৭_রাতে ঘুমাতে যাওয়া থেকে ফজরে মসজিদে যাবার সময় পর্যন্ত আমল

 

রাতে ঘুমাতে যাওয়া থেকে ফজরে মসজিদে যাবার সময় পর্যন্ত আমল

রাতে ঘুমাতে যাবার পরঃ

ইয়া সামাদু, ইয়া সামিয়্যু (৯ বার পড়ে) আল্লাহর কাছে কিছু চাইলে আল্লাহ তা কবুল করেন।

 

(১ বার) আয়াতুল কুরসী

- যে ব্যক্তি শয্যা গ্রহণকালে আয়াতুল কুরসী পড়বে, আল্লাহর পক্ষ থেকে তার নিরাপত্তা দেওয়া হবে এবং সকাল পর্যন্ত কোনও শয়তান তার নিকট আসতে সক্ষম হবে না।

 

১ বার সূরা কাফিরুন

 

(৩ বার) সূরা ইখলাস + সূরা ফালাক + সূরা নাস

- পড়ে উভয় হাত একত্রিত করে ফুঁক দিয়ে মাথা, মুখমন্ডল, বুক থেকে সারা শরীরের অগ্রভাগে ৩ বার মাসেহ করবে।

 

১ বার সূরা বাকারার শেষ ২ আয়াত

২.২৮৫। আ-মানার রাসূলু বিমা উনঝিলা ইলাইহি মির রাব্বিহী ওয়াল মুমিনূন। কুল্লুন আ-মানা বিল্লাহি ওয়া মালা-ইকাতিহী ওয়া কুতুবিহী ওয়া রুসুলিহী। লা-নুফাররিকু বাইনা আহাদিম মির রুসুলিহী। ওয়া কা-লূ সামি-না ওয়া আতা-না গুফরা-নাকা রাব্বানা ওয়া ইলাইকাল মাছীর। 

২.২৮৬। লা-ইউকাল্লি ফুল্লা-হু নাফসান ইল্লা-উছ-আহা। লাহা মা-কাসাবাত ওয়া আলাইহা মাকতাসাবাত। রাব্বানা লা-তু-আখিযনা ইন্নাসীনা-আও আখতানা। রাব্বানা ওয়ালা তাহমিল আলাইনা ইছরান কামা হামালতাহূ আলাল্লাযীনা মিন কাবলিনা। রাব্বানা ওয়ালা তুহাম্মিলনা মা-লা-তা কাতালানা বিহী ওয়াফু আন্না ওয়াগফিরলানা ওয়ারহামনা আনতা মাওলানা ফানসুরনা আলাল কাওমিল কাফিরীন।

 - যে ব্যক্তি এই ২ আয়াত পড়বে তা তার ওই রাতের সবকিছুর জন্য যথেষ্ট হবে। 

 

৩৩ বার সুবহানাল্লাহ, ৩৩ বার আলহামদুলিল্লাহ, ৩৪ বার আল্লাহু আকবার।

- যে ব্যক্তি শয্যা গ্রহণকালে উক্ত তাসবীহে ফাতিমী পড়বে, তার জন্য সকল আমল থেকে উত্তম হবে। 

- প্রত্যেক তাসবীহ, তাহমীদ ও আকবীর তার জন্য একটি করে সাদকাতুল্য হবে। (সহীহ মুসলিম)

 

(৩ বার) ইস্তেগফার

আস্তাগফিরুল্লা-হাল আযীম, আল্লাযী লা-ইলাহা ইল্লা হুয়াল হাইয়্যুল কাইয়্যুম ওয়া আতুবু ইলাইহী।

 

সূরা ১০২: তাকাসুর (১০০০ আয়াত পাঠের ছওয়াব পাবে)

১০২.১। আল-হা কুমুত-তাকাছুর। ১০২.২। হাত্তা-ঝুরতুমুল-মাকাবির। ১০২.৩। কাল্লা ছাউফা-তা’লামুন। ১০২.৪। ছুম্মা-কাল্লা ছাউফা-তা’লামুন। ১০২.৫। কাল্লা-লাও তা-লামুনা-ইলমাল-ইয়াকীন। ১০২.৬। লা-তারা-উন্নাল-জাহিম। ১০২.৭। ছুম্মা লাতারা-উন্নাহা-আইনাল-ইয়াকীন। ১০২.৮। ছুম্মা লাতুছ-আলুন্না-ইয়াও মা-ইযিন-আনিন না’ঈম।

 

(প্রত্যেক রাতে ১০ বার এবং জুমু'য়ার রাতে ১০০ বার)

আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা সাইয়্যিদিনা মুহাম্মাদিনিন নাবীয়্যীল উম্মাতিল হাবিবীল আলিয়্যিল কাদরীল আজীমিল জাহি ওয়া আলিহী ওয়া সাল্লাম।

- মৃত্যুর পর রসূলুল্লাহ (সা:) স্বয়ং পাঠকারীকে সমাহিত করবেন। (মাজমু'য়া, সাইয়্যেদ আহমাদ দাহলান)

 

ডান কাত হয়ে শোয়ার সময় পড়ার দোয়াঃ

আল্লাহুম্মা বিসমিকা আমুতু ওয়া আহহীয়া

অতঃপর ৩ বার পড়বে –

আল্লাহুম্মা কিনী আযাবাকা ইয়াওমা তাবআসু ইবাদাকা

অতঃপর সর্বশেষ নিচের দোয়াটি পড়ে ঘুমাবে –

রাসুলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন ঘুমানোর আগে এই দোয়া পড়বে -  (সহীহ বুখারী ৬৩১১)

আল্লাহুম্মা আসলামতু নাফসী ইলাইক, ওয়া ওয়াজ্জাহতু ওয়াজহী ইলাইক, ওয়া ফাও ওয়াদতু আমরি ইলাইক, ওয়া আলজা'তু জাহরি ইলাইক, রাগবাতান ওয়া রাহবাতান ইলাইক, লা-মালযা’আ ওয়ালা মানযা মিনকা ইল্লা ইলাইক, আমানতু বিকিতা বিকা আল্লাজি আনযালতা, ওয়া বিনা বি'ইকা আল্লাজী আরসালাত। 

হে আল্লাহ, আমি চেহারাকে (সমস্ত অংগ-প্রত্যংগকে) আপনার কাছে সমর্পন করলাম।  আর আমার সকল বিষয় আপনার কাছেই সমর্পণ  করলাম এবং আমার পৃষ্ঠদেশ আপনার আশ্রয়ে সোপর্দ করলাম। আমি আপনার গজবের ভয়ে ভীত এবং আপনার রহমতের আশায় আশান্বিত। আপনার নিকট ছাড়া আর কোনো আশ্রয়স্থল নেই এবং নেই মুক্তি পাওয়ার স্থান। আপনি যে কিতাব অবতীর্ণ করেছেন আমি তার উপর ঈমান এনেছি এবং আপনি যে নবি পাঠিয়েছেন আমি তার উপর ঈমান এনেছি।

- বিশ্ব নবী (সাঃ) বলেছেন এই দোয়া পড়ে যদি ওই রাতে কেউ মারা যায় তাহলে সে ইসলামের উপরই গণ্য যাবে। 

 

তাহাজ্জুদ আদায়ের উদ্দেশ্যে ঘুম থেকে উঠার জন্য -

আল্লাহুম্মা আইকিজনী ফি আহাব-বিচ্ছা আতী ইলাইকা ওয়াস তা’মিলনী বি আহাব্বিল আ’মালি লাদাইকাল্লাতি তুকাররি বুনি ইলাইকা জুলফা ওয়াতুব ইদুনি মিন সাখাতিকা বু’দান আস আলুকা ফাতু’তিনি ওয়া আস্তাগফিরুকা ফাতাগফিরুলি ওয়া আদুউকা ফাতাস্তা জিবুলি আল্লাহুম্মা লা তুয়াম্মিন্নী মাক্রাকা ওয়ালা তাওয়াল্লিন্নী গাাইরাকা ওয়ালা তারফা আন্নী ছিত্রাকা ওয়ালা তুনসিনী জিক্রাকা ওয়ালা তাজ’আলনি মিনাল গাফিলিন।

- পাঠকারীর জন্য আল্লাহ তায়ালা ৩ জন ফেরেশতা পাঠিয়ে দেন যারা তাকে সালাতের জন্য জাগিয়ে দেয়। যদি সে সালাত আদায় করে এবং দোয়া করে তাহলে তারা আমীন বলতে থাকে। আর যদি সে ঘুম থেকে না জাগে তাহলে ফেরেশতারা শূণ্যের মাঝে ইবাদত করে আর উহার ছাওয়াব পাঠকারীর আমলনামায় লিপিবদ্ধ করা হয়। (কুতুল কুলুব)

 

ঘুম থেকে) সজাগ হলে-

আলহামদুলিল্লা-হিল্লাজি আহ-ইয়ানা বা’দা মা আমাতানা ওয়া ইলাইহিন নুশুর।

সব প্রশংসা ওই আল্লাহর জন্য, যিনি মৃত্যুর পর আমাদের জীবন দান করেছেন এবং তার দিকেই আমাদের পুনরুত্থান।

 

ঘুম থেকে জেগে উঠার পর

১। الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَحْيَانَا بَعْدَ مَا أَمَاتَنَا وَإِلَيْهِ النُّشُور "‏‏

আলহামদু লিল্লা-হিল্লাযী আহ্ইয়া-না- বা’দা মা- আমা-তানা- ওয়া ইলাইহিন্ নুশূর৷

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি (নিদ্রারূপ) মৃত্যুর পর আমাদেরকে জীবিত করলেন, আর তারই নিকট সকলের পুনরুত্থান। [বুখারীঃ ৬৩১৪, (ই-ফা) ৫৮৭৫]

 

২।لَا إِلٰهَ إِلاَّ اللّٰهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيْكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ، وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيْرٌ، سُبْحَانَ اللّٰهِ، وَالْحَمْدُ لِلّٰهِ، وَلَا إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ، وَاللّٰهُ أَكْبَرُ، وَلَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللّٰهِ الْعَلِيِّ الْعَظِيْمِ، رَبِّ اغْفِرْ لِيْ

লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহূ লা-শারীকালাহূ, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু, ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন ক্বদীর। সুবহানাল্লাহি, ওয়াল হামদুলিল্লাহি, ওয়া লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু, ওয়াল্লাহু আকবার, ওয়া লা-হাওলা ওয়ালা কুওয়্যাতা ইল্লা বিল্লাহ। রাব্বিগফিরলি।

একমাত্র আল্লাহ ছাড়া কোনো হক্ব ইলাহ নেই, তাঁর কোনো শরীক নেই; রাজত্ব তাঁরই, প্রশংসাও তাঁরই; আর তিনি সকল কিছুর ওপর ক্ষমতাবান। আল্লাহ পবিত্র-মহান। সকল হামদ-প্রশংসা আল্লাহ্র। আল্লাহ ছাড়া কোনো হক্ব ইলাহ নেই। আল্লাহ সবচেয়ে বড়। সুউচ্চ সুমহান আল্লাহর সাহায্য ছাড়া (পাপ কাজ থেকে দূরে থাকার) কোনো উপায় এবং (সৎকাজ করার) কোনো শক্তি কারো নেই। হে রব্! আমাকে ক্ষমা করুন। হে আমার রব! আমাকে ক্ষমা করুন।

 

ফজিলতঃ

রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, “যদি কারো রাত্রে ঘুম ভেঙ্গে যায় অতঃপর সে উপরের তাসবীহ পাঠ করে এবং এরপর

-          যদি সে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চায় তাকে ক্ষমা করে দেওয়া হবে।

-          যদি কোনো দুআ করে বা কিছু চায় তবে তার দু‘আ কবুল করা হবে।

-          আর যদি সে এরপর উঠে ওযু করে (তাহাজ্জুদের) সালাত আদায় করে তাহলে তার সালাত কবুল করা হবে।”

(বুখারী: ফাতহুল বারী, ৩/৩৯, নং ১১৫৪ হাদীসের ভাষ্য ইবন মাজাহ এর অনুরূপ। সহীহ ইবন মাজাহ্‌: ২/৩৩৫)

 

৩। সুবহানাল্লাহী ওয়াল হামদুলিল্লাহী ওয়া লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার আস্তাগফিরুল্লাহা আল্লাহুম্মা ইন্নি আস’আলুকা মিন ফাদলিকা ওয়া রাহমাতিকা ফালিন্নাহুমা বিয়াদিকা ওয়ালা ইয়ামলিকুহুমা আহাদ ছিওয়াকা।

ফজিলতঃ

কোনও ব্যক্তি রাতে ঘুম থেকে জেগে উঠে উপরের তাসবীহ পাঠ করলে আল্লাহ তা’য়ালা বান্দাদের প্রয়োজন পূরণের দায়িত্বে নিয়োজিত হযরত জিব্রাঈল (আঃ)-কে বলেন, হে জীব্রাঈল! তুমি আমার বান্দার প্রয়োজন পূরণ করো। (নুযহাতুল মাজলিশ)

 

৪। লা-ইলাহা ইল্লা আন্তা রাব্বী জালামতু নাফসী ফাগফিরলী।

ফজিলতঃ

ঘুম থেকে জেগে উঠে উপরের তাসবীহ পাঠ করলে সে তার গুনাহগুলো থেকে ওইভাবে বের হয়ে যাবে যেভাবে সাপ তার খোলস থেকে বেরিয়ে যায়। (মুসান্নাফু ইবনে আবী শায়বা)

 ৫। 

আল্লাহুম্মা রাব্বা জিবরীলা ওয়া মিকাঈলা ওয়া ইসরাফিলা ফাতারাস সামাওয়াতি ওয়াল আরদ, আলিমাল গায়বী ওয়াশ শাহাদাতি আন্তা তাহকুমু বায়না ইবাদিকা ফি’মা কানু ফিহি ইয়াখতালিফুনা, আল্লাহুম্মাহ দীনি লিমাখ তুলিফা ফিহি মিনাল হাক্ক, ইন্নাকা তাহদী মান তাশাউ ইলা সিরাতিম মুসতাকিম।

হে আল্লাহ, জিব্রাইল, মিকাইল ও ইসরাফিলের প্রভু, আসমান ও যমীনের স্রষ্টা, অদৃশ্য ও দৃশ্যের জ্ঞানী, তুমি তোমার বান্দাদের মধ্যে সেই বিষয়ে ফয়সালা করে দাও যেখানে তারা মতভেদ করে। হে আল্লাহ, আমাকে সেই বিষয়ে সত্যের দিকে পরিচালিত করো যেখানে তারা মতভেদ করে। তুমি যাকে ইচ্ছা সরল পথে পরিচালিত করো।

  •  আয়েশা (রা.) বলেন রাসূল (সাঃ) যখন রাতে ঘুম থেকে জাগতেন তখন এই দোয়াটি পড়ে তাহাজ্জুদ শুরু করতেন [নাসায়ী-১৬২৫]

সূরা আল ইমরান: ২য় রুকুর প্রথম ৫ আয়াত ১৯০ – ১৯৪



শেষ রাতে ঘর থেকে মসজিদে চলার পথে পড়ার দোয়া

আল্লা-হুম্মাজ‘আল ফী ক্বালবী নূরান, ওয়া ফী লিসানী নূরান, ওয়া ফী সাময়্যি নূরান, ওয়া ফী বাসারী নূরান, ওয়া মিন ফাওকী নূরান, ওয়া মিন তাহ্‌তী নূরান, ওয়া আন ইয়ামীনী নূরান, ওয়া আন শিমালী নূরান, ওয়া মিন আমামী নূরান, ওয়া মিন খলফী নূরান, ওয়াজ‘আল ফী নাফ্‌সী নূরান। ওয়া আ‘যিম লি নুরান, ওয়া আয্‌যিম লী নূরান, ওয়াজ‘আল্ লী নূরান, ওয়াজ‘আলনী নূরান; আল্লা-হুম্মা আ‘তিনী নূরান, ওয়াজ‘আল ফী আসাবী নূরান, ওয়া ফী লাহ্‌মী নূরান, ওয়া ফী দামী নূরান, ওয়া ফী শা‘রী নূরান, ওয়া ফী বাশারী নূরান। (আল্লা-হুম্মাজ‘আল লী নূরান ফী কাবরী, ওয়া নূরান ফী ইজামি) (ওয়া যিদ্‌নী নূরান, ওয়া যিদনী নূরান, ওয়া যিদনী নুরান) (ওয়া হাবলি নুরান ‘আলা নুর)

 

মসজিদে প্রবেশের সময় দোয়াঃ

আউজুবিল্লাহিল আজিম - ওয়া বিওয়াজহিহীল কারীম - ওয়া সুলতানিহীল কাদীম - মিনাশ শায়তানির রাজীম।

- পাঠকারীর সংগে থাকা শয়তান বলে, "এ ব্যক্তি আমার থেকে নিরাপদ হয়ে গেল।" (বুসতানুল ওয়ায়েজিন)

এরপর পড়তে হবে –

আল্লাহুম্মাফ তাহলি আবওয়াবা রাহমাতিকা।

 অথবা,

বিসমিল্লাহি ওয়াস-সালাতু ওয়াস-সালামু আলা ইয়া রাসুলিল্লাহ। আল্লাহুম্মাগফিরলি জুনুবি ওয়াফতালি—আবওয়াবা রাহমাতিকা।

 

মসজিদ থেকে বের হবার সময় পড়ার দোয়া

১। আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিন ইবলিসা ওয়া জুনুদিহি।

২। বিসমিল্লাহি ওয়াস-সালাতু ওয়াস-সালামু আলা ইয়া রাসুলিল্লাহ। আল্লাহুমা ইন্নি-- আস'আলুকা মিন ফাদলিক। আল্লাহুম্মাছ ছিবনী মিনাশ-শায়তানির রাজীম।



Post a Comment