢেঁকির ওপর বসে আহার করলে বউ মারা যায় বলে মনে করা।

158.  নতুন গাড়ি যেমন বাস, ট্রাক কেনার পরে তাতে এই জন্য পুরাতন জুতা/স্যান্ডেল বা টায়ার ঝুলিয়ে রাখা যাতে কারোর নজর না লাগে।

159.  যানবাহনে করে কোথাও যাওয়ার সময় সামনে দিয়ে কালো বিড়াল গেলে এক্সিডেন্ট বা ক্ষতি হতে পারে।

160.  গর্ভবতী মহিলারা কাচা মাছ বা মাংস হাত দিতে পারবে না। হাত দিতে হলে আগে সেটায় একটু আগুন দিতে হবে।

 

সমাজে প্রচলিত কিছু বিদআত এর তালিকাঃ

 

বিদআত হলো ইবাদাতের উদ্দেশ্যে এমন কিছু আমল করা যেটা কুরআন ও সহীহ সুন্নাহ থেকে প্রমাণিত নয়। বিদআতীদের পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ হবে।কারণ বিদআত করলে রাসূল(ছঃ) কে অপমান করা হয়। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ “তোমরা দ্বীনের মধ্যে নতুন সৃষ্টি করা হতে বিরত থাকো। নিশ্চয় প্রত্যেক নতুন সৃষ্টিই বিদআত ও প্রত্যেক বিদআতই গোমরাহী।”

 

 

 

সমাজে প্রচলিত কিছু বিদ’আত এর তালিকা

<– নিচের কথা গুলো বিশ্বাস বা মেনে চললে বা করলে বিদ’আত হয় । –>

 

ঈদ-ই মিলাদুন্নবী পালন করা।

সকল মিলাদ। (কারোর মৃত্যুর পর তার জন্য মিলাদ/চল্লিশা/কুলখানি করলে বিদআত হয় আর দিন নিদিষ্ট করে যেমন চল্লিশা মরার ৪০ দিন পর করা হয়, এমন দিন নিদিষ্ট করে করলে শিরক + বিদআত দুটিই হবে)

শব-ই বরাত পালন ও এর উদ্দেশ্যে রোজা থাকা।

শব-ই মিরাজের সালাত বা সাওম বা এ উপলক্ষে কোন ইবাদাত করা।

মৃত ব্যাক্তির জন্য- কুর’আন পড়া (মাদ্রাসা/হাফিজ খানা থেকে হুজুর/ছাত্র দিয়ে বা নিজে), কুলখানি, চল্লিশা, দু’আর আয়োজন, সওয়াব বখশে দেয়া।

জোরে জোরে চিল্লিয়ে জিকির করা।

হাল্কায়ে জিকির, ইসকের জিকির লাফালাফি, নাচানাচি জিকির।

প্রচলিত/তথাকথিত পীর-মুরীদি মানা বিদাত ও শিরক।

নামাজে মুখে মুখে উচ্চারণ করে নাওয়ায়তুয়ান বলে নিয়্যাত পড়া। (মনে রাখবেন নিয়াত করতে হয়। পড়তে হয় না। তাই নিয়াত মনে মনে করাই সুন্নত। কোন নিদিষ্ট শব্দ (যেমন নাওয়ায়তুয়ান) বলে নিয়াত করা যাবে না)।

প্রসাবের পর ঢিলা কুলুখ নিয়ে ৪০ কদম হাঁটা, কাঁশি দেয়া উঠা বসা করা, লজ্জাস্থানে হাত দিয়ে হাটাহাটি ইত্যাদি নির্লজ্জতা।

জায়নামাজের দুআ পড়া

কবরে হাত তুলে সবাই একএে দূ’আ করা।

খতমে ইউনুস, তাহলীল, খতমে কালিমা, বানানো দরুদ পড়া, এবং যত প্রকার তাজবীহ খতম আছে সবই বিদাত, তাজবীহ দানা গননা করাও বিদাত।

১৩০ ফরজ মানা।

ইলমে তাসাউফ বা সুফীবাদ মানা।

জন্মদিন, মৃত্যুদিবস, মা/বাবা দিবস বিবাহবার্ষিকী, ভ্যালেন্টাইন ডে, স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস, পহেলা বৈশাখ ইত্যাদি দিবস পালন করা।

আল্লাহকে “খোদা” বলা (কেননা খোদা শব্দে শিরক এর গন্ধ আছে) ।

অজুতে ঘাড় মাসেহ করা

অপরের কাছে তাওবা পড়া

বাতেনী এলেম বা তাওয়াজ্জুহ মানা।

অন্ধভাবে মাজহাব মানা বা অন্ধ তাকলিদ করা যেটা অনেক সময় ব্যক্তিপূজায় পরিণত হয় ও শিরকে পরিণত হয়।

ওরস পালন করা।কবর পাকা, কবর সাজানো, লাইটিং করা।

এমন দু’য়া বা দুরুদ পড়া যা হাদিসে নাই যেমনঃ দুরুদে হাজারী, দুরুদে লাখী, দুরুদে তাজ, ওজীফা, দুরুদে জালালী

ওয়াজ/মাহফিলে মিথ্যা বানোয়াট হাসির গল্প বলে মানুষকে হাসানো

“আস্তাগফিরুল্লাহ [রব্বি মিন কুল্লি জাম্বি] ওয়া আতুবু ইলাইক লা-হাওলা ওয়ালা কুয়াত্তা ইল্লা বিল্লাহীল আলিইল ‘আজিম” (এখানে রব্বি মিন কুল্লি জাম্বি অংশটুকু বিদআ’ত)

৭০ হাজার বার কালিমা খতম করা

ইসলামের নামে দলাদলি করা

ইসলামি খলিফা/আমীর ব্যতীত অন্য দলের আমীরের হাতে বায়াত করা

দ্বীন প্রতিষ্ঠায় প্রচলিত রাজনীতি করা

দ্বীনের হেফাজতের নামে হরতাল অবরোধ মারামারি করা অনেক ক্ষেত্রে হারামও।

বিদায় কালে ফি আমানিল্লাহ বলা।

জানাজা দেয়ার সময় কালিমা শাহাদাত পাঠ করা।

মৃত ব্যাক্তির কাজা নামাজের কাফফারা দেয়া বা আদায় করা।

কুর’আনকে সবসময় চুমু খাওয়া।

কুর’আন নীচে পড়ে গেলে লবণ কাফফারা দেয়া, সালাম করা, কপালে লাগানো ইত্যাদি।

দুই হাতে মোসাফা করা, মোসাফা শেষে বুকে লাগানো বিদাত।

কারোর গায়ে পা লাগলে গাঁ ছুঁয়ে সালাম করা।

ইছালেহ সোয়াব নামে ওয়াজ ও দোয়া করা।

কোরআন, সহীহ্ হাদীসের বাহিরে যত দোয়া, দুরুদ, জিকির, কালেমা আছে সবই বিদাত।

টুপি ছাড়া নামাজ পড়লে সোয়াব কম হয়, পাগড়ি মাথায় দিয়ে নামাজ পড়লে বেশী সোয়াব/ নেক হয় এই ধারণা করে পাগরী বা টুপি পরা বিদাত।

রোযার সময় নাওয়াতুআন আছুম্মাগাদাম পড়া।

কদমবুসি করা।

খতমে ইউনুস, তাহলীল, খতমে কালিমা, বানানো দরুদ পড়া।

ওরস পালন করা।

জাক-জোমক ভাবে খাৎনার অনুষ্ঠান করা।

শুধু আল্লাহ বা ইল্লাল্লাহ যিকর: এটা খুবই গর্হিত ও আপত্তিজন কাজ।

জামায়াতবদ্ধ দরূদ বা সুরেলা সালাত-সালাম: নবীর শানে সালাত ও সালামের এই নবপদ্ধতি নিঃসন্দেহে বিদআ’ত। রাসূলুল্লাহ সা. যেভাবে উম্মাতকে দরূদ শিখিয়েছেন সেভাবেই দরূদ পড়তে হবে।

কোন বুযুর্গের মাযারে মৃত্যুবার্ষিকী বা ওরস পালন: ওরস পালন খুবই গর্হিত ও আপত্তিজনক কাজ, যদিও পীরপন্থীদের কাছে খুবই প্রিয়।

কবর পাকাকরণ বা সজ্জিত করা ও উৎসবের আয়োজন।

আযান ইকামতের মধ্যে বা অন্য যেকোনো সময় রাসুল সা. এর নাম শুনলে বৃদ্ধা আঙ্গুলে চুমু দিয়ে চোখে লাগানো।

ঈদের নামাযের পর নেকির আশায় মুআনাকা বা কোলাকুলি করা

ঈদের মাঠে সালাতের আগে বয়ানের নামে আরেকটি বাংলা খুতবা দেয়াও বিদআ’ত।

জানাযা ও দাফনের পর কবরের উপর চার কুল, সমবেত দু’আ, বা ব্যক্তিগত ইস্তেগফার বা দুআ ছাড়া সবই বিদআ’ত।

দাফনের পর কবরের কাছে আযান দেয়া।

কবরে ফুল দেয়া, বাতি জ্বালানো (এগুলো অনেক সময় শিরক এ পরিণত হতে পারে)

প্রথম মহররম রাত্রিতে নেকির আশায় অনুষ্ঠান করা।

রমাদান মাসে “বদর দিবস” পালন করা।

ঈদের পরে “ঈদ পূণর্মিলনী” অনুষ্ঠান করা।

আজানের সময় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর নাম আসলে চোখে দুই বৃদ্ধ আঙুলি দিয়ে দুই চোখের মধ্যে লাগিয়ে চুমু খাওয়া।

মসজিদে নববীর সবুজ গম্বুজ দেখা মাত্রই দুরূদ ও সালাম পাঠ করা ।

কোন ইসলামী মাহফিলের দুআ, দুরূদ ও যিকরের সওয়াব রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম – এর কবরে, সকল ওলিদের রুহে ও মৃতদের কবরে পাঠিয়ে দেয়।

সুন্নতী পোশাকের নামে বিশেষ ধরনের পোশাক পরা ।

নতুন নতুন দুরূদ এর আবিস্কার করা এবং তা পড়া।

64.    আশেকে রাসূল বলে দাবী করা । জসনে জুলুস করা।

বালাগাল উলা বি কামালিহি, কাশাফাদ্জা বি জামালিহি…. ইত্যাদি বলা বিদ’আত ।

সালাতুল আওয়াবীন নামে মাগরিবের পরে ৬ রাকাত সলাত আদায় করা (এই নামাজ অন্য সময় পড়তে হয়, মাগরিবের সময় নয়)

সালাতের পর আমল করে মাথায় বা কপালে হাত রাখা ।

উমরী কাযা সালাত আদায় করা।

খুতবা বা অন্য সময় লাল বাতি জ্বালিয়ে রাখা এবং লিখে রাখা যে। লাল বাতি জ্বলন্ত অবস্থায় সালাত আদায় করা নিষেধ।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর কবরে গিয়ে কান্নাকাটি করাকে সওয়াব মনে করা।

জামাত শুরু হয়ে গেলেও বা ইকামত হয়ে গেলেও সুন্নাত পড়া।

সফরে কসর না পড়ে নিয়ম মত সালাত আদায় করা।

সালাতের কাতারে শিশুদের রাখা মাকরূহ মনে করা।

সালাত শেষে জায়নামাযকে চুমু খাওয়া।

সালাত শেষে জায়নামাযের কোনা ভাজ করে রাখা।

সালাত শেষে অতিরিক্ত একটি সাজদা দেয়া ।

আশুরার দিন সাতদানার শিরণী পাকান সওয়াবের কাজ মনে করা।

ভুল হলে তওবা তওবা বলে দুই গালে থাপ্পর দিয়ে তওবা করা।

খাবার আগে ওযু করলে দারিদ্র দূর হয় বলে মনে করা

দাফন না করা পর্যন্ত পরিবারের লোকদের না খেয়ে থাকা ।

কবরের উপরে খাদ্য ও পানীয় রেখে দেয়া। যাতে লোকেরা তা নিয়ে যায় ।

মৃতের ঘরে তিন রাত, সাত রাত (বা ৪০ রাত) ব্যাপী আলো জেলে রাখা।

কাফনের কাপড়ের উপরে দুআ-কালেমা ইত্যাদি লেখা।

এই ধারণা করা যে, মৃত ব্যক্তি জান্নাতী হলে ওজনে হালকা হয় ও দ্রুত কবরের দিকে যেতে চায়।

জানাযার পিছে পিছে উচ্চৈঃস্বরে যিকর ও তিলাওয়াত করতে করতে চলা।

জানাযা শুরুর প্রাক্কালে মৃত কেমন ছিলেন বলে লোকদের কাছ থেকে সমস্বরে সাক্ষ্য নেয়া ।

জানাযার সালাতের আগে বা দাফনের পরে তার শোকগাথা বর্ণনা করা।

জুতা পাক থাকা সত্ত্বেও জানাযার সালাতে জুতা খুলে দাঁড়ানো প্রয়োজন বলে মনে করা।

কবরে মৃতের উপরে গোলাপ পানি ছিটানো ।

90.    কবরের উপরে মাথার দিক থেকে পায়ের দিকে ও পায়ের দিক থেকে মাথার দিকে পানি ছিটানো । অতঃপর অবশিষ্ট পানিটুকু কবরে ঢালা ।

91.    তিন মুঠি মাটি দেয়ার সময় ১ম মুঠিতে ‘মিনহা খালাক্বনা-কুম’ ২য় মুঠিতে ‘ওয়া ফীহা নুঈদুকুম” এবং ৩য় মুঠিতে ‘ওয়া মিনহা নুখরিজুকুম তারাতান উখরা’ বলা অথবা ‘আল্লাহুম্মা আজিরহা মিনাশ শায়ান”…পাঠ করা (ইবনু মাজাহতে বর্ণিত এই হাদীসটি যঈফ)।

92.    কবরে মাথার দিকে দাঁড়িয়ে সূরা ফাতিহা ও পায়ের দিকে দাঁড়িয়ে সুরা বাকারার শুরুর অংশ পড়া।

93.    সূরা ফাতিহা, কলর, কাফিরূন, নছর, ইখলাছ, ফালাক ও নাস এই সাতটি সূরা পাঠ করে দাফনের সময় বিশেষ দু’আ পড়া।

94.    প্রতি জুমআয় কিংবা সোম ও বৃহস্পতিবারে নির্দিষ্ট করে পিতা-মাতার কবর যিয়ারত করা।

95.    এছাড়া আশূরা, শবে মিরাজ, শবেবরাত, রমাদান ও দুই ঈদে বিশেষভাবে কবর যিয়ারত করা।

96.    কবরে চুম্বন করা ।

97.    কবরে রুমাল, কাপড় ইত্যাদি বরকত মনে করে নিক্ষেপ করা ।

98.    কবরের উপর শামিয়ানা টাঙ্গানো।

99.    কবরের গায়ে বরকত মনে করে হাত, পেট ও বুক লাগানাো।

100.  মৃত্যুর সাথে সাথে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে গেছে বলে ধারণা করা ।

101.  ত্রিশ পারা কুরআন (বা সূরা ইয়াসীন) পড়ে এর সওয়াবসমূহ মৃতের নামে বখশে দেয়া । যাকে কুরআনখানী বলে ।

102.  কুরআন পাঠকারীকে উত্তম খানা-পিনা ও টাকা-পয়সা দেয়া বা এ বিষয়ে অছিয়ত করে যাওয়া ।

103.  কাফিরুন, ইখলাছ, ফালাক ও নাস এই চারটি ‘কুল’ সূরার প্রতিটি ১ লক্ষ বার পড়ে মৃতের নামে বখশে দেয়া । যাকে ‘কুলখানী’ বলে ।

104.  আযান শুনে নেকী পাবে বা গোঁর আযাব কম হবে ভেবে মসজিদের পাশে কবর দেয়া ।

105.  মৃত ব্যক্তির কবরের পাশে আলো জ্বেলে ও মাইক লাগিয়ে রাত্রি ব্যাপী উচ্চৈঃস্বরে কুরআন খতম করা।

106.  সালাত, কিরাআত ও অন্যান্য দৈহিক ইবাদত সমূহের নেকী মৃতদের জন্য হাদিয়া দেয়া । যাকে সওয়াব রেসানী’ বলা হয় ।

107.  আমল সমূহের সওয়াব রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নামে (বা অন্যান্য নেককার মৃত ব্যক্তিদের নামে) বখশে দেয়া। যাকে ইসালে সওয়াব’ বলা হয় ।

108.  নেককার লোকদের কবরে গিয়ে দু’আ করলে তা কবুল হয়, এই ধারণা করা ।

109.  জানাযার সময় স্ত্রীর নিকট থেকে মোহরানা মাফ করিয়ে নেয়ার চেষ্টা করা।

110.  ঐ সময় মৃতের কাযা সলাত সমূহের বা উমরী কাযার কাফফারা স্বরূপ টাকা আদায় করা।

111.  দাফনের পরে কবরস্থানে গবাদি-পশু যবহ করে গরীবদের মধ্যে গোশতবিতরণ করা।

112.  লাশ কবরে নিয়ে যাওয়ার সময় রাস্তায় নিয়ম করে তিনবার নামানো।

113.  মৃতের শোকে কাপড় ছেড়া, গায়ে চড় মারা।

114.  মৃতের বাড়িতে গেলে ফিরে এসে নিজের গোসল করতে হয় ।

115.  মৃতের বাড়িতে এক রাত্রি থাকলে তিন রাত্রি থাকতে হয়।

116.  মৃতের বিছানা ও খাট ইত্যাদি ৭দিন পর্যন্ত একইভাবে রাখা ।

117.  কবরের আযাব মাপের উদ্দেশ্যে কাবার বা কোন পীরের কবরের গিলাফের অংশ কিংবা তাবিজ লিখে দাফন করা ।

118.  কবরের উপরে একটি বা চার কোণে চারটি কাচা খেজুরের ডাল পোতা বা কোন গাছ লাগানো যে, এর প্রভাবে কবর আযাব হালকা হবে ।

119.  মৃত স্বামীর এবং মৃত স্ত্রীর মুখ না দেখা।

120.  স্ত্রী বা স্বামী কর্তৃক মৃত স্বামী বা স্ত্রীকে গোসল করানো নিষেধ করা ।

121.  মৃত ব্যক্তির রূহ চল্লিশদিন পর্যন্ত বাড়িতে আসে বিশ্বাস রাখা ।

122.  দশদিনে রুটি হালুয়া বাটা।

123.  জানাযা নিয়ে যাওয়ার সময় উচ্চৈস্বরে যিকর করা ।

124.  মৃতের সামনে চিৎকার করে কাঁদা।

125.  কুরবানীর সময় মুখে নিয়্যত উচ্চারণ করে পশু কুরবানী করা ।

126.  কুরবানীর পশুর সামনে কে কে কুরবানী করছে তাদের নামের তালিকা পাঠ করা এবং নাম কম পড়লে সেখানে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নাম বসিয়ে দেয়া।

127.  কুরবানীর মাংস শুকিয়ে বা ফ্রিজে রেখে তা মহররম মাসে খাওয়া।

128.  দু’আ করার সময় ১বার সুরা ফাতিহা, ৭বার ইসতিগফার, ৩বার সুরা ইখলাস ও ১১বার দুরুদ শরীফ পাঠ করে দু’আ শুরু করার নিয়ম করা ।

129.  ওয়াজ আল আখিরা কালামিনা লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ বলে দু’আ শেষ করতে হবে বলে মনে করা।

130.  দুআ শেষ করে দুই হাত দিয়ে মুখ মুছা জরুরী মনে করা।

131.  বরকতের জন্য সীনা খতম পড়ানো।

132.  বিপদ আপদ হতে রক্ষা পাওয়ার জন্য দুরূদে তাজ পড়া, দুরূদে তুনাজ্জিনাহ পড়া, খতমে জালালী পড়া, খতমে ইউনুস পড়া, খতমে তাহলিল পড়া।এগুলো সব মানুষের বানানো দুরূদ।

133.  মৃত্যু পথযাত্রীর মৃত্যু তাড়াতাড়ি হওয়ার জন্য খতমে খাজেগান পড়া।

134.  সওয়াবের উদ্দেশ্যে দলাইলুল খাইরাত পাঠ করা ।

135.  কুরআনে নিয়ম করে চুমু খাওয়া, বুকে ও কপালে স্পর্শ করা। কুরআন ছুয়ে শপথ করা ।

136.  আয়াতুল কুরসী পড়ে বুকে ফু দেয়া (পড়া যাবে কারণ এর অনেক ফজিলত কিন্তু বুকে ফু দেওয়া যাবে না)।

137.  মহিলাদের কুরআন তিলাওয়াত প্রতিযোগিতা করা এবং পুরুষদের সম্মুখে উচ্চস্বরে তিলাওয়াত করা ।

138.  কুরআন তিলাওয়াত শোনার সময় নেকির আশায় হঠাৎ বিনা কারণে ঢুকরে কেঁদে ওঠা । অর্থ বুঝে কাঁদলে ঠিক আছে।

139.  সম্মিলিতভাবে দু’আ করার সময় বলা যে মজলিসে যে তোমার প্রিয় বান্দা অথবা বে-গুনাহ মাসুম বাচ্চা আছে তাদের উসিলায় অথবা তুমি যে হাত পছন্দ কর তার উসিলায় আল্লাহ আমাদের দু’আ কবুল কর।

140.  সূরা ইয়াসীন একবার পড়লে দশবার কুরআন খতমের সওয়াব পাওয়া যায় এবং সূরা ইয়াসীন গরম সূরা’ বলে মনে করা।

141.  খানার উপর বরকতের জন্য সূরা কুরাইশ পড়া।

142.  দু’আ করার সময় আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকা জরুরী মনে করা ।

143.  কুরআন তিলাওয়াত করে নিয়ম করে সাদাকাল্লাহুল আজীম বলা জরুরী মনে করা ।

144.  খতমে আম্বিআ।

145.  মাজারে কুরআন পাঠ।

146.  কারী ও হুজুর ভাড়া করে এনে খতম পড়ানো।

147.  পীর ওলিদের কবর যিয়ারতের উদ্দেশ্যে দূর-দূরান্তে সফর করা।

148.  সওয়াব পাওয়ার উদ্দেশ্যে কাবা শরীফ, মসজিদে নব্বী, মসজিদে আকসা ছাড়া অন্য কোথাও সফর করা ।

149.  সওয়াবের আশায় মদিনার সাত মসজিদের যিয়ারত করা।

150.  নিজের পরিবার, প্রতিবেশী ও এলাকায় দাওয়াত না দিয়ে দূর-দূরান্তে দ্বীনের দাওয়াতী কাজে বের হওয়া।

151.  ওযূ করার সময় গর্দান/ঘাড় মসেহ করা।

152.  ইসতেনজার পানির সাথে ঢিলা-কুলখ নেয়া ওয়াজীব মনে করা ।

153.  ওযূতে প্রত্যেক অঙ্গ ধোয়ার সময় কতগুলো নির্দিষ্ট দু’আ পড়া।

154.  স্বপ্নে পাওয়া তরিকায় নফল ইবাদত করা।

155.  বরকতের উদ্দেশ্যে পীরকে টাকা, গরু-ছাগল, চাল-ডাল ইত্যাদি দেয়া (এটা অনেক সময় শিরক এ পরিণত হয়)।

156.  নাপাক কাপড় সাত বার না ধুলে পাক হবে না মনে করা । (এটা ঠিক আছে যে শুধু কুকুরের লালা লাগলে একবার মাটি দিয়ে পরে সাতবার পানি দিয়ে ধুতে হবে)

157.  চারটি মাযহাবের মধ্যে যে কোন একটি মাযহাব হুবহু মানা ফরয, ওয়াজিব অথবা সুন্নাত মনে করা।

158.  মুসলিমদের মধ্যে বিভিন্ন দল তৈরী করা ।

159.  ইসলামের ইলমকে শরীয়ত, তরিকত, মারিফত ও হাকিকত এই চার ভাগে ভাগ করা।

160.  রাজতন্ত্রের ন্যায় বংশানুক্রমে পীরের ওয়ারিস হওয়া।

161.  পীর-ওলি বা বুজুর্গানের নিকট বরকত হাসিল করার উদ্দেশ্যে তাদের শরীর, হাত-পা টিপে দেয়া।

162.  বরকতের উদ্দেশ্যে পীরের আধা-খাওয়া প্লেট থেকে খাবার খাওয়া।

163.  ছয় লতিফার যিকর করা। শুধু আল্লাহ শব্দের যিকর করা ।

164.  শুধু ইল্লাল্লাহ শব্দের যিকর করা।

165.  মাফি কালবি গাইরুল্লাহ, লাইলাহাইল্লাল্লাহ নূর মুহাম্মাদ সাল্লল্লাহ বলে। যিকর করা ।

166.  পীর-ওলিদের হুজুর কেবলা বলা, হুজুরে পাক বলা বা আব্বাহুজুর বলা ।

167.  আল্লাহকে পাওয়ার জন্য জংগলে চলে যাওয়া।

168.  পীরকে কদমবুসি করা, আর কদমবুসি করার সময় মাথা নিচু হলে এটা শিরকে পরিণত হয়ে যাবে।

169.  পীরের গোসলের পানিকে অতি পবিত্র এবং শিফা মনে করা বিদ’আত ও শিরক।

170.  হজ্জে প্রত্যেক তাওয়াফে বা সায়ীতে নির্দিষ্ট দু’আ পড়া।

171.  মক্কা-মদীনা, আরাফা, মুযদালিফা, বদর ও ওহুদের মাটি, গাছ, পাথর ইত্যাদি সংগ্রহ করে বরকতস্বরূপ দেশে নিয়ে যাওয়া ।

172.  হজ্জ বা ওমরার সময় ছাড়া অন্য সময়ে মাথা কামানো সুন্নাত মনে করা।

173.  হজ্জ করে নিজের নামের সাথে নিজে নিজে আলহাজ্জ উপাধি লাগানো।

174.  হজ্জ, উমরাহ অথবা যিয়ারতে এসে মদীনা শরীফে ৮ দিনে ৪০ ওয়াক্ত সালাত আদায় করা ওয়াজিব মনে করা ।

175.  হজ্জ করতে হবে ঘরে বসেই আর তা হবে রূহানী জগতের মাধ্যমে, এই ধরনের বিশ্বাস থাকা।

176.  পীরের কলবের ভিতরেই আছে কাবা। তাই পীরের সেবা করলেই হজ্জ হয়ে যাবে, এসব কথায় বিশ্বাস করা ।

177.  ঢাকার টুঙ্গির বিশ্ব ইজতেমাকে দ্বিতীয় হজ্জ বলা বা মনে করা এবং ইহরামের কাপড় পরে সেখানে উপস্থিত হওয়া।

178.  ঢাকার টঙ্গির বিশ্ব ইজতেমাকে গরিবের হজ্জ মনে করা । (বিদ’আত এবং শিরক)

179.  ওহুদ পাহাড়ের মাটি এনে তা শিফা হিসেবে ব্যবহার করা বিদআত ও শিরক।

180.  যমযম কূপের পানি এনে তা আবার পীরসাহেব বা হুজুর কেবলা দ্বারা পানির মধ্যে ফু দিয়ে তা বিশেষ কোন উদ্দেশ্যে দেয়া।

181.  প্রত্যেক ফরজ সালাতের জামাতের পর নিয়ম করে সম্মিলিতভাবে হাত তুলে মুনাজাত করা।

182.  ইলিয়াস আলীর ৩, ৭, ১০, ২১, ৪০, ৪১, ১২০ দিনের চিল্লা দেওয়া।

183.  মদীনার ‘বাকী’ কবরস্থানকে ‘জান্নাতুল বাকী” বলা বিদআত।

184.  উমরাহ করতে গিয়ে মসজিদুল হারামে প্রবেশের পর তাওয়াফ না করে প্রথমে দুই রাকআত তাহ্ইয়াতুল মসজিদ পড়া।

185.  অনেকে বিদায়ী তাওয়াফ শেষ করে ফেরার সময় কাবা ঘরের দিকে মুখ করে কবর পূজারীদের মত পিছন দিকে হেঁটে বের হন, এটা বিদ’আত।

186.  বিভিন্ন নামে নামে তাওয়াফ করা। যেমন- মায়ের নামে, ছেলের নামে ইত্যাদি বিদআত।

187.  মসজিদে নববীর খুঁটিকে ‘হানড়বা খুঁটি’ ‘আয়িশা খুঁটি ইত্যাদি মনে করে জড়িয়ে ধরে কান্নাকাটি করা ও এসব এর উসীলায় দু’আ করা বিদআত ।

188.  আলী মসজিদ, আবুবকর মসজিদ ইত্যাদিতে বরকত মনে করে সালাত আদায় করা বিদআত ।

189.  ফাতেমা (রা.) এর কবুতর মনে করে গম ছিটানো বিদ’আত ।

190.  ’বাকী’ কবরস্থানে যাদেরই কবর হবে তারা জান্নাতে যাবে, এধারণা বিদআত।

191.  হজ্জের সাদা কাপড়গুলো জমজমের পানি দিয়ে ধুয়ে রাখা এবং কবরের আজাব লাঘবের উদ্দেশ্যে কাফনের কাপড় হিসেবে ব্যবহার করা।

192.  সমাজে প্রচলিত হিল্লা বিয়ে।

193.  বিবাহ বার্ষিকী বা Marriage Anniversary পালন করা ।

194.  কারো পায়ের সাথে বা গায়ের সাথে পা লাগলে কদমবুসি করা ।

195.  আত্মীয়স্বজন ও গুণীদের পা ছুয়ে সালাম করা (কদমবুসি করা)।

196.  দাঁড়ী-পাল্লা বা মাপার জিনিস পায়ে লাগলে বা হাত থেকে নিচে পড়ে গেলে সালাম করতে হবে, না হলে লক্ষ্মী চলে যাবে।

197.  কুরআন হাতে নিয়ে বা তিলাওয়াত করে নিয়ম করে তাকে সালাম করতে হয় ।

198.  বই হাত থেকে মাটিতে পরে গেলে তাকে উঠিয়ে সালাম করতে হয় না হলে পড়ালেখা হবে না।

199.  তসবীহ পড়ার পর তসবীহ দানা মুখে চুমু খেয়ে সালাম করতে হয়।

200.  রাস্তা-ঘাটে কোথাও কোন আরবী লিখা কাগজ পেলে তা উঠিয়ে সালাম করা (হতে পারে সেটা আরবী পত্রিকা বা অন্য কিছু)।

201.  রমাদানের সাতাশের রাতকে নির্দিষ্টভাবে লাইলাতুল কদরের রাত মনে করা। এছাড়া এই রাতে ওমরা করা ।

202.  খাওয়ার সময় লবণ দিয়ে খাওয়া আরম্ভ করাকে সুন্নাত মনে করা ।

203.  সাইরেন, ঢোল, মুখের সুরে সেহরী বা ইফতারের জন্য ডাকা সওয়াব মনে করা এবং চাঁদা নেয়া।

204.  স্বপ্নের ফয়সালা মেনে নেয়া ।

205.  সওয়াবের উদ্দেশ্যে তসবীহ ব্যবহার বা সর্বদা সওয়াবের উদ্দেশ্যে হাতে তসবীহ রাখা ।

206.  মহররমের নামে তাজিয়া মিছিল বের করা ও মাতম করা ইত্যাদি।

207.  কবরকে ‘মাযার” বলা। যেমন পাগলা বাবার মাযার, লেংটা বাবার মাযার ইত্যাদি ।

208.  আল্লাহর নাম বা কুরআনের কোন আয়াত অংকে Convert করা । যেমন, ৭৮৬ বা 786.

209.  যে গ্রাম দিয়ে একজন আলেম হেটে যাবে সেই গ্রামের কবরে ৪০ দিন পর্যন্ত আযাব হবে না মনে করা।

210.  মুছাফা করার পর হাত বুকে লাগানো বিদআত ।

211.  একত্রে তিন তালাক দেয়া।

 

সমাজে প্রচলিত কিছু জাল হাদিস বা হাদিসের নামে মিথ্যা

রাসূল (ছঃ) বলেছেন “যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার প্রতি মিথ্যা (জাল হাদীস) আরোপ করল,সে যেন নিজ আশ্রয় জাহান্নামে বানিয়ে নিল।”(বুখারী ৩৪৬১) । রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ “তোমরা দ্বীনের মধ্যে নতুন সৃষ্টি করা হতে বিরত থাকো। নিশ্চয় প্রত্যেক নতুন সৃষ্টিই বিদআত ও প্রত্যেক বিদআতই গোমরাহী।”

 

সমাজে প্রচলিত কিছু জাল হাদিস এর তালিকাঃ

<– কিছু প্রচলিত জাল হাদিস বা ধর্মের নামে মিথ্যা কথা নিন্মরূপ। –>

1.   দেশ প্রেম ঈমানের অঙ্গ। এই হাদীসটি যে কেবল জাল তাই নয় উপরন্তু জাল হাদীসের বই ছাড়া অন্য কোনো গ্রন্থে সেটির উল্লেখ নেই। ইমাম সুয়ুতীর ‘আল আহাদীস আল মুনতাছিরাতে’ বলেছেন- আমি এটা খুজে পায়নি। একই কথা ইমাম সাখাবী বলেছেন। ইমাম সগানী বলেছেন হাদীসটি জাল। শায়খ আলবানী জাল বলেছেন।

2.   খাওয়ার আগে ও পরে লবন খাওয়া কারন এটা ৭০ প্রকার রোগের প্রতিষেধক। এটা সম্পুর্ন বানোয়াট কথা। বরং উচ্চরক্তচাপ রোগীদের জন্য লবন খাওয়া বিপদজনক।

3.   লাল দস্তরখানে খাওয়া একটি সুন্নাত। যে ব্যক্তি লাল দস্তরখানে খাবে, প্রতি লোকমার বিনিময়ে প্রতিদানে একশ করে নেকি পাবে ও বেহেস্তের ১০০টি দরজা তার জন্য নির্ধারিত হবে… ইত্যাদি। এটা একটা বানোয়াট কথা। প্রক্রিতপক্ষে রাসুল (সঃ) দস্তরখান ব্যবহার করতেন কিন্তু তিনি কখনো লাল দস্তরখান ব্যবহার করেছেন কিংবা এইরুপ দস্তরখান ব্যবহার করতে উৎসাহ দিয়েছেন তার কোন সহিহ হাদিস নাই। দস্তরখান ছাড়া খাদ্যগ্রহণ বিষয়ে তিনি কখনো আপত্তিও করেননি। রাসুল (সঃ) এর দস্তরখান ব্যবহার বলতে আমরা বুঝি তিনি এর উপর প্লেট, থালা, বাটি রেখে খেতেন। কিন্তু ধারণাটি সঠিক নয়। তাঁর সময় চামড়ার দস্তরখানা বা “সুফরা” ব্যবহার করা হত ও তার উপরই থালা বাটি ছাড়াই সরাসরি খেজুর, পনির, ঘি ইত্যাদি খাবার রেখে খাওয়া হত।

4.   খাওয়ার সময় কথা বলা যাবেনা। বরং সহিহ হাদিস অনুযায়ী রাসুল (সঃ) ও সাহাবিগন খাবার গ্রহনের সময় বিভিন্ন কথাবার্তা বলতেন ও গল্প করতেন।

5.   শহীদের রক্তের চেয়ে কলমের কালি উত্তম। কথাটি সুন্দর শুনালেও এটা রাসুল (সঃ) এর কথা না। ইসলামে জিহাদ ও শহীদের গুরুত্ব অনেক বেশি।

6.   আল্লাহর নুরের পর্দা ৭০ হাজার। এই সংখ্যার কথা বানোয়াট। সহিহ হাদিসে শুধু বর্নিত হয়েছে যে, মহান আল্লাহর নুরের পর্দা রয়েছে (সহিহ মুসলিম, ১/১৬১)। তবে এর সংখ্যা, প্রকৃতির বিস্তারিত বিবরন পাওয়া যায়না।

7.   সৃষ্টির সংখ্যা ১৮ হাজার মাখলুকাত। এটা একটা মিথ্যা কথা। প্রকৃতপক্ষে আল্লাহর সৃষ্টি অগণিত।

8.   আদম (আ) ও হাওয়া (আ) গন্দম গাছের ফল খেয়েছিলেন। এটা একদম ভিত্তিহীন কথা। প্রকৃত সত্য হল, আদম ও হাওয়া (আ) কে আল্লাহ একটি বিশেষ বৃক্ষের নিকট গমন করতে নিষেধ করেন। পরে তারা শয়তানের প্ররোচনায় এই বৃক্ষ থেকে ভক্ষন করেন। কিন্তু সেই গাছ বা ফলের নাম কোথাও বলা হয়নি। ইহুদিদের মধ্যে প্রচলিত ছিল আদম (আ) গন্দম নামক গাছের ফল ভক্ষন করেন।

9.   জান্নাতের অধিবাসীদের দাড়ি থাকবেনা। সবাই দাড়িহীন যুবক হবেন। এটা একটা বানোয়াট কথা।

10. অনেক গ্রন্থে নখ কাটার নিয়ম, অমুক নখ থেকে শুরু করা, অমুক নখে শেষ করা, বৃহস্পতিবার বা অমুক দিনে নখ কাটা ইত্যাদির বর্ণনা আছে যা সম্পুর্ন বানোয়াট ও মিথ্যা কথা। রাসুল (সঃ) নখ কাটতে নির্দেশ দিয়েছেন, কিন্তু কোন বিশেষ দিন বা নিয়ম শিক্ষা দেননি।

11. আসরের পর পড়ালেখা নিষেধ। এটা একদম ভিত্তিহীন প্রচলিত কথা।

12. এক ওয়াক্ত নামাজ কাযা করলে ৮০ হুকবা বা দুই কোটি ৮৮ লক্ষ বছর জাহান্নামের আগুনে শাস্তি ভোগ করতে হবে। অনেক প্রচলিত বইয়ে এই মিথ্যা কথা উল্লেখ আছে যার কোন সহিহ হাদিস নাই। এটা সম্পুর্ন ভিত্তিহীন ও বানোয়াট কথা।

13. জুমু’আর দিনে নির্দিষ্ট সংখ্যক যেমন ৪০ বার, ৫০ বার, ৮০ বার পরলে এত বছরের গুনাহ মাফ হবে বা এমন পুরুস্কার পাওয়া যাবে। এগুলো কথার কোন ভিত্তি নাই। শুধু জুমু’আর দিনে বেশি বেশি করে দরুদ পাঠ করতে সহিহ হাদিসে উল্লেখ আছে। কিন্তু এর সংখ্যা বা ফজিলতের বর্ণনা নাই। এগুলো মানুষের বানানো।

14. দুনিয়া হল আখিরাতের শস্যক্ষেত্র। কথাটা সত্য হলেও এটা একটা জনশ্রুতি, কোন হাদিস না।

15. স্বামীর পায়ের নিচে স্ত্রীর বেহেশত। এই কথা একটি ভিত্তিহিন ও বানোয়াট কথা যার কোন সহিহ হাদিস গ্রন্থে বর্ননা নাই। কোরআন ও হাদিসের নির্দেশনা থেকে বুঝা যায় যে, স্বামী-স্ত্রী উভয়ের প্রতি উভয়ের দায়িত্ব পালন ও অধিকার আদায়ের মাধ্যমেই আল্লাহর সন্তুষ্টি ও জান্নাত লাভ সম্ভব।

16. জ্ঞান অন্বেষণের জন্য সুদূর চীন দেশ পর্যন্ত যাও। অধিকাংশ মুহাদ্দিস এটাকে জাল হাদিস বলেছেন কারন দুইজন অত্যন্ত দুর্বল রাবী যারা মিথ্যা হাদিস বর্ননা করতেন শুধুমাত্র তারাই এটাকে রাসুল (সঃ) এর কথা হিসেবে প্রচার করেছেন। জ্ঞান অর্জনের জন্য সুদূর চীনে যেতে হলেও যাও (তবে জ্ঞানার্জনের গুরুত্ব প্রসঙ্গে প্রচুর হাদিস রয়েছে)।

17. জ্ঞানীর কলমের কালি শহীদের রক্তের চেয়ে বেশি পবিত্র (এ জাতীয় ভিন্ন বর্ণনা রয়েছে, তবে এ বর্ণনা নেই)।

18. সবুজ গাছপালা ও শস্যের দিকে তাকিয়ে থাকলে দৃষ্টি শক্তি বৃদ্ধি পায়।

19. আল্লাহ ওই বান্দাকে ভালবাসেন, যে তার ইবাদতে ক্লান্ত, নিস্তেজ হয়ে পড়ে।

20. আজানের মধ্যে আঙ্গুল চুম্বন করে চোখে মোছা ফজিলতের কাজ।

21. এক ঘণ্টা গভীরভাবে চিন্তা করা ৬০ বছর ইবাদতের সমান।

22. যারা মানুষকে ইসলামের দাওয়াত দেয় এবং মানুষকে ইসলাম গ্রহন করায় তাদের জন্য জান্নাত নিশ্চিত।

23. পাগড়ী পরিধান করে নামাজ আদায় করেল ১৫টি পাগড়ী ছাড়া নামাজ আদায়ের সমান সওয়াব।

24. আমার উম্মতের আলেমরা বনি ইসরাইলিদের নবীদের সমান।

25. আমি তোমাদেরকে দু’টি উপশম বলে দিলাম- মধু এবং কোরআন। [অধিকাংশ মুহাদ্দিস এটাকে জাল হাদিস বলেছেন কারন দুইজন অত্যন্ত দুর্বল রাবী যারা মিথ্যা হাদিস বর্ননা করতেন শুধুমাত্র তারাই এটাকে রাসুল (সঃ) এর কথা হিসেবে প্রচার করেছেন।]

 

 

§  ২০ মিনিটে ২০ খতম কুরআন তেলাওয়াতের সওয়াবঃ

সূরা যিলযাল           - ২ বার পড়লে ১ খতমের সওয়াব

সূরা আদিয়াত         - ২ বার পড়লে ১ খতমের সওয়াব

সূরা ইখলাস           - ৩ বার পড়লে ১ খতমের সওয়াব

সুরা ফাতেহা           – ৩ বার পড়লে ২ খতমের সওয়াব

সূরা নাসর             - ৪ বার পড়লে ১ খতমের সওয়াব

সূরা কাফিরূন        - ৪ বার পড়লে ১ খতমের সওয়াব

সূরা কদর              - ৪ বার পড়লে ১ খতমের সওয়াব

আয়াতুল কুরসী        - ৪ বার পড়লে ১ খতমের সওয়াব

 

 

সূরা ইয়াছিন (সূরা নং ৩৬) - ১ বার পড়লে ১০ খতমের সওয়াব

(বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম)

৩৬.১. ইয়াসিন।

৩৬.২. ওয়াল কুরআনিল হাকিম।

৩৬.৩. ইন্নাকা লা-মিনাল মুরসালিন।

৩৬.৪. আলা সিরাতিম মুসতাকিম।

৩৬.৫. তানজিলাল আজিজির রাহিম।

৩৬.৬. লিতুনজিরা কাওমাম্মা-উনজিরা আ-বা উহুম ফাহুম গা-ফিলুন।

৩৬.৭. লাকাদ হাক্কাল কাওলু আলা-আকসারিহিম ফাহুম লা-ইউ’মিনুন।

৩৬.৮. ইন্না-যা‘আলনা-ফি আ‘না-কিহিম আগলা-লান ফাহিয়া ইলাল আজকানি ফাহুম মুকমাহুন।

৩৬.৯. ওয়া যা‘আলনা-মিম বাইনি আইদিহিম ছাদ্দাও ওয়া মিন খালফিহিম ছাদ্দান ফাআগশাইনা-হুম ফাহুম লা-ইউবসিরুন।

৩৬.১০. ওয়া ছাওয়াউন আলাইহিম আ-আনযারতাহুম আম লাম তুনজিরহুম লা-ইউ’মিনুন।

৩৬.১১. ইন্নামা-তুনজিরু মানিত্তাবা আজজিকরা ওয়া খাশিয়ার রাহমানা বিলগাইবি ফাবাশশিরহু বিমাগফিরাতিও ওয়া আজরিন কারিম।

৩৬.১২. ইন্না-নাহনু-নুহয়িল মাওতা-ওয়া নাকতুবু মা-কাদ্দামু ওয়া আছা-রাহুম ওয়া কুল্লা শাইয়িন আহসাইনা-হু ফি ইমামিম মুবিন।

৩৬.১৩. ওয়াদরিব লাহুম মাছালান আসহা-বাল কারইয়াহ; ইযজা’আহাল মুরছালুন।

৩৬.১৪. ইজ আরছালনা ইলাইলি মুছনাইনি ফাকাজযাবু-হুমা-ফা‘আজঝাজনা-বিছা-লিছিন ফাকালু-ইন্না ইলাউকুম মুরছালুন।

৩৬.১৫. কা-লু-মা আনতুম ইল্লা-বাশারুম মিছলুনা-ওয়ামা আনঝালার-রাহমানু-মিন শাইয়িন ইন আনতুম ইল্লা-তাকজিবুন।

৩৬.১৬. কা-লু-রাব্বুনা-ইয়া‘লামু ইন্না-ইলাইকুম লা মুরছালুন।

৩৬.১৭. ওয়ামা-আলাইনা ইল্লাল বালাগুল মুবিন।

৩৬.১৮. কা-লু-ইন্না-তাতাইয়ারনা বিকুম লাইল্লাম তানতাহু-লানার-জুমান্নাকুম ওয়ালা-ইয়ামাছ-ছান্নাকুম মিন্না-আজবুন আলিম।

৩৬.১৯. কা-লু-তায়িরুকুম মা‘আকুম আইন যুক্কিরতুম বাল আনতুম কাওমুম মুছরিফুন।

৩৬.২০. ওয়াযা-আমিন আকসাল মাদিনাতি রাজুলুই ইয়াছ‘আকালা ইয়া-কাওমিত্তাবি‘উল মুরছালিন।

৩৬.২১. ইত্তাবি‘ঊ মাল্লা-ইয়াছ আলুকুম আজরাও ওয়া হুম মুহতাদুন।

৩৬.২২. ওয়া মা-লিয়া লা-আ’বুদুল্লাজি ফাতারানি ওয়া ইলাইহি তুরযা‘উন।

৩৬.২৩. আ-আত্তাখিজু মিন দুনিহী আলিহাতান ইয়্যুরিদনির রাহমানু বিদুররিল লা-তুগনি আন্নি শাফা-আতুহুম শাইআও ওয়ালা-ইউনকিজুন।

৩৬.২৪. ইন্নি ইযাল্লাফি দালালিম মুবিন।

৩৬.২৫. ইন্নি আ-মানতু-বিরাব্বিকুম ফাছমা‘ঊন।

৩৬.২৬. কিলাদ খুলিল জান্নাতা কা-লা ইয়া-লাইতা কাওমি ইয়া‘লামুন।

৩৬.২৭. বিমা-গাফারালি রাববি ওয়া যা‘আলানি মিনাল মুকরামিন।

৩৬.২৮. ওয়ামা-আনঝালনা আলা-কাওমিহি মিম বা‘দিহি মিন জুনদিম মিনাছ-ছামায়ী-ওয়ামা-কুন্না মুনজিলিন।

৩৬.২৯. ইন কানাত ইল্লা-সাইহাতাও ওয়া-হিদাতান ফাইযাহুম খা-মিদুন।

৩৬.৩০. ইয়া-হাছরাতান আলাল ইবাদি মা-ইয়া’তীহিম মির রাসুলিন ইল্লা-কানু বিহি ইয়াছতাহঝিউন।

৩৬.৩১. আলাম ইয়ারাও কাম আহলাক-না কাবলাহুম মিনাল কুরুনি আন্নাহুম ইলাইহিম লা-ইয়ারজি‘উন।

৩৬.৩২. ওয়া-ইন কুল্লুল-লাম্মা যামি‘উল লাদাইনা মুহদারুন।

৩৬.৩৩. ওয়া আয়াতুল্লাহুমুল আরদুল মাইতাতু আহ ইয়াইনাহা ওয়া আখরাজনা মিনহা হাব্বান ফামিনহু ইয়া কুলুন।

৩৬.৩৪. ওয়া যা-আলনা ফিহা জান্নাতিম মিন নাখিলিও ওয়া আ‘নাবিও ওয়া ফাজ্জারনা ফিহা মিনাল উইয়ুন।

৩৬.৩৫. লিয়াকুলু মিন ছামারিহি ওয়ামা আমিলাত-হু আইদিহিম আফালা ইয়াশকুরুন।

৩৬.৩৬. সুবহানাল্লাজি খালাকাল আঝ-ওয়াযা কুল্লাহা মিম্মা তুমবিতুল আরদু ওয়ামিন আনফুছিহিম ওয়া মিম্মা লা-ইয়া‘লামুন।

৩৬.৩৭. ওয়া আয়াতুল লাাহুমুল লাইলু নাছলাখু মিনহুন নাহারা ফাইযাহুম মুজলিমুন।

৩৬.৩৮. ওয়াশ-শামছু তাজরি লিমুছতাকার-রিল লাহা যালিকা তাকদিরুল আজিজিল আলিম।

৩৬.৩৯. ওয়াল কামারা কাদ্দারনাহু মানা-ঝিলা হাত্তা-আদা’কাল উরজুনিল কাদিম।

৩৬.৪০. লাশশামছু ইয়ামবাগি লাহা আন তুদরিকাল কামারা ওয়ালাল্লাইলু সাবিকুন্নাহারি ওয়া কুল্লুন ফি ফালাকিই ইয়াছবাহুন।

৩৬.৪১. ওয়া আয়াতুল্লাহুম আন্না হামালনা যুররি-আতাহুম ফিল ফুলকিল মাশহুন।

৩৬.৪২. ওয়া খালাকনা লাহুম মিম মিছলিহি মা ইয়ার-কাবুন।

৩৬.৪৩. ওয়া ইন্না-শা নুগরিকহুম ফালা ছারিখা লাহুম ওয়ালাহুম ইউনকাজুন।

৩৬.৪৪. ইল্লা রাহমাতাম মিন্না ওয়া মাতা-আন ইলাহিন।

৩৬.৪৫. ওয়াইযা কিলা লাহু মুত্তাকু মা-বাইনা আইদীকুম ওয়ামা খালফাকুম লা‘আল্লাকুম তুরহামুন।

৩৬.৪৬. ওয়ামা-তা’তিহিম মিন আয়াতিম মিন আয়াতি রাব্বিহিম ইল্লা-কানু আনহা মু‘রিদিন।

৩৬.৪৭. ওয়া ইযা-কিলা লাহুম আনফিকু মিম্মা-রাঝাকা-কুমুল্লাহু কা-লাল্লাজিনা কাফারু লিল্লাজিনা আমানু আনুত‘ইমু মাল্লাও ইয়াশা উল্লাহু আত‘আমাহু ইন আনতুম ইল্লা-ফি দালা-লিম মুবিন।

৩৬.৪৮. ওয়া ইয়াকুলুনা মাতা হা-যাল ওয়া‘দুইন কনতুম সা-দিকিন।

৩৬.৪৯. মা ইয়ানজুরুনা ইল্লা ছাইহাতাও ওয়া হিদাতান তা’খুজুহুম ইয়াখিস সিমুন।

৩৬.৫০. ফালা ইয়াছতাতি‘ঊনা তাওসিয়াতাও ওয়ালা ইলা আহলিহিম ইয়ারজিঊন।

৩৬.৫১. ওয়া নুফিখা ফিছছুরি ফাইযা-হুম মিনাল আজদা-ছি ইলা রাব্বিহিম ইয়ানসিলুন।

৩৬.৫২. কা-লু ইয়া ওয়াইলানা মাম বা‘আছানা মিম মারকাদিনা হা-যা মা ওয়া‘আদার রাহমানু ওয়া ছাদাকাল মুরছালুন।

৩৬.৫৩. ইন কা-নাত ইল্লা ছাইহাতাও ওয়া-হিদাতান ফাইযা-হুম জামী‘উল লাদাইনা মুহদারুন।

৩৬.৫৪. ফাল ইয়াওমা লা-তুজলামু নাফছুন শাইয়্যাও ওয়ালা তুজঝাওনা ইল্লা মা কুনতুম তা‘মালুন।

৩৬.৫৫. ইন্না আছহা-বাল জান্নাতিল ইয়াওমা ফি শুগুলিন ফা-কিহুন।

৩৬.৫৬. হুম ওয়া আঝওয়া-জুহুম ফি যিলা-লিন আলাল আরাইকি মুত্তাকিঊন।

৩৬.৫৭. লাহুম ফিহা ফাকিহাতুও ওয়ালাহুম মা ইয়াদ্দা‘ঊন।

৩৬.৫৮. সালা-মুন কাওলাম মির রাব্বির রাহিম।

৩৬.৫৯. ওয়াম তা-ঝুল ইয়াওমা আইয়ুহাল মুজরিমুন।

৩৬.৬০. আলাম আ‘হাদ ইলাইকুম ইয়াবানি আ-দামা আল্লা তা‘বুদুশ শাইতানা ইন্নাহু লাকুম আদুওউম মুবিন।

৩৬.৬১. ওয়া আনি‘বুদুনী হাযা-সিরাতুম মুসতাকিম।

৩৬.৬২. ওয়া-লাকাদ আদাল্লা মিনকুম জিবিল্লান কাছিরান আফালাম তাকুনু তা‘কিলুন।

৩৬.৬৩. হাযীহী জাহান্নামুল্লাতি কুনতুম তু‘আদুন।

৩৬.৬৪. ইছলাওহাল ইয়া ওমা বিমা কুনতুম তাকফুরুন।

৩৬.৬৫. আল-ইয়াওমা নাখতিমু আলা আফওয়া-হিহিম ওয়া তুকাল্লিমুনা আইদিহিম ওয়া তাশহাদু আরজুলুহুম বিমা কানু ইয়াকসিবুন।

৩৬.৬৬. ওয়ালাও নাশাউ-লাতামাছনা আলা আ’ইউনিহিম ফাছতাবাকুছ ছিরা-তা ফাআন্না ইউবসিরুন।

৩৬.৬৭. ওয়ালাও নাশাউ লামাছাখনাহুম আলা মাকা-নাতিহিম ফামাছতাতা-ঊ মুদিয়্যাও ওয়ালা ইয়ারজি’ঊন।

৩৬.৬৮. ওয়ামান্নু আম্মির-হু নুনাক্কিছহু ফিল খালকি আফালা ইয়া’কিলুন।

৩৬.৬৯. ওয়ামা আল্লামনা হুশশিরা ওয়ামা ইয়ামবাগী লাহু ইন হুওয়া ইল্লা যিকরুও ওয়া কুরআনুম মুবিন।

৩৬.৭০. লিয়ুনজিরা মান কা-না হাইয়্যাও ওয়া ইয়া-হিক্কাল কাওলু আলাল কাফিরীন।

৩৬.৭১. আওয়া লাম ইয়ারাও আন্না খালাকনা-লাহুম মিম্মা আমিলাত আইদিনা আন-আ’মান ফাহুম লাহা মালিকুন।

৩৬.৭২. ওয়া জাল্লালনা-হা লাহুম ফামিনহা রাকুবুহুম ওয়া মিনহা ইয়া’কুলুন।

৩৬.৭৩. ওয়া লাহুম ফিহা মানা-ফি‘উ ওয়া মাশারিবু আফালা ইয়াশকুরুন।

৩৬.৭৪. ওয়াত্তা-খাজু মিন দুনিল্লাহি আলিহাতাল লা‘আল্লাহুম ইউনসারুন।

৩৬.৭৫. লা-ইয়াছ-তাতী‘ঊনা নাসরাহুম ওয়াহুম লাহুম জুনদুম মুহদারুন।

৩৬.৭৬. ফালা ইয়াহ-ঝুনকা কাওলুহুম; ইন্না না‘লামুমা ইউছিররূনা ওয়ামা ইউ‘লিনুন।

৩৬.৭৭. আওয়ালাম ইয়ারাল ইনছানু আন্না খালাকনা-হু মিন নুতফাতিন ফাইযা হুওয়া খাসিমুম মুবিন।

৩৬.৭৮. ওয়া দারাবা লানা মাছালাও ওয়া নাছিয়া খালকাহু কালা মাই ইউহয়্যিল ইযামা ওয়া হিয়া রামীম।

৩৬.৭৯. কুল ইউহয়্যি হাল্লাজি আনশা’আহা আওয়ালা মাররাতিও ওয়া হুয়া বিকুল্লি খালকিন আলিমু।

৩৬.৮০. আল্লাজি জা‘আলা লাকুম মিনাশ শাজারিল আখদারি না-রান ফাইজা আনতুম মিনহু তুকিদুন।

৩৬.৮১. আওয়া লাইসাল্লাজি খালাকাস-সামাওয়াতি ওয়াল আরদা বিকা-দিরিন আলা আই ইয়াখলুকা মিছলাহুম বালা ওয়া হুওয়াল খাল্লাকুল আলিম।

৩৬.৮২. ইন্নামা আমরুহু ইযা আরাদা শাইআন আই ইয়াকুলা লাহু কুন ফাইয়াকুন।

৩৬.৮৩. ফাসবুহা-নাল্লাজি বিয়াদিহি মালাকুতু কুল্লি শাইয়্যিও ওয়া ইলাইহি তুরজা‘ঊন।

 

সূরা যিলযাল (সূরা নং ৯৯) - ২ বার পড়লে ১ খতমের সওয়াব

(বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম)

৯৯.১. ইযা-ঝুলঝিলাতিল আরদু ঝিলঝা-লাহা। ৯৯.২. ওয়া আখরাজাতিল আরদু আছকা-লাহা। ৯৯.৩. ওয়া কা-লাল ইনছানু মা-লাহা। ৯৯.৪. ইয়াও মাইযিন তুহাদ্দিছু আখবা-রাহা। ৯৯.৫. বিআন্না রাব্বাকা আওহা-লাহা। ৯৯.৬. ইয়াও মাইযি ইয়াস-দুরুন্নাছু আশতাত্তা-ল্লিউ-রাও আ‘মা-লাহুম। ৯৯.৭. ফামাই ইয়া‘মাল মিছকা-লা যার-রাতিন খাইরাই ইয়ারাহ। ৯৯.৮. ওয়ামাই ইয়া‘মাল মিছকালা যার-রাতিন শাররাই ইয়ারাহ।

 

সূরা আদিয়াত     (সূরা নং-১০০) - ২ বার পড়লে ১ খতমের সওয়াব

(বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম)

১০০.১. ওয়াল আদিয়া-তি দাবহা। ১০০.২. ফাল মূরিয়া-তি কাদহা। ১০০.৩. ফাল মুগীরা-তি সুবহা। ১০০.৪. ফাআছারনা বিহী নাক‘আ। ১০০.৫. ফাওয়া ছাতানা বিহী জাম’আ। ১০০.৬. ইন্নাল ইনছানা লিরাব্বিহী লাকানূদ। ১০০.৭. ওয়া ইন্নাহূ-আলা যালিকা লা-শাহীদ। ১০০.৮. ওয়া ইন্নাহূ-লিহুব্বিল খাইরি লা-শাদীদ। ১০০.৯. আফালা-ইয়া‘লামু-ইযা-বু‘ছিরা মা-ফিল কুবূর। ১০০.১০. ওয়া হুসসিলা মা-ফিসসুদূর। ১০০.১১. ইন্না রাব্বাহুম বিহিম ইয়াও মা-ইযিল্লা-খাবীর।

 

সূরা ইখলাস (সূরা নং ১১২) - ৩ বার পড়লে ১ খতমের সওয়াব

(বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম)

কুল হু আল্লাহু আহাদ। আল্লাহুস সামাদ। লাম ইয়ালিদ ওয়ালাম ইউলাদ। ওয়ালাম ইয়াকুল্লাহু কুফুওয়ান আহাদ।

 

সুরা ফাতেহা (সূরা নং ০০১) – ৩ বার পড়লে ২ খতমের সওয়াব

(বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম)

আলহামদুলিল্লা-হি রব্বিল আলামীন। আর রহমানির রহীম। মা-লিকি ইয়াওমিদ্দীন। ইয়্যা কানা’বুদু ওয়া ইয়্যা কানাছতা’ঈন। ইহদিনাস সিরাতাল মুছতাকীম। সিরাতাল্লাযীনা আন’আমতা আলাইহিম। গাইরিল মাগদূবি আলাইহীম ওয়ালাদ্দাল্লীন। (আমিন)

 

সূরা নাসর (সূরা নং ১১০) - ৪ বার পড়লে ১ খতমের সওয়াব

(বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম)

১১০.১. ইযা-জা’আ-নাসরুল্লাহি ওয়াল ফাতহ। ১১০.২. ওয়ারা আইতান্না-ছা ইয়াদ খুলূনা ফী দীনিল্লা-হি আফওয়াজা। ১১০.৩. ফাছাব্বিহ বিহামদি রাব্বিকা ওয়াছ তাগফিরহু ইন্নাহূ কা-না তাওওয়া-বা।

 

সূরা কাফিরূন (সূরা নং ১০৯) - ৪ বার পড়লে ১ খতমের সওয়াব

(বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম)

১০৯.১। কুল ইয়া আইয়ুহাল কা-ফিরুন। ১০৯.২। লা আ‘বুদুমা-তা‘বুদুন। ১০৯.৩। ওয়ালা আনতুম আ-বিদুনা মাআ‘বুদ। ১০৯.৪। ওয়ালা আনা আ-বিদুম মা-আবাত্তুম। ১০৯.৫। ওয়ালা আনতুম আ-বিদুনা মাআ‘বুদ। ১০৯.৬। লাকুম দ্বীনুকুম ওয়ালিয়া দ্বীন।

 

সূরা কদর (সূরা নং ৯৭) - ৪ বার পড়লে ১ খতমের সওয়াব

(বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম)

৯৭.১। ইন্না-আনঝালনাহু ফী লাইলাতিল কাদর। ৯৭.২। ওয়ামা আদরা-কা মা-লাইলাতুল কাদর। ৯৭.৩। লাইলাতুল কাদরি খাইরুম মিন আলফি শাহর। ৯৭.৪। তানাঝঝালুল মালাইকাতু-ওয়াররুহু ফীহা-বিইযনি রাব্বিহিম মিন কুল্লি আমর। ৯৭.৫। সালামুন হিয়া হাত্তা-মাতলা‘ইল ফাজর।

 

আয়াতুল কুরসী - ৪ বার পড়লে ১ খতমের সওয়াব

আল্লাহু লা-ইলাহা ইল্লা হুয়াল হাইয়্যুল কাইয়ুম। লা-তাখুজুহু সিনাতুও ওয়ালা নাউম। লাহুমা ফিস সামাওয়াতি ওয়ামা ফিল আরদ। মান যাল্লাযী ইয়াশফাউ ইন্দাহু ইল্লা বিইযনিহী, ইয়া লামু-মা বাইনা আইদিহিম ওয়ামা খালফাহুম, ওয়ালা ইউহিতুনা বিশাইয়িম মিন ইলমিহি ইল্লা বিমা শা-আ, ওয়াসিয়া কুরসিহুস সামাওয়াতি ওয়াল আরদ, ওয়ালা ইয়াউ দুহু হিফজুহুমা ওয়া হুয়াল আলিয়্যুল আজীম।

 

সূরা তাকাসুর (সূরা নং ১০২) পাঠে করলে ১০০০ আয়াত পাঠের ছওয়াব

 (বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম)

১০২.১। আলহা কুমু-ত্তাকাছুর। ১০২.২। হাত্তা ঝুরতুমুল মাকাবির। ১০২.৩। কাল্লা ছাউফা তা’লামুন। ১০২.৪। ছুম্মা কাল্লা ছাউফা তা’লামুন। ১০২.৫। কাল্লা-লাও তা-লামুনা ইলমাল ইয়াকীন। ১০২.৬। লা-তারা উন্নাল জাহিম। ১০২.৭। ছুম্মা লাতারা উন্নাহা আইনাল ইয়াকীন। ১০২.৮। ছুম্মা লাতুছ আলুন্না ইয়াও মা’ইযিন-আনিন্না’ঈম।

 

সূরা মুলক

(বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম)

৬৭.১। তাবারাকাল্লাযী বিয়াদিহিল মূলকু ওয়া হুওয়া আলা কুল্লি শাইয়িন কাদীর।

৬৭.২। আল্লাজী খালাকাল মাওতা ওয়াল হায়াতা লি-ইয়াবলু ওয়াকুম আইয়ুকুম আহছানু আমালাও ওয়া হুওয়াল আজিজুল গাফুর।

৬৭.৩। আল্লাজি খালাকা ছাব‘আ ছামা-ওয়াতিন তিবাকান মাতারা-ফি খালকির রাহমানি মিন তাফাউত ফারজি‘ইল বাসারা হাল তারা-মিন ফুতুর।

৬৭.৪। ছুম্মার জি’ইল বাসারা কাররা-তাইনি ইয়ান-কালিব ইলাইকাল বাসারু খা-ছিআও ওয়া হুওয়া হাছীর।

৬৭.৫। ওয়া লাকাদ ঝা-ইয়ান্নাছ সামা আদ্দুনিয়া বিমাসা-বিহা ওয়াজা আলনা-হা রুজুমাল লিশ-শায়াতিনি ওয়া আ’তাদনা-লাহুম আযা-বাছছা’ঈর।

৬৭.৬। ওয়া লিল্লাযীনা কাফারু বিরাব্বিহিম আযাবু-জাহান্নানা ওয়াবি’ছাল মাছীর।

৬৭.৭। ইজা উলকু ফিহা ছামি’উ লাহা শাহিকাও ওয়া হিয়া-তাফুর।

৬৭.৮। তাকা-দু তামাইয়াজু মিনাল গাইজি কুল্লামা উলকিয়া ফিহা ফাওজুন ছা’আলাহুম খাজানাতুহা আলাম ইয়াতিকুম নাজীর।

৬৭.৯। কা-লু বালা-কাদ জা’আনা-নাজিরুন ফাকাজ-যাবনা ওয়া কুলনা মানাঝ-ঝালাল্লাহু মিন শাইয়িন ইন আনতুম ইল্লা-ফি দালা-লিন কাবীর।

৬৭.১০। ওয়া কালু-লাও কুন্না-নাছমা’উ আওনা কিলুমা কুন্না-ফি আসহা-বিছ ছা’ঈর।

৬৭.১১। ফা’তারাফু বিজাম-বিহিম ফাছুহ-ক্কাল্লি আসহা বিছছা’ঈর।

৬৭.১২। ইন্নাল্লাযীনা ইয়াখশাওনা রাব্বাহুম বিলগাইবি লাহুম মাগফিরাতুও ওয়া আজরুন কাবীর।

৬৭.১৩। ওয়া আছিররু কাওলাকুম আবিজ হারুবিহি ইন্নাহু আলিমুম বিজা-তিস সুদুর।

৬৭.১৪। আলা ইয়া’লামু-মান খালাক ওয়া হুওয়াল লাতিফুল খাবীর।

৬৭.১৫। হুওয়াল্লাযী জা’আলা লাকুমুল আরদা যালুলান ফামশু-ফি মানা কিবিহা ওয়া কুলু-মির রিজকিহি ওয়া ইলাইহিন নুশুর।

৬৭.১৬। আ-আমিনতুম মান ফিছ’ছামাই আই ইয়াখ-ছিফা বিকুমুল আরদা ফাইযা হিয়া তামুর।

৬৭.১৭। আম আমিন-তুম মান ফিছ’ছামাই আই ইউরছিলা আলাইকুম হা-ছিবান ফাছাতা’লামুনা কাইফা নাযীর।

৬৭.১৮। ওয়া লাকাদ কায-যাবাল্লাযীনা মিন কাবলিহিম ফাকাইফা কা-না নাকীর।

৬৭.১৯। আওয়ালাম ইয়ারাও ইলাত্তাইরি ফাওকাহুম সাফফা-তিউ ওয়া ইয়াকবিদুন। মাই উমছি-কুহুন্না ইল্লার-রাহমানু ইন্নাহু বিকুল্লি শাইয়িম বাছীর।

৬৭.২০। আম্মান হা-যাল্লাযী হুওয়া জুনদুল্লাকুম ইয়ানসুরুকুম মিন দুনির-রাহমান-ইনিল কাফিরুনা ইল্লা-ফি গুরুর।

৬৭.২১। আম্মান হা-যাল্লাযী ইয়ার-ঝুকুকুম ইন আমছাকা রিজকাহু বাল্লাজজুফি উতুও-বি ওয়া নুফুর।

৬৭.২২। আফা-মাই ইয়ামশি মুকিব্বান আলা-ওয়াজহিহী আহদা আম্মাই ইয়ামশি ছাবি-ইয়ান আলা সিরাতিম মুসতাকীম।

৬৭.২৩। কুল হুওয়াল্লাযী আনশাআকুম ওয়া জা‘আলা লাকুমুছ-ছাম‘আ ওয়াল আবসারা ওয়াল আফ-ইদাতা কালিলাম মা-তাশকুরুন।

৬৭.২৪। কুল হুওয়াল্লাযী যারাআকুম ফিল আরদি-ওয়া ইলাইহি তুহশারুন।

৬৭.২৫। ওয়া ইয়া কুলুনা মাতা-হাযাল ওয়া দু-ইন কুনতুম সাদিকীন।

৬৭.২৬। কুল ইন্নামাল ইলমু-ইনদাল্লাহি ওয়া ইন্নামা আনা নাজিরুম মুবীন।

৬৭.২৭। ফালাম্মা-রা আওহু জুলফাতান ছী’আত ঊজু-হুল্লাযীনা কাফারু ওয়া কিলা হাযাল্লাযী কুনতুম বিহি তাদ্দা’ঊন।

৬৭.২৮। কুল আরা-আইতুম ইন আহলাকা নিয়াল্লাহু ওয়া মাম্মা‘ইয়া আও রাহিমানা ফামাই ইউজিরুল কাফিরীনা মিন আযাবিন আলীম।

৬৭.২৯। কুল হুওয়ার রাহমানু আমান্না বিহি ওয়া আলাইহি তাওয়াক্কালনা ফাছাতা লামুনা মান হুওয়া ফি দালা-লিম মুবীন।

৬৭.৩০। কুল আরা-আইতুম ইন আসবাহা মাউকুম গাওরান ফামাই ইয়া’তীকুম বিমাইম মা’ঈন।

 

সুরা নং- ০৩২: (আলিফ-লাম-মীম) আস-সাজদাহ

(বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম)

৩২.১। আলিফ লাম মীম।

৩২.২। তানঝীলুল কিতাবি লা-রাইবা ফীহি মির রব্বিল আ-লামীন।

৩২.৩। আম ইয়াকুলূনাফ তারা-হু বাল হুওয়াল হাক্কুমির রাব্বিকা লিতুনযীরা কাওমাম মা’আতা-হুম মিন নাযীরিম মিন কাবলিকা লা‘আল্লাহুম ইয়াহতাদূন।

৩২.৪। আল্লাহুল্লাযী খালাকাস সামাওয়াতি ওয়াল আরদা ওয়ামা বাইনা হুমা-ফী ছিত্তাতি আইয়্যামিন ছুম্মাস্ তাওয়া আলাল আরশি মা-লাকুম মিন দুনিহী মিও ওয়ালিইয়্যিও ওয়ালা শাফী‘ইন আফালা-তাতাযাক্কারূন।

৩২.৫। ইউদাব্বিরুল আমরা মিনাস্ সামা-য়ি ইলাল আরদি ছুম্মা ইয়া’রুজু ইলাইহি ফী ইয়াওমিন কানা মিকদা-রুহূ আলফা ছানাতিম মিম্মা-তা‘উদ্দূন।

৩২.৬। যা-লিকা আ-লিমুল গাইবি ওয়াশ-শাহাদাতিল আজিজুর রাহীম।

৩২.৭। আল্লাযী আহছানা কুল্লা শাইয়িন খলাকাহূ ওয়া বাদা’আ খালকাল ইনছানি মিন ত্বীন।

৩২.৮। ছুম্মা জা‘আলা নাছলাহূমিন সুলা-লাতিম মিম মা-য়িম মাহীন।

৩২.৯। ছুম্মা ছাও-ওয়াহু ওয়ানাফাখ ফীহি মির রূহিহী ওয়াজা‘আলা লাকুমুস্ সাম‘আ ওয়াল আব্ছোরা ওয়াল আফ’ইদাতা কালীলাম মা-তাশকুরূন।

৩২.১০। ওয়া কালূ ইযা-দালাল্না-ফিল আরদি আইন্না-লাফী খালকিন জাদীদ বাল হুম বিলিকায়ি রাব্বিহিম কা-ফিরূন।

৩২.১১। কুল ইয়া তাওয়াফ্ফা-কুম মালাকুল মাওতিল্লাযী উক্কিলা বিকুম ছুম্মা ইলা-রাব্বিকুম তুরজা‘ঊন।

৩২.১২। ওয়া লাও তারা’ইযিল মুজরিমূনা না-কিসূ রুয়ূছিহিম ইন্দা রাব্বিহিম রাব্বানা আবছারনা-ওয়া সামি’না ফারজি’না না’মাল ছালিহান ইন্না-মূকিনূন।

৩২.১৩। ওয়ালাও শিনা-লা আ-তাইনা কুল্লা নাফ্সিন হুদা হাওয়ালা-কিন হাক্কাল কাওলু মিন্নী লাআমলা’আন্না জাহান্নামা মিনাল জিন্নাতি ওয়ান্না-সি আজ মা‘ঈন।

৩২.১৪। ফাযূকু বিমা-নাসীতুম লিকা-আ ইয়াওমিকুম হাযা-ইন্না নাসীনা-কুম ওয়া যূকু আযাবাল খুলদি বিমা-কুনতুম তা’মালূন।

৩২.১৫। ইন্নামা-ইউ মিনু বি-আয়াতিনাল্লাযীনা ইযা যুক্কিরূ বিহা খাররু সুজ্জ্বাদাও ওয়াসাব্বাহূ বিহামদি রাব্বিহিম ওয়া হুম লা-ইয়াস্তাকবিরূন।

৩২.১৬। তাতাজা-ফা-জুনূবুহুম আনিল মাদা-জি‘ই ইয়াদ‘ঊনা রাব্বাহুম খাওফাও ওয়া তামা’আও ওয়া মিম্মা-রাযাকনা-হুম ইউনফিকুন।

৩২.১৭। ফালা-তা’লামু নাফ্সুম মাউখ-ফিয়া লাহুম মিন কুররাতি আ’ইউনিন জাঝা-আম বিমা-কানূ ইয়া’মালূন।

৩২.১৮। আফামান কা-না মুমিনান কামান কা-না ফাছিকাল লা-ইয়াছ’তাউন।

৩২.১৯। আম্মাল্লাযীনা আ-মানূ ওয়া আমিলুছ ছালিহাতি ফালাহুম জান্নাতুল মাওয়া নুঝুলাম বিমা কা-নূ ইয়া’মালূন।

৩২.২০। ওয়া আম্মাল্লাযীনা ফাসা-কুফা-মাওয়া-হুমুন্নারু কুল্লামা আরাদূ আই ইয়াখরুজু মিনহা উ‘ঈদূ ফীহা- ওয়া কীলা লাহুম যূকু আযাবান্না-রিল্লাযী কুনতুম বিহী তুকাযযীবূন।

৩২.২১। ওয়া লানু যীকান্নাহুম মিনাল আযাবিল আদনা-দূনাল আযাবিল আকবারি লা‘আল্লাহুম ইয়ারজি‘ঊন।

৩২.২২। ওয়া মান আজলামু মিম্মান যুক্কিরা বি-আয়াতি রাব্বিহী ছুম্মা আরাদা আনহা-ইন্না-মিনাল মুজরিমীনা মুনতাকিমূন।

৩২.২৩। ওয়া লাকাদদ আ-তাইনা মূসাল কিতাবা ফালা-তাকুন ফী মির ইয়াতিম মিল্লিকাইহী ওয়া জা‘আল্নাহু হুদাল লিবানী ইস্রাঈল।

৩২.২৪। ওয়া জা‘আল্না-মিনহুম আ-ইম্মাতাই ইয়াহ-দুনা বি-আমরিনা লাম্মা-ছাবারূ ওয়াকা-নূ বি-আয়াতিনা ইয়ূকিনূন।

৩২.২৫। ইন্না রাব্বাকা হুওয়া ইয়াফসিলু বাইনাহুম ইয়াওমাল কিয়ামাতি ফীমা কা-নূ ফীহি ইয়াখ্তালিফূন।

৩২.২৬। আওয়ালাম ইয়াহদি লাহুম কাম আহলাকনা-মিন কাবলিহিম মিনাল কুরূনি ইয়ামশুনা ফী মাসা-কিনিহিম ইন্না ফী যা-লিকা লা-আয়াতিন আফালা ইয়াস’মাঊন।

৩২.২৭। আওয়ালাম ইয়ারাও আন্না-নাসূকুল মা-আ ইলাল আরদিল জুরুঝি ফানুখরিজু বিহী ঝার‘আন তাকুলু মিনহু আন‘আ-মুহুম ওয়া আনফুছুহুম আফালা-ইউবছিরূন।

৩২.২৮। ওয়া ইয়াকুলূনা মাতা-হাযাল ফাতহু-ইন কুনতুম ছাদিকীন।

৩২.২৯। কুল ইয়াওমাল ফাতহিলা-ইয়ানফা‘ঊল্লাযীনা কাফারূ’ঈমা-নুহুম ওয়ালা-হুম ইউনজারূন।

৩২.৩০। ফা‘আরিদ আনহুম ওয়ান তাজির ইন্নাহুম মুনতাজিরূন।

 

সূরা আত-তাগাবুন (সূরা নং ৬৪) ফজর নামাযের পরে সূর্যোদয়ের আগে

(বিসমিল্লাহীর রাহমানির রাহিম)

৬৪.১: ইউছাব্বিহু লিল্লা-হি মা-ফিছ ছামাওয়াতি ওয়ামা ফিল আরদি লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু ওয়া হুওয়া আলা কুল্লি শাইয়িন কাদীর।

৬৪.২: হুওয়াল্লাযী খালাকাকুম ফামিনকুম কা-ফিরুও ওয়া মিনকুম মুমিনুন ওয়াল্লাহু বিমাতা’মালূনা বাছীর।

৬৪.৩: খালাকাছছামা-ওয়াতি ওয়াল আরদা বিলহাক্কি ওয়া সাও-ওয়ারাকুম ফাআহছানা সুওয়ারাকুম ওয়া ইলাইহিল মাছীর।

৬৪.৪: ইয়া‘লামুমা ফিছ ছামাওয়াতি ওয়াল আরদি ওয়া ইয়া‘লামুমা তুছিররূনা ওয়া মাতু‘লিনূনা ওয়াল্লাহু আলীমুম বিযাতিস-সুদূর।

৬৪.৫: আলাম ইয়াতিকুম নাবা-উল্লাযীনা কাফারূমিন কাবলু ফাযা-কূ ওয়া বা-লা আমরিহিম ওয়া লাহুম আযাবুন আলীম।

৬৪.৬: যা-লিকা বিআন্নাহূকা-নাত তা’তীহিম রুছুলুহুম বিলবায়্যিনাতি ফাকালূ আবাশারুই ইয়াহদূ নানা-ফাকাফারূ ওয়া তাওয়াল্লাও ওয়াছতাগনাল্লাহু ওয়াল্লাহু গানিইয়ুন হামিদ।

৬৪.৭: ঝা‘আমাল্লাযীনা কাফারূ আল্লাই ইউব‘আছূ কুল বালা-ওয়া রাববী লাতুব‘আছুন্না ছুম্মা লাতু নাব্বাউন্না বিমা-আমিলতুম ওয়া যা-লিকা আলাল্লা-হি ইয়াছীর।

৬৪.৮: ফা আমিনূবিল্লাহি ওয়া রাছূলিহী ওয়ান্নূরিল্লাযী আনঝালনা ওয়াল্লাহু বিমাতা‘মালূনা খাবীর।

৬৪.৯: ইয়াওমা ইয়াজমা‘উকুম লিইয়াওমিল জাম‘ইযা-লিকা ইয়াওমুত্তাগা-বুন ওয়া মাই ইউ’মিম বিল্লাহি ওয়া ইয়া‘মাল সা-লিহাই ইউকাফফির আনহু ছাইয়্যি আ-তিহী ওয়া ইউদখিলহু জান্নাতিন তাজরী মিন তাহতিহাল আনহারু খালিদীনা ফীহা আবাদা যালিকাল ফাওঝুল আজীম।

৬৪.১০: ওয়াল্লাযীনা কাফারূ ওয়া কাযযাবূ বি-আয়াতিনা উলাইকা আসহা-বুন্নারি খালিদীনা ফীহা ওয়া বি’ছাল মাছির।

৬৪.১১: মা আসা-বা মিম মুসীবাতিন ইল্লা-বিইযনিল্লাহি ওয়া মাই ইউ’মিম বিল্লাহি ইয়াহদি কালবাহূ ওয়াল্লাহু বিকুল্লি শাইয়িন আলীম।

৬৪.১২: ওয়া আতী‘উল্লাহা ওয়া আতী‘উর রাছূলা ফাইন তাওয়াল্লাইতুম ফাইন্নামা আলা রাছূলি-নাল বালা-গুল মুবীন।

৬৪.১৩: আল্লাহু লা ইলা-হা ইল্লা হুওয়া ওয়া আলাল্লাহি ফালইয়া তাওয়াক্কালিল মু’মিনূন।

৬৪.১৪: ইয়া আইয়ুহাল্লাযীনা আ-মানূ ইন্না মিন আঝওয়া-জিকুম ওয়া আওলা-দিকুম আদুউ-ওয়াল লাকুম ফাহ-যারূহুম ওয়া ইন তা‘ফূওয়া তাস-ফাহূওয়া তাগফিরূ ফাইন্নাল্লাহা গাফূরুর রাহীম।

৬৪.১৫: ইন্নামা আমওয়া-লুকুম ওয়া আওলা-দুকুম ফিতনাতুও ওয়াল্লাহু ইনদাহূ আজরুন আজীম।

৬৪.১৬: ফাত্তাকুল্লাহা মাছতাতা‘তুম ওয়াছমা‘উ ওয়া আতী‘ঊ ওয়া আনফিকূ খাইরাল লিআনফুছিকুম ওয়া মাই ইঊকা শুহহা নাফছিহী ফাউলাইকা হুমুল মুফলিহূন।

৬৪.১৭: ইন তুকরিদুল্লা-হা কারদান হাছানাই ইউদা-ইফহু লাকুম ওয়া ইয়াগ ফিরলাকুম ওয়াল্লাহু শাকূরুন হালীম।

৬৪.১৮: আ-লিমুল গাইবি ওয়াশশাহা-দাতিল আঝীঝুল হাকীম।

 


Post a Comment