জুমার দিনের আমল
বৃহস্পতিবার মাগরিবের পর থেকে শুক্রবার মাগরিব পর্যন্ত বেশি বেশি দরূদ পাঠ করা।
জুমার (বৃহস্পতিবার) রাতে
যে ব্যক্তি জুমার রাতে সুরা দুখান (সুরা নং- ০৪৪) তিলাওয়াত করে আল্লাহ তা-আলা
তাকে ক্ষমা করে দেন।
(তিরমিজি, হাদিস: ২৮৮৯, হাদিসটি গারীব। (গারীব: এর আক্ষরিক অর্থ 'অপরিচিত' বা
'বিরল'। হাদিসশাস্ত্রে, গারীব বলতে বোঝায় এমন হাদিস যা কোনো সনদে বা সনদের কোনো অংশে
একজন মাত্র বর্ণনাকারী একাই বর্ণনা করেছেন, যা অন্য কেউ বর্ণনা করেননি।)
[আমার মতঃ আমলযোগ্য নয়]
জুম্মার দিন সকালে ৩ বার
আসতাগফিরুল্লা-হাল্লাযী লা-ইলাহা ইল্লা হুয়াল হাইয়্যুল কাইয়্যুম ওয়াতুবু ইলাইহি
- যে ব্যক্তি জুমার দিন সকালে দোয়াটি ৩ বার পড়ে, আল্লাহ তার সকল গুনাহ মাফ করে দেবেন যদিও তার গুনাহ সমূদ্রের ফেনা পরিমাণ হয়।
সারা দিনে
জুমার রাতে এবং জুমার দিন ১০০ বার দরূদ শরীফ পড়লে,
- আল্লাহ্ তাআলা ১০০টি হাজত পূরণ করবেন। ৭০টি আখিরাতের, আর ৩০টি দুনিয়ার। (তারিখে দামেশক লি ইবনে আসাকির, ৫৪ খন্ড, ৩০১ পৃষ্ঠা)
জুমার সলাতের পূর্বে নির্জনে (২০০ বার) ইয়া আল্লাহ পড়লে যেকোনো কঠিন সমস্যার সমাধান হয়।
(১০০০ বার) মা-শা---আল্লাহ
- যে ব্যক্তি পূর্ণ একাগ্রতা ও প্রাণের ব্যাকুলতা নিয়ে ১০০০ বার এই ইসম শরীফ পাঠ করতে থাকবে, হজ নসীব হওয়ার আগে তার মৃত্যু হবে না। (আল্লামা-ই-জানজাবিল কৃত ‘তাওয়ারিখে মক্কা’)
রাসূল (সা:) জুমার সালাত কত রাকাত করে আদায় করতেন?
রাসূল (সা.) জুমার সালাত ২ রাকাত ফরজ হিসেবে আদায় করতেন। এর আগে ও পরে সুন্নাত ও নফল সালাত আদায়ের হাদীসও পাওয়া যায়।
🕌 বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
✅ ফরজ সালাত:
- ২ রাকাত — জুমার খুতবার পর জামাআতের সঙ্গে আদায় করা হয়।
- এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে ফরজ করা হয়েছে, কুরআনে বলা হয়েছে:
> "হে ঈমানদারগণ! জুমার দিনে যখন সালাতের জন্য আহ্বান করা হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণে ধাবিত হও এবং ক্রয়-বিক্রয় পরিত্যাগ করো।"
(সূরা জুমু‘আ, আয়াত ৯)
✅ সুন্নাত ও নফল সালাত:
- জুমার আগে: রাসূল (সা.) থেকে নির্দিষ্টভাবে কোনো সুন্নাত সালাত প্রমাণিত নয়।
তবে সাহাবায়ে কেরাম খুতবার আগে তাহিয়্যাতুল মসজিদ ও অন্যান্য নফল সালাত আদায় করতেন।
- জুমার পরে:
- মসজিদে: ৪ রাকাত সুন্নাত (এক সালামে বা দুই সালামে) আদায় করা হতো।
- বাসায়: কেউ কেউ ২ রাকাত আদায় করতেন।
📚 হাদীসের ভিত্তি:
- ইবনু উমর (রাঃ) বলেন, “রাসূলুল্লাহ (সা.) জুমার পর ২ রাকাত সালাত আদায় করতেন।” (বুখারী)
- অন্য হাদীসে এসেছে, “যে ব্যক্তি জুমার পর ৪ রাকাত সালাত আদায় করে, সে উত্তম কাজ করে।” (তিরমিযী)
🔖 আলোচনার সার সংক্ষেপ:
বংলাদেশের অধিকাংশ মসজিদে জুমার দিন মুসল্লীগণ যে ৪ রাকাত কবলাল জুমআ নামক সুন্নত সলাত আদায় করেন, তা সহীহ হাদিস সিদ্ধ নয়।
- ফরজ:
- ২ রাকাত (জামাআতের সঙ্গে)
- সুন্নাত ও নফল:
- খুতবার আগে: ইচ্ছামতো নফল
- খুতবার পরে: ২ বা ৪ রাকাত সুন্নাত
জুমার সলাতের পরে ১০০ বার
ইয়া আল-গাফফার
- গুনাহ মাফের লক্ষণ পাওয়া যায়
- সকল অভাব দূর হয়
- অভাবনীয় উপায়ে রিজিক পাওয়া যায়।
আব্দুল্লাহ বিন ওমর (রাঃ) বলেন, রাসূল (ছাঃ) জুম‘আর পরে বাড়িতে গিয়ে দু’রাক‘আত সুন্নাত পড়তেন (মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/১১৬১)। আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, রাসূল (ছাঃ) এরশাদ করেছেন, তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি জুম‘আর পরে ছালাত আদায় করে, সে যেন চার রাক‘আত পড়ে (মুসলিম, মিশকাত হা/১১৬৬)। ইমাম নববী বলেন, অত্র হাদীছগুলি দ্বারা জুম‘আর পরে সুন্নাত পড়া মুস্তাহাব প্রমাণিত হয়। ইসহাক্ব বিন রাহওয়াইহ বলেন, মসজিদে আদায় করলে চার রাক‘আত এবং বাড়িতে আদায় করলে দু’রাক‘আত পড়বে। ইবনু ওমর (রাঃ) মসজিদে দু’রাক‘আত এবং তারপরে চার রাক‘আত পড়তেন (মির‘আত ৪/১৪২-৪৩)।
অতএব যারা বাড়িতে এসে উক্ত সুন্নাত আদায়ে অভ্যস্ত, তারা বাড়িতে এসে দু’রাক‘আত ছালাত
আদায় করবেন। নইলে মসজিদেই দুই অথবা চার রাক‘আত আদায় করবেন। উল্লেখ্য যে, বর্তমানে কোনরূপ
সুন্নাত না পড়েই মসজিদ থেকে দ্রুত বেরিয়ে যাওয়ার যে প্রবণতা দেখা যায়, তা অবশ্যই পরিত্যাজ্য।
৭ বার সুরা ইখলাস + ৭ বার সুরা ফালাক + ৭ বার সুরা নাস
পাঠ করে হাতে ফুক দিয়ে সারা শরীরে মাসেহ করলে হঠাৎ হৃদরোগ, হার্ট-ফেইল, প্যারালাইসিস হবে না, ইনশা আল্লাহ।
আছর সলাতের পর
আছরের পর বেশি বেশি দোয়া, ইস্তিগফার এবং আল্লাহর কাছে কল্যাণ প্রার্থনা করা খুবই জরুরি। যেন তা কবুল হয়ে যায়।
জুমআর দিন আসর থেকে মাগরিব পর্যন্ত সময় নফল সলাতে অতিবাহিত করা উত্তম। বেশি বেশি দরূদ পড়া। বেশি বেশি ইসতেগফার করা। আর তাতেই সলাতে অতিবাহিত করার সাওয়াব মিলবে।
§ জুমার অন্যতম আমল কোরআনুল কারিমের ১৫-তম পারার ১৮-নং সুরা কাহফ পাঠ করা।
সূরাটি নাযিলের সময় ৭০ হাজার ফেরেশতা আসমান থেকে পৃথিবীতে অবতরণ করেছিল। জুমার দিনে সূরাটি পড়লে আসমান থেকে লক্ষ লক্ষ ফেরেশতা নেমে আসে এবং তেলোয়াতকারীর জন্য দোয়া করতে থাকে।
(প্রথম ১০ আয়াত) (বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম)
১। আলহামদুলিল্লা-হিল্লাযী আনজালা আলা-আবদিহিল কিতাবা ওয়ালাম ইয়াজ আল্লাহূ ই-ওয়াজা।
২। কাইয়্যিমাল লিয়ুনজিরা বাছান শাদীদাম মিল্লাদুনহু ওয়া ইউবাশশিরাল মুমিনীনাল্লা-যীনা ইয়া’মালূনাছ ছোয়া-লিহা-তি আন্না লাহুম আজরান হাছান।
৩। মা-কিছীনা ফীহি আবাদা।
৪। ওয়া-ইউনজিরা-ল্লাজিনা কলুত্তাখাজাল্লা-হু ওয়ালাদা।
৫। মা লাহুম বিহী- মিন ইলমিও ওয়ালা লি আবা--ইহিম; কাবুরাত কালিমাতান তাখরুজু মিন আফওয়া হিহিম; ইয়্যা কুলূনা ইল্লা-কাজিবা।
৬। ফালা আল্লা-কা বা-খিউন্নাফছাকা আলা-- আ-ছারিহিম ইল্লাম ইউমিনূ বিহা-জাল হাদীছি আছাফা।
৭। ইন্না জা’আলনা মা আলাল আরদি জীনাতাল্লাহা লিনাবলু ওয়াহুম আইয়্যুহুম আহ্সানু আমালা।
৮। ওয়া ইন্না লাজা-ইলূনা মা আলাইহা ছা’ইদান জুরুজা।
৯। আম হাসিবতা আন্না আছহা-বাল কাহফি ওয়ার রাকীম। কানূ মিন আ-য়া-তিনা আজাবা।
১০। ইজ আওয়াল ফিত ইয়াতু ইলাল কাহফি ফাকালু রাব্বানা-- আ-তিনা মিল্লাদুনকা রাহমাতাও ওয়া হাইয়্যি লানা মিন আমরিনা রাশাদা।
(শেষ ১০ আয়াত) (বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম)
১০১। আল্লাজীনা কা-নাত আই উনুহুম ফী গিতায়িন আন জিকরি ওয়াকা-নূ লা- ইয়াছতাতী ঊনা ছাম‘আ।
১০২। আফা হাছিবাল্লাজীনা কাফারূ আই ইয়াত্তাখিযূ ইবাদী মিন দূনী আওলিয়া-আ; ইন্না আতাদনা-জাহান্নামা লিল কাফিরীনা নুজুলা।
১০৩। কুল হাল নুনাব্বিউকুম বিল আখছারীনা আমা-লা।
১০৪। আল্লাযীনা দোয়াল্লা ছাই উহুম ফীল হা-ইয়াতিদ্ দুনিয়া ওয়া হুম ইয়াহছাবূনা আন্নাহুম ইউহ-ছিনূনা ছুন‘আ।
১০৫। উলা-ই কাল্লাজীনা কাফারু বি-আয়াতি রাব্বিহিম ওয়ালিকাইহী ফাহাবিতাত আমা-লূহুম ফালা-নুকী মুলাহুম ইয়াওমাল কিয়ামাতি ওয়াজনা।
১০৬। যা-লিকা জাজা-উহুম জাহান্নামু বিমা-কাফারূ ওয়াত্তাখাযূ আয়াতী ওয়া রুসুলী হুযু ওয়া।
১০৭। ইন্নাল্লাযীনা আ-মানূ ওয়া আমিলুছ ছোয়া-লিহা-তি কা-নাত লাহুম জান্নাতুল ফিরদাউছি নুজুলা।
১০৮। খা-লিদীনা ফীহা লা-ইয়াবগূনা আনহা-হিওয়ালা।
১০৯। কুল লাও কা-নাল বাহরু মিদা-দাল্লি কালিমাতি রাব্বী লানাফিদাল বাহরু কাবলা আন তানফাদা কালিমা-তু রাব্বী ওয়ালাও জিনা বিমিছলিহী মাদাদা।
১১০। কুল ইন্নামা আনা-বাশারুম মিছলুকুম ইউহা ইলাইয়্যা আন্নামা ইলা-হুকুম ইলাহুঊ ওয়াহিদুন ফামান কা-না ইয়ারজুলিকা রাব্বিহী ফাল ইয়া মাল আমালান ছোয়া-লিহাও ওয়ালা ইউশরিকু বি ইবাদাতি রাব্বিহী আহাদা।
.png)
.png)
.png)
.png)
.png)
.png)
.png)
.png)
.png)
.png)
.png)
.png)
.png)
.png)
.png)
.png)
.png)
Post a Comment